corona virus btn
corona virus btn
Loading

শিশুদের ভ্যাকসিন সময় করে দিতে হবে, তবে হাসপাতালে 'ভিড়' করলে সমস্যা আরও বাড়বে

শিশুদের ভ্যাকসিন সময় করে দিতে হবে, তবে হাসপাতালে 'ভিড়' করলে সমস্যা আরও বাড়বে

মনে রাখবেন যে টিকাকরণ করতে গিয়ে একেবারে ভিড় নয়৷ সামাজিক দূরত্ব মেনে শিশুকে দিন প্রয়োজনীয় টিকা৷

  • Share this:

#কলকাতা: এক কঠিন সময়ের সাক্ষী থাকছে গোটা বিশ্ব৷ লকডাউনে একপ্রকার থমকে জনজীবন৷ বিশেষ করে চিন্তায় পড়েছেন ছোট বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা৷ কারণ সময় সব শিশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাচ্ছে না৷ শিশুর জন্মের পরপরই তার শরীরে বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মমাফিক টিকা বা ভ্যাকসিন একপ্রকার বাধ্যতামূলক৷ লকডাউনে যা থমকে রয়েছে৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল খোলা থাকলেও অনেকক্ষেত্রে করোনা আতঙ্কে তা এড়িয়ে চলছেন অভিভাবকরা৷ সেক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট টিকার সময়সূচী৷ তাতেই বাড়ছে ভয়৷ তবে বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অপূর্ব ঘোষের মতে টিকা হল জীবনবিমার সমান৷ না থাকলে যে জীবন বিপন্ন, তা নয়৷ তবে অবশ্য বিপদের হাত থেকে বাঁচতে যেমন জীবনবিমার করান সকলে, তেমনই শিশুকে রোগের হাত থেকে বাঁচাতেও এই টিকাকরণ৷ তাঁর মতে নির্দিষ্ট সময় মেনে এই টিকা না নিলে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ সেক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল হলে দিন মেনে শিশুকে টিকাকরণ করানো সম্ভব৷

এক মত বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমিতা সাহার৷ তিনি জানাচ্ছেন যে জন্মের পর থেকেই নিয়ম করে শিশু শরীরে টিকা করণ প্রয়োজন৷ তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৬ সপ্তাহ, ৬ মাস ও ৯ মাসের ভ্যাকসিনেশন৷ রোগের উৎস হিসেবে মূলত তিনটি ভাগে এই টিকাগুলিকে ভাগ করা যায়৷ বায়ুবাহিত, জলবাহিত এবং রক্তের থেকে যে রোগের উৎস হয়, এমন ৩ ধরণের রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তেই এই টিকাকরণ৷ বায়ু বাহিত যেই রোগগুলি শিশুদের হয় তা হল যে কোনও ধরণের ফ্লু, মিসেলস বা হাম, জলবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়তে দেওয়া হয় হেপাটাইটিস এ এবং টাইফয়েডের ভ্যাকসিন৷ এবং এরপর থাকে হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন৷

জন্মের পরপর যে ভ্যাকসিন গুলি থাকছে তা এই সময় শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল থেকে দিয়ে দেওয়া উচিৎ বলে জানিয়েছেন ডাঃ সাহা৷ তারপরের গুলি সময় মাফিক না দিতে পারল খুব বেশি সমস্যা নেই৷ যেখান থেকে আটকে রয়েছে টিকাকরণ, সেখান থেকে শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তবে এরজন্য ১ থেকে ২ বছরের শিশুর শরীরে হাল্কা কোনও সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ যেমন শর্দি-কাশি বা পেট খারাপ৷ তাই এই সময়টা তাদের ফোটানো জল (২০ মিনিট) খাওয়ানো বাধ্যতামূলক৷ বাড়ির বড়দের সর্দি-কাশি হলে শিশুর থেকে দূরে থাকতে হবে৷ এই নিয়মগুলি খুব গুরুত্ব সহকারে মেনে চলার কথা বলেছেন ডাঃ সুমিতা সাহা৷

শহরের আরও এক বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নিকোলা ফিন মনে করেন যে এই সময় যে সব শিশুরা জন্মাচ্ছে তাদের ঠিক মতো ও সময় মেনে টিকাকরণ সম্ভব হচ্ছে না৷ তাই মায়ের থেকে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তারা পাচ্ছে সেটাই আপাতত তাদের সম্বল৷ তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ কারণ লকডাউন কিছুটা হাল্কা হলে বা কনটাইনমেন্টে জোনের বাইরে যাদের বাড়ি, তারা শিশুর টিকাকরণ অনায়াসে করতে পারবেন৷ না হলে জন্মের পর যে কটা টিকাকরণ হয়েছে, তারপর থেকেই ফের টিকা দেওয়া চালু হবে৷ এই নিয়ে অযথা অভিভাবকদের ভয় পেতে বারণ করছেন ডাঃ নিকোলা ফিন৷

তবে আপাতত যেটা সব থেকে বেশি ভাবাচ্ছে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের তা হল টিকাকরণের জন্য যেন ভিড় না করেন বাবা-মায়েরা৷ এক্ষেত্রে ডাঃ সুমিতা সাহা বলছেন 'অনেক শিশুর টিকাকরণ আটকে রয়েছে৷ লকডাউনের নিয়ম কিছুটা লঘু করা হলেই অনেকে একসঙ্গে ভিড় করবেন শিশুদের নিয়ে৷ দেখুন আমাদের তো করোনা নিয়েই একপ্রকার বাঁচতে শিখতে হচ্ছে৷ তাই টিকাকরণ সম্পূর্ণ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটা আবশ্যিক করোনার সঙ্গে লড়াই৷ তাই টিকাকরণের জন্য ভিড় করবেন না৷ এর জন্য চিকিৎসকদেরও একটু সচেতন থাকতে হবে৷ সময় মেনে দিতে হবে অ্যাপয়েনমেন্ট'৷ অতএব মনে রাখবেন যে টিকাকরণ করতে গিয়ে একেবারে ভিড় নয়৷ সামাজিক দূরত্ব মেনে শিশুকে দিন প্রয়োজনীয় টিকা৷

Published by: Pooja Basu
First published: May 14, 2020, 8:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर