Covid 19 Vaccine: বাচ্চাদের ঠিক কোন সময়ে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত? জানুন

Covid 19 Vaccine: বাচ্চাদের ঠিক কোন সময়ে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত? জানুন

বাচ্চাদের ঠিক কোন সময়ে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত? জেনে নিন বিশদে!

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কতটা সুরক্ষিত, সেই নিয়ে অনেকের মনেই দ্বন্দ্ব রয়েছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দেশে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত ২ দিনে ১ লক্ষ ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। আমাদের দেশ ছাড়াও সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশে। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের মতো সংক্রমণ দ্রুত বাড়বে না বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক সকলে। কারণ করোনা ভ্যাকসিন অনেক দেশেই দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে বয়স্ক ও কোমর্বিডিটি আছে এমন মানুষজনদের আগ্রাধিকার দেওয়া হলেও অন্যান্য দেশে বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই এই ভ্যাকসিন পেতে পারে। কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কতটা সুরক্ষিত, সেই নিয়ে অনেকের মনেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার ফলে বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু এসবের আগে ভ্যাকসিন বাচ্চাদের দেওয়া উচিত কি না সে বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এর জন্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কি আদৌ প্রয়োজন রয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ সকলেই বলছেন, বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁদের কথায়, বেশিরভাগ সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে, বাচ্চাদের শরীরে করোনা তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু তার মানে এটা নয়, করোনায় সংক্রমিত হতে পারে না তারা। তাদের যেমন করোনা হতেও পারে, তেমনই তাদের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়াতেও পারে। ফলে ভ্যাকসিন নেওয়া বাচ্চাদেরও দরকার।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১২ বছরের নিচে থাকা বাচ্চাদের থেকে বয়ঃসন্ধিতে থাকা বাচ্চাদের করোনা সংক্রমণ বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বয়ঃসন্ধিতে থাকা বাচ্চাদের থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণের পরিমাণ বেশি দেখা গিয়েছে। এর কারণ এখনও বিশেষজ্ঞরা খুঁজলেও, অনেকেই বলছেন, সামাজিক ক্ষেত্রে বাচ্চাদের মেলামেশা কম, তাই দূরত্ব বেশি থাকে। ফলে সংক্রমণের মাত্রা কম। যেহেতু প্রাপ্তবয়স্কদের মেলামেশার পরিমাণ বেশি, তাই হয় তো তাদের মধ্যে সংক্রমণের পরিমাণও বেশি।

এছাড়া অনেক সমীক্ষা আবার বলছে, ১০ -১২ বছর বয়সের নিচে থাকা বাচ্চাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, পাশাপাশি তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি প্রস্তুত করার মাত্রাও বেশি। ফলে করোনা সে ভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে না এবং একই সঙ্গে করোনা করোনা সংক্রমণও কম হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটাও একই সঙ্গে মাথায় রাখা দরকার, আমেরিকায় কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২২৬ জন বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে।

বাচ্চারা কি ভাইরাস ছড়াতে পারে?

অনেক জায়গাতেই স্কুল খুলেছে। ফলে বাচ্চাদের দ্বারা করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু প্রত্যেকটি দেশের প্রত্যেকটি স্কুলে বাচ্চাদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই সে ভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে না।

তবে, এই নিয়ম যদি কোনও বাচ্চা না মানে, তাহলে তার থেকে বড়দের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই প্রত্যেকটি স্কুলকে করোনা নিয়মাবলী খুব কঠোর ভাবে মানতে হবে।

বাচ্চারা কখন ভ্যাকসিন নিতে পারে?

আমেরিকায় এখন শুধুমাত্র Pfizer ভ্যাকসিনই রয়েছে। যা দেওয়া হচ্ছে ১৬ বছরের উপরে বাচ্চাদের। তার নিচে থাকা বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দিতে গেলে নিশ্চয়ই একাধিক ট্রায়ালের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

তবে, বাচ্চাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে Pfizer ও Moderna-র তরফে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাদের তথ্য বলছে, আশা করা যাচ্ছে পরীক্ষার রিপোর্ট আর কয়েক দিনের মধ্যেই হাতে চলে আসবে। তার পরই ১২ বছরের নিচে বাচ্চাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

বাচ্চাদের যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তা কতটা আলাদা হবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, সেই একই পরিমাণ উপকরণ বাচ্চাদের ভ্যাকসিনেও থাকবে। কিন্তু পার্থক্য হল, বাচ্চাদের হয় তো আলাদা ডোজ দেওয়া হবে। আর সেটাই প্রথমে দেখতে হবে যে বাচ্চাদের কোন ডোজটা দেওয়া উচিত। দুই সংস্থাই চেষ্টা করছে, সব চেয়ে কম ডোজটাই বাচ্চাদের দিতে।

এবার যখনই সংস্থা ডোজটা ঠিক করে ফেলবে তখনই তা বাচ্চাদের দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই বাচ্চাদের জন্য একটি সুরক্ষিত করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আসবে।

কী ভাবে বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের সাবধানে রাখবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাচ্চাদের জন্য খেলাধূলা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটা তাদের জীবনের একটা অঙ্গ। ফলে খেলা বন্ধ করলে চলবে না। বাড়িতে মাস্ক না পরে খেলার চেয়ে বাইরে মাস্ক পরে করোনা নিয়মাবলী মেনে খেলা ভালো। তবে, বাচ্চাদের সেই নিয়মের সঙ্গে আগে অভ্যস্ত করাতে হবে। যেহেতু গরম পড়ছে, তাই বাইরে খেলা যেতেই পারে।

Published by:Raima Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর