করোনা ভাইরাস

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা সঙ্কটে কাউন্সিলর হলেন রাঁধুনি, নিজে হাতে রেঁধে বেড়ে খাবার তুলে দিলেন ওয়ার্ডের অভুক্তদের মুখে

করোনা সঙ্কটে কাউন্সিলর হলেন রাঁধুনি, নিজে হাতে রেঁধে বেড়ে খাবার তুলে দিলেন ওয়ার্ডের অভুক্তদের মুখে

রবিবারের মেন্যুতে ছিল ভাত আর চিকেন ঝোল। বাড়ি বাড়িখাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছেলেদের। গরিব, দুঃস্থ সবার জন্যই হেঁশেল চড়ছে রোজ।

  • Share this:

#কলকাতা: বিশ্বের কাছে সবথেকে বড় থ্রেট এখন করোনা। রোজই সংবাদমাধ্যমে সংখ্যা বাড়ার খবর। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা।  সভ্যতা রাতারাতি মাইক্রোস্কোপিক ভাইরাসের সামনে অসহায়, অবলা। করোনা কী শুধুই ভাঙছে, গড়ছে না কিছুই!  বিশ্ব অর্থনীতিতে কাঁপুনি ছড়িয়ে করোনা যদি হয় হতাশা ও ক্ষতি'র কারণ তবে তা আশারও। কারণ, করোনায় সামাজিক প্রশাসন দেখছে জনতা। পুর আইনের 'ওয়ার্ড' সংজ্ঞা'র আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে করোনা। এতদিন ওয়ার্ড মানে ছিলো কাউন্সিলর,  চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল বা মেয়র ইন কাউন্সিল। একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিবদ্ধ জনপদের স্থানীয় প্রশাসন। রাজনৈতিক দলের পরিচয় নিয়ে জিতে আসায় জন প্রতিনিধির সব কাজে রাজনীতি খোঁজাটাও যেন দস্তুর!

এই চেনা ফরম্যাট-টাই ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে করোনা। যত দিন গড়াচ্ছে 'ওয়ার্ড' বদলে যাচ্ছে পাড়ায়। কাউন্সিলর হয়ে উঠছেন রাঁধুনি,  দিদি আবার কখনও অন্নদাতা। দমদম পুরসভা'র ৩নং ওয়ার্ডের কথাই ধরা যাক। কাউন্সিলর পর্ণা দাস দিব্যি করোনা জুজু অজুহাতে ঠান্ডা ঘরে বসে সময়টা কাটিয়ে দিতে পারতেন। তা না করে তিনি যা করলেন, নিজের জায়গার ওপর বানিয়ে ফেললেন ৬টি উনুন। এলাকার মেয়েদের জড়ো করে বসে গেলেন সবজি কাটতে। খুন্তি নাড়ার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিলেন নিজেই। গ্যাসের রান্নায় খরচ বেশি তাই কাঠের জ্বালানি'র ব্যবহার। ছেলেদের দিয়ে বাজার করানো, এটা,  সেটা। ১২০ জনের মুখে খাবার তুলে দিয়ে শুরু। নতুন বাংলা বছরের প্রথম রবিবারে সংখ্যাটা ১০০০ ছাড়িয়েছে।

রবিবারের মেন্যুতে ছিলো ভাত আর চিকেন ঝোল। বাড়ি বাড়িখাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছেলেদের। বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকা হওয়ায় অনেকেই ভাড়ায় থাকেন। তাদের আবার অন্য সমস্যা, অর্থ আছে রান্নার অভ্যেস নেই। গরিব, দুঃস্থ সবার জন্যই হেঁশেল চড়ছে রোজ। প্রতিদিন সন্ধে'র মধ্যেই পরের দিনের তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। চটপট মেয়েরা বসে যাচ্ছেন সবজি কাটতে। এভাবে হেঁশেল কতদিন টানবেন?  সবজি কাটতে কাটতে পর্ণা দাসে'র উত্তর, "যতদিন পারবো। তবে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে সত্যি আনন্দ হচ্ছে।"নয়নাশিস, ভোলা'র মত যুবকদের সৌজন্যে পুরো ওয়ার্ড এখন পাড়ায় পরিণত হয়েছে।রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সামাজিক কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত এখন জন প্রতিনিধিরা। ডান, বাম, গেরুয়া সব দলের প্রতিনিধিদেরই সেখানে পাশে থাকার বার্তা। করোনা, সভ্যতা ভাঙছে যেমন গড়েও দিচ্ছে অনেককিছুই।

Arnab Hazra

Published by: Elina Datta
First published: April 20, 2020, 12:34 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर