• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • ওষুধের চেয়েও বেশি করে করোনাকালে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে পোষ্যের স্পর্শ, দাবি নয়া সমীক্ষার!

ওষুধের চেয়েও বেশি করে করোনাকালে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে পোষ্যের স্পর্শ, দাবি নয়া সমীক্ষার!

Photo Source: Instagram

Photo Source: Instagram

এই সময়ে কোনও মানুষের সাহচর্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে তারা। তাদের আদর, ভালোবাসার জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ববিধি (Social Distancing) মেনে চলার কারণে পরস্পরের থেকে সামাজিক দূরত্বেও থাকতে হয়েছে আমাদের সবাইকে। বিশেষ করে লকডাউনের (Lockdown) সময়ে সকলকেই বাড়িতে বন্দী থাকতে হয়েছে। এতে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচা গেছে ঠিকই, কিন্তু পাশাপাশি মানুষের আনুষঙ্গিক একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা একা থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয়েছে আরও বেশি। অবসাদ (Depression), হাইপার টেনশন (Hyper Tension), কারও সঙ্গে কথা না বলতে পারায় অ্যাংজাইটি (Anxiety)- এরকম অজস্র সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সারা বিশ্ব জুড়ে অনেক মানুষজন। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, যাঁদের বাড়িতে পোষ্য (Pets) ছিল, তাঁদের এই সমস্যা হয়েছে অনেকটাই কম। এই সময়ে কোনও মানুষের সাহচর্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে তারা। তাদের আদর, ভালোবাসার জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

জার্নাল অফ বিহেভিয়ারাল ইকোনমিকস ফর পলিসি (Journal of Behavioural Economics for Policy)-তে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা তাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, যখন মানুষের সঙ্গে মানুষের শারীরিক ভাবে কোনও যোগাযোগ থাকে না, তখন কী ভাবে পোষ্যরা তাদের ভালো রাখতে নিজেদের ভূমিকা পালন করে!

গবেষকরা বলছেন, ফিজিকাল টাচ (Physical Touch) নিয়ে করোনার (Covid 19) আগে তেমন মাথাব্যথা ছিল না কারও। কিন্তু করোনা বুঝিয়েছে ফিজিকাল টাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একজনের ভালো থাকার ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেট ইয়ংয়ের জানান, বাড়িতে পোষ্য রাখার বিষয়টি লকডাউনের পর থেকে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। প্রচুর মানুষ লকডাউনের পর পোষ্য নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এবং এটা শুধু কোনও একটি বিশেষ দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বেশিরভাগ দেশেই এই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। এমনকি যাঁরা পোষ্য দেওয়া-নেওয়ার কাজ করেন, তাঁরাও ক্রমবর্ধমান ক্লায়েন্টের চাহিদা সামাল দিতে পারেনি অনেক ক্ষেত্রেই!

সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষের কাছে এক বা তারও বেশি পোষ্য রয়েছে। এবং কারও স্পর্শে থাকা, কাউকে স্পর্শ করতে পারা এর নেপথ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জেনেট ইয়ংয়ের কথায়, মানুষ যখন নিজেকে ঘরবন্দী করে নেয়, আইসোলেটেড (Isolation) করে নেয়, সেই সময়ে পোষ্যেরা সঙ্গ দিয়ে, আদর দিয়ে তাদের সাহায্য করে।

স্পর্শ ঠিক কেন দরকার, কী ভাবে কাজে লাগে, এ সব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও এটা প্রমাণিত যে বিকাশের জন্য বা বৃদ্ধির জন্য মানুষের পারস্পরিক স্পর্শের প্রয়োজন। কারও স্পর্শ পেলে শরীরের কর্টিসল হরমোন (Hormone Cortisol) নিঃসরণ হয়। যার ফলে কমে মানসিক চাপ কমে যায়, সুস্থ থাকে শরীর।

বিষয়টির উপরে সমীক্ষা করতে একবার ৩২ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। যাতে ৯০ শতাংশ মানুষই স্বীকার করেন যে পোষ্যকে স্পর্শ করা, তাদের সঙ্গে থাকা- এই দুই তাঁদের ভালো রাখে, শারীরিক ভাবে রিল্যাক্সড ফিল করায়!

অন্য দিকে, পোষ্যদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কুকুর বা বিড়াল যদি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থ থাকে, তাদের যদি মানুষের সংস্পর্শে রাখা যায়, আদর দেওয়া যায়, তা হলে তারাও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে দ্রুত। আর শুধু কুকুর, বিড়াল বা পাখিই নয়, যে কোনও পশুদের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে!

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: