corona virus btn
corona virus btn
Loading

দু' মাসেও শেষ হল না মধুচন্দ্রিমা! হনিমুনে ফেঁসে গিয়ে বিপাকে নবদম্পতি

দু' মাসেও শেষ হল না মধুচন্দ্রিমা! হনিমুনে ফেঁসে গিয়ে বিপাকে নবদম্পতি
পেরি আবউজেইদ ও খালেদ মোখতার৷ PHOTO- FACEBOOK

দু' মাস ধরে চলা এই মধুচন্দ্রিমার কাহিনি শুনতে রোম্যান্টিক লাগলেও বাস্তবটা যে কতটা কঠিন, এই দম্পতি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন৷

  • Share this:

#মলদ্বীপ: আদতে মিশরের নাগরিক৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা দুবাইয়ের বাসিন্দা৷ বিয়ের পর সংসার শুরু করার জন্য দুবাইয়ে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট কিনে মনের মতো করে তা সাজিয়েওছিলেন৷ পরিকল্পনা ছিল, মধুচন্দ্রিমা সেরে এসে দু'জনে সেখানেই উঠবেন৷ কিন্তু কে জানত, দু'মাস পেরিয়ে গেলেও সেই মধুচন্দ্রিমা শেষ হবে না!

মেক্সিকোয় মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়ে এমনই বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে খালেদ মোখতার এবং পেরি আবুজেইদ-এর৷ মেক্সিকোয় হানিমুন সারতে গিয়ে তাঁরা এখন আটকে রয়েছেন মলদ্বীপের একটি রিসর্টে৷ কবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, সেই উত্তর নেই নবদম্পতির কাছেও৷

গত ৬ মার্চ মিশরের রাজধানী কায়রোতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ওই যুগল৷ এর পর মধুচন্দ্রিমা সারতে তাঁরা উড়ে যান মেক্সিকোর ক্যানকান-এ৷ এর পর মধুচন্দ্রিমা সেরে গত ১৯ মে তাঁরা তুরস্কের বিমান ধরেন৷ সেখান থেকেই বাহরিন হয়ে দুবাইয়ের বিমান ধরার কথা ছিল৷

এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল৷ গোল বাঁধল ওই দম্পতি তুরস্কে পৌঁছনোর পর৷ বিমানে থাকাকালীনই মোখতার জানতে পারেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসন৷ ফলে তাঁরা হয়তো নিজেদের দেশে ঢুকতেই পারবেন না৷

তুরস্কে পৌঁছতেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হন ওই নবদম্পতি৷ এমনকী, তাঁদের দুবাইগামী বিমানে ওঠা আটকাতে বোর্ডিং পাস এবং সমস্ত মালপত্রও আটকে রাখা হয়৷ পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে তুরস্কে কিছু কিনে সামর্থ্যও তাঁদের কাছে ছিল না৷ ওই দম্পতির নিজেদের দেশে ফেরারও উপায় ছিল না, কারণ ততক্ষণে মিশরও বিমান ওঠানামা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সব সীমান্তও৷

এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা ওই নবদম্পতি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বিদেশিদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে মলদ্বীপ৷ সেদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরে মলদ্বীপেই উড়ে যান ওই দম্পতি৷ শুরু হয় তাঁদের অভিনব মধুচন্দ্রিমার দ্বিতীয় দফা৷

ওই নবদম্পতি ২৭ মার্চ মলদ্বীপে পৌঁছনোর পর করোনা সংক্রমণ রুখতে সেখানেও শুরু হয় কড়াকড়ি৷ দেশ ছেড়ে ঢোকা বেরনোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷ বন্ধ হয়ে যায় সব উড়ান, সিল করে দেওয়া হয় দেশের সীমান্ত৷ এমনকী, ওই দম্পতি যে রিসর্টে উঠেছিলেন, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷

আশ্রয় নিতে ওই নবদম্পতি আরও একটি রিসর্টে গিয়ে ওঠেন৷ কিন্তু সমস্ত বুকিং বাতিল হওয়ায় সেটিও দিন কয়েকের মধ্য বন্ধ হয়ে যায়৷ শেষ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি রিসর্টে তৈরি করা আইসোলেশন সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা হয় ওই দম্পতির৷ সেখানে আরও ৬০ থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন৷

গোটা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার মতো ভাষা নেই ওই দম্পতির কাছে৷ বিবিসি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে খালেদ মোখতার বলেন, 'অন্তত সঠিক মানুষের সঙ্গেই ফেঁসে গিয়েছি৷ এই পরিস্থিতিতে এটাই হয়তো একমাত্র ঠিকঠাক হয়েছে৷'

যে আইসোলেশন সেন্টারে ওই দম্পতি রয়েছেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গে ইতালি, মরক্কো, ইংল্যান্ডের বহু নাগরিক রয়েছেন যাঁরা দুবাইয়ের বাসিন্দা৷ ফলে সেখানে ফেরার জন্য অপেক্ষা করে আছেন৷ মোখতারের কথায়, 'এখানে আমাদের ভাল রাখার সবরকম চেষ্টাই করা হচ্ছে৷ প্রতিদিন আমাদের মন ভাল রাখতে গান বাজানো হয়, ডিজে চালানো হয়, কিন্তু দুঃখের বিষয়ে হল এক একদিন কারওরই নাচার আগ্রহ থাকে না৷'

দু'মাস ধরে চলা এই মধুচন্দ্রিমার কাহিনি শুনতে রোম্যান্টিক লাগলেও বাস্তবটা যে কতটা কঠিন, এই দম্পতি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন৷ দু' সপ্তাহের পরিকল্পনা করে বেরিয়ে এখন এতদিন বাইরে থাকায় তাঁদের বাজেটেও টান পড়ছে৷ পাশাপাশি, নিজেদের কর্মস্থলের সঙ্গে তাঁরা ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছেন না৷ মোখতারের কথায়, তাঁদের ঘরবাড়ি, কাজ, স্বাস্থ্য বিমা সবকিছুই দুবাইতে রয়েছে৷ দুবাইয়ের যে বাসিন্দারা ফিরতে চান, তাঁদের ১ জুন থেকে ফেরানোর জন্য বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা করেছে আমিরশাহী প্রশাসন৷ সেখানে আবেদন জানালেও এখনও কোনও উত্তর আসেনি৷

মোখতারের স্ত্রী পেরি আবউজেইদ-এর কথায়, 'সবথেকে কঠিন হচ্ছে এই অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করা৷ কবে যে এই পরিস্থিতির শেষ হবে, তা কেউ জানে না৷'

আপাতত দুবাইতে নিজেদের চেনা জগতে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন ওই নবদম্পতি৷ নিজেদের নতুন সাজানো অ্যাপার্টমেন্টের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে ফিরতে চান তাঁরা৷ যে মধুচন্দ্রিমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন, তা যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক, সেই প্রার্থনাই করছেন মোখতার এবং পেরি৷ তবে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে এতটা সময় থাকতে পারাটাই যে গোটা ঘটনায় সবথেকে মিষ্টি ব্যাপার, বার বার তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন মোখতার৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: May 25, 2020, 2:47 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर