corona virus btn
corona virus btn
Loading

আদিবাসীদের নিজস্ব ‘‌সাদরি’‌ ভাষায় করোনা নিয়ে সচেতন করে তুলছেন নন্দী দম্পতি

আদিবাসীদের নিজস্ব ‘‌সাদরি’‌ ভাষায় করোনা নিয়ে সচেতন করে তুলছেন নন্দী দম্পতি

এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ৪টি চা বাগানের ৪৫০ জন আদিবাসী পরিবারের কাছে পৌঁছেছেন নন্দী দম্পতি।

  • Share this:

#‌শিলিগুড়ি:‌ উত্তরবঙ্গের একটা বড় অংশ চা বাগান অধ্যুষিত। আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। শিক্ষার আলো পৌঁছয়নি ঘরে ঘরে। ওঁরা চা শ্রমিক। করোনা, লকডাউন ধীরে ধীরে বুঝতে শিখেছে ওঁরাও। করোনা মোকাবিলায় লকডাউন চালু হওয়ায় শুরুর দিকে বন্ধ হয়ে যায় চা বাগানও। তারপর শর্তসাপেক্ষে খোলে চা বাগান। ফের তোলা হয় দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি! প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে শুরু হয় পাতা তোলার কাজ। দ্বিতীয় দফায় ৫০ শতাংশ শ্রমিক যোগ দেন কাজে। তৃতীয় দফায় কাজে যোগ দেয় ১০০ শতাংশ শ্রমিক। অবশ্যই কোভিড গাইড লাইন মেনে।

শ্রমিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশু, কিশোর, তরুণীরাও লকডাউনে আটকে পড়েছে। এখনও খোলেনি স্কুল, কলেজ। কোভিড ১৯ কি? এর হাত থেকে বাঁচতে বা নিজেকে সতর্ক রাখতে কি কি করণীয়? নিজের পাশাপাশি পাশের মহল্লার লোককেই বা কিভাবে করোনা থেকে বাঁচাতে হবে? এনিয়ে সচেতনতা প্রচারে নেমেছেন শিলিগুড়ির এক দম্পতি। ওঁদের সংগঠনের নাম, ‘‌লিভ লাইফ হ্যাপিলি অর্গানাইজেশন’‌। অর্থাৎ, ভালোভাবে জীবন চালিয়ে যেতে হবে।

শিলিগুড়ির অনির্বান নন্দী ও তাঁর স্ত্রী পৌলমী চাকি নন্দী নেমেছেন এই কাজে। চা শ্রমিক পরিবারের মধ্যে মারণ করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা প্রচারে। এক্কেবারে ওদের ভাষায়। সহজ, সরলভাবে। আদিবাসীদের নিজস্ব সাদরি ভাষায় চলছে সচেতনতা। এতে ওরাও বুঝছে সাবলীলভাবে। যা নিয়ে উত্তরবঙ্গে অন্য কোনও সংগঠন এগিয়ে আসেনি। সেই অভিনব পথেই হাঁটছেন নন্দী দম্পতি। উত্তরের এক চা মহল্লা থেকে অন্য চা বলয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। কেন মাস্ক পড়তে হবে? নিয়মিত সাবান জল দিয়ে হাত ধুতে হবেই না বা কেন? সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংই বা কি উপায়ে মানবেন? সবই চা শ্রমিক পরিবারকে বোঝানো হচ্ছে ওদের প্রিয় ভাষা সাদরিতে। শুধু তাই নয়, আদিবাসী তরুণীদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার নিয়েও বোঝানো হচ্ছে। এখনও আদিবাসী এলাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার তুলনায় কম। বোঝানোর পাশাপাশি বিলি করা হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিনও।

এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ৪টি চা বাগানের ৪৫০ জন আদিবাসী পরিবারের কাছে পৌঁছেছেন নন্দী দম্পতি। সংগঠনের সদস্যা পৌলমী চাকি নন্দী জানান, ‘‌ক্রমেই উত্তরবঙ্গে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ নিয়েই আমরা পৌঁছেছি ওদের মহল্লায়। আগামীদিনে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি মিলিয়ে ১৫টি চা বাগানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে।’‌

Partha Sarkar

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: June 25, 2020, 8:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर