corona virus btn
corona virus btn
Loading

একমাস ধরে সমুদ্রে, করোনা মহামারির কথা জানতেই পারনেনি এই দম্পতি

একমাস ধরে সমুদ্রে, করোনা মহামারির কথা জানতেই পারনেনি এই দম্পতি
সেই দম্পতি৷PHOTO- FACEBOOK

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে নিজেদের চাকরি ছেড়ে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে একটি নৌকা কেনেন ওই দম্পতি৷

  • Share this:
 

#সেন্ট ভিনসেন্ট: গত প্রায় দু' মাস ধরে করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব৷ করোনা বিপদ নিয়ে অবহিত নন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ কিন্তু এমন এক দম্পতির খোঁজ মিলল, যাঁরা একমাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি৷ কারণ সেই গোটা সময়টাই মাঝসমু্দ্রে ছিলেন ওই দম্পতি৷ সমুদ্র থেকে স্থলভূমিতে পা দেওয়ার পরই করোনার ভয়াবহতার আঁচ পান তাঁরা৷

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ওই দম্পতির নাম এলিনা ম্যানিঘেটি এবং রায়ান ওসবোর্ন৷ ওই গোটা সময়টাই ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে অতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে তাঁরা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছিলেন৷ সেখানে পৌঁছনোর পরেই করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হন ওই দম্পতি৷

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে নিজেদের চাকরি ছেড়ে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে একটি নৌকা কেনেন ওই দম্পতি৷ নিজেদের পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখলেও কোনও খারাপ খবর দিতে বারণ করেছিলেন তাঁরা৷ ফলে তাঁদের কাছে করোনা সংক্রমণের কোনও খবরই গিয়ে পৌঁছয়নি৷ এর পর মার্চ মাসের মাঝামাঝি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট দ্বীপে নোঙর করতে গিয়েই তাঁরা জানতে পারেন, গোটা বিশ্ব করোনার কবলে চলে গিয়েছে৷ ফলে, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলিও তাঁদের সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে৷ একই কারণে সেই সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কয়েকহাজার পর্যটক সমুদ্রের মধ্যেই আটকে যান৷

যে ব্লগে ওই দম্পতি নিজেদের অভিযানের বর্ণনা তুলে ধরেন, সেখানে তাঁরা দাবি করেছেন, করোনার গ্রাসে যে গোটা বিশ্বে মহামারি ছড়িয়েছে এবং অধিকাংশ দেশই লকডাউনের পথে হেঁটেছে, অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে, এ বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না৷ বিবিসি-কে এলিনা জানান, 'ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা চিনে একটা ভাইরাসের কথা শুনেছিলাম৷ কিন্তু ভেবেছিলাম ২৫ দিন বাদে যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছব, ততদিনে এই সমস্যা মিটে যাবে৷' রায়ানের কথায়, 'আমরা যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছই, তখন দেখলাম ভাইরাস নির্মূল হওয়া দূরে থাক, তা গোটা বিশ্বে সংক্রমণ ছড়িয়েছে৷'

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করতে না পেরে ওই দম্পতি গ্রেনাডার দিকে নিজেদের জলযানটিকে ঘুরিয়ে নেন৷ সেখানে পৌঁছে ভাল ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার পরেই গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ পান তাঁরা৷

ওই দম্পতির এক বন্ধু সেন্ট ভিনসেন্টে থাকেন৷ সেখানে পৌঁছনোর আগে থেকে ওই দম্পতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ কিন্তু ওই বন্ধু জানিয়ে দেন, যেহেতু এলিনা ইতালির নাগরিক, তাই তাঁদের সেদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না৷

তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছে সৌভাগ্যক্রমে তা জিপিএসে সেভ করে রেখেছিলেন ওই দম্পতি৷ তাঁরা একমাসেরও বেশি সময় সমুদ্রে ছিলেন তা জানার পরই তাঁদের সেন্ট ভিনসেন্টে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়৷ আপাতত সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছেন ওই দম্পতি৷ তাঁদের আশা, জুন মাসে হারিকেন ঝড়ের মরশুম শুরু হওয়ার আগে তাঁরা হয়তো সেখান থেকে বের হতে পারবেন৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: April 22, 2020, 7:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर