• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্যের সংশোধনাগার থেকে সাজা শেষ হওয়ার আগেই মুক্ত ৮৫০ বন্দি

গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্যের সংশোধনাগার থেকে সাজা শেষ হওয়ার আগেই মুক্ত ৮৫০ বন্দি

Photo- Representive

Photo- Representive

রাজ্যের সংশোধনাগার গুলিতে এই মুহূর্তে সাড়ে ২৩ হাজার বন্দী রয়েছে। করণা সংক্রমণ আটকাতে সংশোধনাগার গুলির ভিড় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের সংশোধনাগারের ভিড়ের চাপ কমাতে দ্বিতীয় দফায় প্রায়  ৮৫০ বন্দিকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশ করল সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত রাজ্যের কমিটি। সেই তালিকায় প্যারোলে ৭৯০ জন। এবং অন্তর্বতী জামিনে ৪০ জনকে করোনা মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারে'র অন্তর্বতী জামিনে ছাড়া পাওয়া প্রস্তাবের ১৩ জন মহিলা বন্দী'র বয়স  ৬০ বছরের বেশি।

প্রথম দফায় প্রায় ৩০৭৮ বন্দিকে ছাড়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।  তাদের মধ্যে ১২২৬ জন অন্তর্বতী জামিন ও ২৫২ জন প্যারোলে এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন।করোনা'য় জেল মুক্তির আন্দোলন থেকে হুলস্থুল পড়ে যায় দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। কয়েকজন বন্দির মৃত্যু হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সেই দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ৮৯ জন বিচারাধীন বন্দীকে প্রথম দফায় জেলের ভিড় কমাতে করোনা মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ১৬৮, হাওড়া সংশোধনাগারে ৭৯, জলপাইগুড়ি ১৪৮, বর্ধমান ৫৯,  মালদা ১৪০ এবং আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের ১৪ বিচারাধীন বন্দীকে করোনার জেরে অন্তর্বর্তী জামিন এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ১০১৮ বন্দিকে তিন মাসের জন্য প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত রাজ্যের বিশেষ কমিটির। পাশাপাশি অপরাধের খাতায় নাম লেখানো ২০৬০ বিচারাধীন বন্দী কে তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন এর সিদ্ধান্ত বিশেষ কমিটির।

করোনাভাইরাস গোষ্ঠী সংক্রমণের ভয়ে তটস্থ তামাম বিশ্ব। সেই তালিকায় বাদ নেই আমাদের দেশও। টানা ২১ দিনের দেশে লকডাউন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের। গোষ্ঠী সংক্রমনের তীব্র ভয় দেশের সংশোধনাগার গুলিতেও । সুপ্রিম কোর্ট তাই দেশের সংশোধনাগারগুলির ভিড় কমাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য গুলোকে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের পর ১৯ মার্চ রাজ্যের এ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেন। সেই মোতাবেক প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বিশেষ কমিটি করে দেয়। বিশেষ কমিটিতে রয়েছেন রাজ্য লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি চেয়ারম্যান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, রাজ্যের কারা বিভাগের অধিকর্তা এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিব। ২৭ মার্চ বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় বিশেষ কমিটি। আর তাতেই তিন হাজারের বেশি বন্দিকে ছাড়ার সুপারিশ হয় প্রথম দফায়।

রাজ্যের সংশোধনাগার গুলিতে এই মুহূর্তে সাড়ে ২৩ হাজার বন্দী রয়েছে। করণা সংক্রমণ আটকাতে  সংশোধনাগার গুলির ভিড় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। ৬ এপ্রিল ফের বৈঠকে বসে বিশেষ কমিটি। তাতে রাজ্যের সংশোধনাগার গুলির ভিড়ের চাপ কমানোর জন্য আরো এক দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, করোনা মুক্তিরএমন সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কয়েকটি প্যারামিটার ঠিক করে এগোয় বিশেষ কমিটি। প্রথমবার অপরাধের অভিজ্ঞতা থাকা বন্দীদের মুক্তির তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পকসো, ধর্ষণ, খুন এমন অপরাধে হাত পাকানো বন্দীদের মুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।

Arnab Hazra

Published by:Elina Datta
First published: