• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • ২০০ বছর আগে মায়ের পুজোয় থেমে গিয়েছিল মহামারী, আজ করোনা কোপে কলেরা 'মা'

২০০ বছর আগে মায়ের পুজোয় থেমে গিয়েছিল মহামারী, আজ করোনা কোপে কলেরা 'মা'

অমাবস্যাতেই তৈরি হয় মূর্তি, অমাবস্যাতেই বিসর্জন৷ কলেরা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্যই শুরু হয়েছিল পুজো ৷

অমাবস্যাতেই তৈরি হয় মূর্তি, অমাবস্যাতেই বিসর্জন৷ কলেরা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্যই শুরু হয়েছিল পুজো ৷

অমাবস্যাতেই তৈরি হয় মূর্তি, অমাবস্যাতেই বিসর্জন৷ কলেরা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্যই শুরু হয়েছিল পুজো ৷

  • Share this:

#বর্ধমান: কারোর কাছে তিনি রক্ষা কালী মা। সব অশুভ শক্তি'র বিনাশকারী দেবী। কারোর কাছে তিনি মহামারী মা আবার কারোর কাছে তিনি কলেরা মা। কথিত আছে, বর্ধমানের প্রাচীন জনপদ পঞ্চ গ্রাম মহামারী কলেরায় উজাড় হতে থাকে। সময়টা ২০০ বা ৩০০ বছরের পুরনো। কবে পুজের শুরু বর্তমান প্রজন্মের কেউই ঠিক করে বলে উঠতে পারেন না। তবে পুজোর মাহাত্ম্যে বিশ্বাস অগাধ।

জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বৈশাখের প্রথম অমাবস্যায় আসে অসংখ্য ভক্তকূল। কলেরা কবল থেকে বাঁচতে পঞ্চ গ্রামের মানুষ রক্ষা কালী মা এর পুজে শুরু করেন। পঞ্চগ্রামের ৫ গ্রাম হয়রামনগর, গোবিন্দপুর, জুয়ালভাঙা, কোন্দা এবং পাণ্ডবেশ্বর। কলেরা প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ প্রান্তের শেষে পাণ্ডবেশ্বরে হয় পুজো।শুরু হয় রক্ষা কালী মা পুজো। চলিত বিশ্বাস, পুজোর পর থেকে প্রকোপ কমে কলেরার। এরপর থেকে কলেরা বা মহামারী মা নামেও পূজিত হন চ্যাটার্জি বাড়ির রক্ষা কালী মা। তিথি মেনে ফি বছর পাণ্ডবেশ্বরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো  নেন রক্ষা কালী মা।

বৈশাখের প্রথম অমাবস্যায় বসে পুজো। অমাবস্যাতেই ঠাকুর তৈরি, সাজানো, পুজো এবং বিসর্জন । বছরের একটি দিন পুজো করেন ভট্টাচার্যরা। আর বাকি ৩৬৪ দিন পুজো করে আসেন চ্যাটার্জি বাড়ির সদস্যরা।

পুজো চ্যটার্জি ও ভট্টাচার্যরা করলেও রক্ষা মা যেন সর্বজনীন। গ্রামের সকলে একযোগে এগিয়ে আসেন মা'র পুজোর নানা কাজে।  উৎপল চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, "প্রতিবছর প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। বলি প্রথা এখনও চালু। তবে এবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক কাটছাঁট করতে হয়েছে। পুজো শেষে হাজার হাজার মানুষের মুখে মায়ের ভোগ তুলে দেওয়া রীতি । তা এবার হচ্ছে না। করোনা জেরে পুলিশ জন সমাগম আটকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।"চট্টোপাধ্যায় বাড়ির শমীক চট্টোপাধ্যায়, পেশায় আইনজীবী তাঁর কথায়, " গয়না ছাড়া 'মা' কে কোনওদিন দেখিনি। সবাই পুজোয় এবার আসতে পারছে না। একটু মন খারাপ তো হচ্ছেই।"

এবছর কড়াকড়ির কারণে মায়ের মূর্তি নিরাবরণ ৷ নেই কোনও গয়না ৷ এবছর কড়াকড়ির কারণে মায়ের মূর্তি নিরাবরণ ৷ নেই কোনও গয়না ৷

করোনা শতাব্দী প্রাচীন রক্ষাকালী মা'র পুজোয় লাগাম টেনেছে এবার। অতিমারি করোনা কাটছাঁট করতে বাধ্য করেছে মহামারী মা এর আরাধনায়। সোনার মুকুট, হার, চুড়ি, জিভ নিয়ে ভরি ভরি গয়না মা'র। প্রশাসনের করোনা সতর্কতায় গয়না পরায় মানা। সামাজিক দূরত্ব মেনে জমায়েত কমাতে মহাভোগ বন্ধ। পুজো শেষে প্রসাদ বিতরণে লাইন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কড়া জন্য কড়াকড়ি পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশের।

Arnab Hazra

Published by:Elina Datta
First published: