Corona Eye Problem: করোনায় ফুলে উঠছে চোখ, হচ্ছে 'জয়বাংলাও'! আগে থেকেই সজাগ থাকুন, জেনে নিন বিশিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ

চোখে করোনার প্রভাব

ঘরবন্দি দশায় চোখের উপর বাড়ছে চাপও (Eye problem in lockdown) যা মারাত্মক আকারও নিতে পারে৷ কীভাবে চোখের খেয়াল (take care of eyes) রাখবেন? জানুন

  • Share this:

করোনার উপসর্গ হিসেবে (New COVID19 Symptoms) এখন শুধুই জ্বর, গা-হাত ব্যাথা বা নিঃশ্বাসের সমস্যা নয়৷ এর সঙ্গে জুড়েছে নানাবিধ চোখের সমস্যা (Corona Eye Problem)৷ সচেতন থাকুন৷ হাল্কা চোখ ফুলে গেলে বা লাল হলে খেয়াল নিন৷ হতেই পারে এটাই করোনার প্রথম উপসর্গ৷ এছাড়া ঘরবন্দি দশায় চোখের উপর বাড়ছে চাপ যা মারাত্মক আকারও নিতে পারে (Eye Problem)৷ কীভাবে চোখের খেয়াল রাখবেন, জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অসীম কুমার কান্ডার

১)এখন তো করোনায় চোখের উপর প্রভাব পড়ছে৷ জয় বাংলাও করোনার একটি উপসর্গ হিসেবে দেখা দিয়েছে? কী খেয়াল রাখতে হবে চোখ লাল হলে বা ফুলে গেলে?

উত্তর- করোনার ফলে দু’রকমভাবে চোখে সমস্যা হতে পারে৷ এক, সরাসরি করোনা ভাইরাস আক্রমণে চোখের সমস্যা, অন্যটা হল এই মারণ ভাইরাস সম্পর্কিত কোনও চোখের জটিলতা৷ সরাসরি বা ডিরেক্ট করোনা আক্রমণের ফলে জয় বাংলা বা conductivities হচ্ছে৷ এর ফলে চোখে জল পড়া বা লাল হওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে৷ এর সঙ্গে অবশ্যই থাকছে করোনার অন্যান্য উপসর্গ, যেমন জ্বর বা গা ব্যাথা৷ তখন রোগী যেমন আইসোলেনে থাকছেন, তেমনই চোখ মুছে তার টিস্যু বা রুমাল একেবারে সরিয়ে রাখবেন, যাতে কারও সংস্পর্ষে না আসে৷ বা কোনও কিছু চোখের ছোঁয়া না লাগে৷ এছাড়া অন্যভাবেও চোখে সমস্যা হতে পারে, যা করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাবে যা আরও বেশি জটিল এবং ফলও মারাত্মক৷ যেমন হঠাৎ করে চোখ কটকট করা বা জ্বালা করা৷ তখন কিন্তু করোনার অন্য কোনও উপসর্গ নাও থাকতে পারে৷ বা করোনা সেরে গেলেও রোগের সুদূর প্রভাব হিসেবে এই সব সমস্যা তৈরি হতে পারে৷ এই অবস্থায় দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা বাঞ্ছনীয়৷ এর থেকে বাঁচতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক এবং চোখের লুবরিকেশন দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা৷ এই সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে রোগীর চোখের সংস্পর্ষে আসা কোনও কিছুই অন্যরা ব্যবহার না করেন৷

২)তাহলে এইরকম চোখের সমস্যা হলেও কি করোনা পরীক্ষা করতে হবে?

উত্তর- সবসময় নয়৷ হঠাৎ করেই চোখের সমস্যা হলে কয়েকদিন অপেক্ষা করে দেখুন৷ যদি জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ না তৈরি হয়, তাহলে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই৷

৩)যাঁরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁরা বেশিক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকছে পারছেন না৷ মোশন সিকনেস বা গা গুলিয়ে উঠছে৷ কেন এমন হচ্ছে? এর থেকে মুক্তি কীভাবে? বা এটা এড়াতে কী করতে হবে?

উত্তর- করোনায় শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায়৷ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে৷ ফলে দুর্বলতাও খুবই বেড়ে যায়৷ শরীরে শক্তি না থাকলে এমনিতেই চোখের উপর চাপ পড়লে কষ্ট হয়৷ করোনা আক্রমণের ফলে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হন রোগী৷ তাই শারীরিক ও মানসিক দুইভাবে দুর্বল হওয়ার ফলে কর্মক্ষমতা কমে যায়৷ চোখ খুলে কিছু পড়ার চেষ্টা বা মোবাইল-ল্যাপটপ স্ক্রিন দেখতে গেলে সরাসরি মাথার উপর চাপ পড়ে৷ নিউরো সাইকায়েট্রিক প্রতিক্রিয়া হয় শরীরে৷ এরফলে একধরণের গা গুলিয়ে ওঠা বা বিরক্তি তৈরি হয়৷ এই সময়টা তাই চোখের বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন৷

Dr.Asim Kumar Kandar (ophthalmologist) Dr.Asim Kumar Kandar (ophthalmologist)

৪)চোখের ডাক্তারদের অনলাইনে দেখানোটা কিছুটা সমস্যার৷ মানে চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রথমিক পরীক্ষাতেই তো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন৷ তাহলে কীভাবে ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে কনসাল্ট করতে হবে?

উত্তর- যদি দেখার ক্ষমতা কমতে থাকে, বা এমন কিছু সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে প্রথমে অনলাইনে চিকিৎসকের (online consultaion) সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে৷ প্রাথমিকভাবে কিছু প্রশ্ন করে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন চিকিৎসক৷ অনেক সময় শরীর দুর্বল হলেও এমন সমস্যা বোধ করতে পারেন রোগী৷ তাই প্রাথমিক প্রশ্ন-উত্তরের মাধম্য ডাক্তারবাবু বুঝতে পারবেন সমস্যাটা কতটা গুরুতর৷ সেইভাবে চিকিৎসা শুরু হবে৷ প্রয়োজন হলে তখন চেম্বারে আসতে হবে৷ তবে এটা ঠিক চোখের কোনও সমস্যা হলে অনলাইন চিকিৎসা খুব বেশি কাজ দেয় না৷

৫)চোখের কোনও রকম সমস্যা হলে, প্রাথমিক কী করণীয়?

উত্তর- প্রথমে জানতে হবে করোনায় চোখের কী কী সমস্যা হচ্ছে৷ সেগুলির দিকে খেয়াল রাখবেন৷ সঙ্গে দেখবেন যে কোনও ভাবে চোখের জ্যোতি কমে যাচ্ছে কী না৷ কারণ এটাই খুব ভয়ঙ্কর হতে পারে পরবর্তীতে৷ এর থেকে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে৷ বাড়িতে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়৷ যেমন ধরুন ইউভিয়াইটিস (uveitis) বা গ্লোকমা৷ এগুলি খুবই স্পর্শকারত৷ অনেক সময় দেখা গিয়েছে যে করোনার ফলে চোখের প্রেশার বেড়ে গিয়েছে বা এই ধরণের নানা জটিল সমস্যা হচ্ছে৷ তখন চিকিৎসক দেখাতেই হবে৷

৬)অনেক সময় দেখা যাচ্ছে চোখে ব্লাড ক্লট করছে৷ এটা কেন হয় এবং এর থেকে প্রতিকার কীভাবে মিলবে?

উত্তর- ব্লাড ক্লট (blood clot in eye) বা চোখে রক্ত জমাট অনেক কারণে হতে পারে৷ সাধারণভাবে এতে চোখের দেখার সমস্যা হয় না৷ তবে রেটিনাতে হলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে৷ যদি চোখের ধারে রক্ত জমাট বাঁধে তাহলে কিছুদিন অপেক্ষা করুন৷ এরপর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷

৬)বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ৷ চারিদিক দেখার অবকাশ কম৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের মধ্যেই ঘুরছে চোখ৷ এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট চোখের ব্যায়াম বা ঘন ঘন জলের ঝাপটা দিতে হবে?

উত্তর- মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি এখন দূরে সরিয়ে রাখলে চলবে না৷ বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাসও চলবে৷ সেক্ষেত্রে মোবাইলে না হয়ে যদিও একটু বড় স্ক্রিনে ক্লাস করতে পারে তাহলে ভাল৷ যদি বাচ্চাদের চোখে হাল্কা পাওয়ার থাকে, তাহলেও চশমা পরতে হবে৷ এছাড়া আই লেভেলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করা, চোখের থেকে স্ক্রিনের দূরত্ব বাজায় রেখে কাজ করতে হবে৷ জলের ঝাপটা, মাঝেমাঝে ব্রেক নেওয়া বাঞ্ছনীয়৷ বড়রা তো ব্যবহার করেনই, ছোটরাও চোখের জন্য ড্রপ ব্যবহার করলে ভাল৷ দূরের দিকে তাকিয়ে থাকা, সম্ভব হলে সবুজ কিছুর দিকে কিছুক্ষণ তাকাতে পারলে ভাল হবে৷ এছাড়া কনভার্জেন্স এক্সসারসাইজ (convergence exercise) করা যেতে পারে৷

৭)চোখের যত্নের জন্য কিছু বেসিক টিপস৷

উত্তর- ভাল খান, নিয়ম করে ঘুমোন৷ দিনে অন্তত এটা হলুদ বা কমলা সব্জি (Yellow or Orange Vegetable/ fruit) বা ফল খেতে হবে৷ এতে চোখ ভাল থাকবে৷

Published by:Pooja Basu
First published: