corona virus btn
corona virus btn
Loading

মিরাকেল! ১৬ দিন বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন, প্যারালাইসড করোনা আক্রান্তকে জীবন দিল কলকাতার হাসপাতাল

মিরাকেল! ১৬ দিন বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন, প্যারালাইসড করোনা আক্রান্তকে জীবন দিল কলকাতার হাসপাতাল

উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে নবজীবন দিল কলকাতার হাসপাতাল।

  • Share this:

#কলকাতা: ১৬ দিন বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে নবজীবন দিল কলকাতার হাসপাতাল।  

জলপাইগুড়ির বাসিন্দা প্রসিত ভৌমিক (৪২)। ২ জুন পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাথায় সেলাই করেই ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যন্ত্রণা কমেনি। ফলে পরিবারের তরফে ফের তাঁকে এলাকার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় সিটি স্ক্যান করার জন্য। দেখা যায়, ঘাড়ের হাড় ভেঙে গুড়িয়ে গিয়েছে প্রসিতের। এমনকি তার একটা টুকরো শিরদাঁড়ার ভিতরে আটকে রয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে গলা থেকে শরীরের নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে গিয়েছিল।

উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবার তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। এরপর সেখান থেকে আরেকটি নামজাদা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানকার নিউরো সার্জন দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। নিয়মমতো অস্ত্রোপচারের আগে করোনা পরীক্ষা করলে দেখা যায় রিপোর্ট পজেটিভ। ফলে স্থগিত হয়ে যায় অস্ত্রোপচার। বারে বারে পরীক্ষার পর ১৩ জুন করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু তারপরে আর শিলিগুড়ির কোনও হাসপাতাল অস্ত্রোপচার করতে রাজি হয়নি।

হার মানেনি পরিবার। ৬০/৪০ রক্তচাপ থাকা সত্ত্বেও ওষুধ দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিলিগুড়ি থেকে সোজা কলকাতা নিয়ে আসা হয় প্রসিতকে। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি নিতেই রাজি হয়নি। এরপর ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্রমশ আবস্থার অবনতি হচ্ছে তখন। চূড়ান্ত শ্বাসকষ্ট তার সঙ্গে গোটা শরীর অবশ। সেই অবস্থাতেও নিউরো সার্জেন্ নিরূপ দত্ত ও তার টিম ১৮ জুন সাড়ে সাত ঘন্টার অত্যন্ত জটিল ও অস্ত্রোপচার করে গলার সামনের দিক কেটে হাড়ের ভাঙ্গা অংশ বার করে আবার স্ক্রু দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দেন।

নিউরো সার্জেন নিরূপ দত্ত জানান, ১৬ দিন কোন রকম চিকিৎসা না হওয়ায় অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাও অস্ত্রপ্রচারের পরে আপাতত শরীরের উপরের অংশে সাড় ফিরেছে। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে আরো বহুদিন তাঁকে চিকিৎসাধীন থাকতে হবে।  তারপরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে প্রসিত।

এদিকে, প্রসিতের সুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না ভৌমিক পরিবারের। করোনা আক্রান্ত হওয়ার জন্য চেনা হাসপাতাল, নার্সিংহোম যেভাবে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে, দিনের পর দিন যেভাবে বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন, তাতে আশা একপ্রকার ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু কলকাতার অকুতোভয় চিকিৎসকরা করোনা আতঙ্ককে দূরে সরিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যেভাবে বছর বিয়াল্লিশের ব্যক্তিকে নবজন্ম দিয়েছেন, তাতে  আপ্লুত উত্তরবঙ্গের পরিবার।

ABHIJIT CHANDA

Published by: Shubhagata Dey
First published: July 11, 2020, 6:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर