West Bengal Assembly Election 2021: শেষ তিন দফার ভোটে বড় জমায়েত নয়, করোনার বাড়বাড়ন্তে বড় সিদ্ধান্ত সিপিএমের

দলের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মহম্মদ সেলিম৷ Photo-File

গোটা দেশ এবং রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি হওয়ায় কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন সিপিএম নেতা৷

  • Share this:

#কলকাতা: রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার হু হু করে বাড়তে থাকায় বেনজির সিদ্ধান্ত নিল সিপিএম (CPIM)৷ দলের তরফে এদিন মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, আগামী তিন দফার নির্বাচনে ভিড় এড়াতে আর বড় কোনও সমাবেশ বা জমায়েত করবে না দল৷ বরং মানুষকে সচেতন করার উপরেই বেশি জোর দেওয়া হবে৷

রাজ্যে এবার আট দফায় নির্বাচন৷ তার মধ্যে চার দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে৷ পঞ্চম দফার ভোট আগামী ১৭ এপ্রিল৷ এ দিন বিকেলেই পঞ্চাম দফার প্রচারও শেষ হয়েছে৷ এর পরের তিন দফায় যে কেন্দ্রগুলিতে নির্বাচন রয়েছে, সেখানে তাই আর বড়সড় জমায়েতে পথে হাঁটবে না সিপিএম৷ এ দিন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সংযুক্ত মোর্চার বাকি শরিক দলগুলিকেও বাকি তিন দফায় বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার জন্য সিপিএমের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে৷

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এ দিন বলেন, 'চারটি পর্যায়ে ভোট হয়েছে, পঞ্চম পর্যায়ের প্রচারও শেষ লগ্নে৷ বাকি তিনটি দফায় বড় ভিড়, হইচই পাকানোয় না গিয়ে মানুষকে সচেতন করা, নির্বাচন কর্মীদের সচেতন করার উপরেই আমরা জোর দেব৷ পাশাপাশি যে কেন্দ্রগুলিতে ভোট হয়েছে বা হয়নি, সেখানে গত এক বছরের মতো এখনও বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে আক্রান্ত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব আমরা৷ কারণ সরকার উদাসীন থাকলেও মানুষ উদাসীন থাকতে পারে না৷' দলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জনসংযোগ বাড়িয়ে এবং ছোট সভার উপরে জোর দেওয়া হবে৷ পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াগুলির মাধ্যমেও প্রচার বাড়ানো হবে৷

গোটা দেশ এবং রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি হওয়ায় কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন সিপিএম নেতা৷ তাঁর অভিযোগ, ভোট প্রচারে কোনও ভাবেই লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলছেন না প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী৷

এর পাশাপাশি সিপিএমের তরফে এ দিন দাবি করা হয়েছে, বাকি চার দফার ভোটেই যাতে ৮০ উপরে প্রবীণ নাগরিকরা এবং শারীরিক ভাবে অক্ষম ভোটাররা বাড়িতে বসেই ভোট দিতে পারেন, তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে৷ এমন কোনও ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, তার জন্য নির্ভুল তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম৷ পাশাপাশি পরিবহণ কর্মী সহ চুক্তির ভিত্তিতে যাঁরা নির্বাচনের কাজে অংশ নেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন সিপিএম নেতা৷

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়তে থাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা এবং রায়দিঘির প্রার্থী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়৷ তার পরই এ দিন সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বড় জমায়েত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কয়েকদিন আগেও ভোট প্রচারে কড়া বিধিনিষেধ মানার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু অধিকাংশ দল বা প্রার্থীই তা মানছেন না বলে অভিযোগ৷ বড় বড় জমায়েতে মাস্ক ছাড়াই ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ৷ সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে সিপিএম-এর এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী৷

Ujjal Roy

Published by:Debamoy Ghosh
First published: