corona virus btn
corona virus btn
Loading

মায়ের খাবার কিনতে চুরি করল কিশোর, শাস্তির বদলে বাঁচার পথ দেখাল আদালত

মায়ের খাবার কিনতে চুরি করল কিশোর, শাস্তির বদলে বাঁচার পথ দেখাল আদালত
প্রতীকী চিত্র৷ PHOTO- FILE
  • Share this:

#বিহার: চুরির অভিযোগে আদালতে তোলা হয়েছিল ১৬ বছরের নাবালককে৷ কিন্তু তাকে শাস্তি দেওয়া দূরে থাক, উল্টে পুলিশকে ওই নাবালককে খাবার এবং পোশাক কিনে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারক৷ এমনই মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নালন্দার একটি আদালত৷

আসলে আদালতে ওই নাবালককে তোলার পর বিচারক জানতে পারেন, নিজের বিধবা এবং মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের জন্য খাবার সংগ্রহ করতেই বাধ্য হয়ে চুরি করেছিল সে৷ কারণ লকডাউনের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে তার মা অভুক্ত ছিলেন৷

শুধু ওই নাবালকের জন্য খাবার এবং জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করাই নয়, ওই কিশোরের মা যাতে রাজ্য সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিধবা ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করার জন্য বিডিও-কে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক৷ এর পাশাপাশি ওই কিশোরের পরিবারকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য এবং কিশোরের আধার কার্ড ও পরিবারের সবার রেশন কার্ড তৈরি করে দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেয় আদালত৷

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে একটি বাজারের মধ্যে থেকে এক মহিলার পার্স ছিনতাই করেছিল ওই কিশোর৷ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে গ্রেফতার করে ইসলামপুর থানার পুলিশ৷ এর পর তাকে বিহারশরিফে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়৷

ওই কিশোর বিচারককে জানায়, বাড়িতে মানসিক ভারসাম্যহীন মা ছাডাও ১৩ বছরের ভাই রয়েছে তার৷ বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় খাবারের দোকান এবং বাড়িতে কাজ করে পরিবারের অন্ন সংস্থান করত সে৷ কিন্তু লকডাউনের কারণে তার আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়৷ বাড়িতেও খাবার ছিল না৷ ফলে ওই কিশোর এবং তার মা ও ভাই অভুক্তই ছিল৷ কিশোরের দাবি, খাবার কেনার জন্য টাকা জোগাড় করতেই বাধ্য হয়ে চুরি করেছে সে৷

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই কিশোরকে খাবার এবং পোশাক দেওয়া হয়েছে৷ বাকি নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের থেকে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত৷

আদালতের এক কর্মী জানান, ছোটখাটো অপরাধে অভিযুক্ত নাবালকদের সংশোধনের সুযোগ দিতেই এমন পদক্ষেপ করেছে আদালত৷ এই ধরনের অপরাধের জন্য তাদের যদি আবাসিক হোমে পাঠানো হয়, তাহলে খারাপ সঙ্গে পড়ে এই নাবালকদের মধ্য অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে৷

First published: April 19, 2020, 5:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर