corona virus btn
corona virus btn
Loading

শুনসান চারপাশ! অন্যরকম নববর্ষের সাক্ষী সর্বমঙ্গলা মন্দির

শুনসান চারপাশ! অন্যরকম নববর্ষের সাক্ষী সর্বমঙ্গলা মন্দির

পয়লা বৈশাখের একেবারে অচেনা ছবি

  • Share this:

#বর্ধমান: এক অন্য রকম নববর্ষের সাক্ষী থাকল বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির। শুনসান, জন মানবহীন থাকলো বর্ধমানের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দির। প্রথা মেনে ঘুম থেকে ওঠার পর মায়ের স্নান, রাজবেশ পরিয়ে মায়ের পুজো, আরতি সব হল। বাজল শাঁখ, কাঁসর ঘণ্টা। কিন্তু ভক্তশূন্য থাকল মন্দির। ভক্তরা যাতে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বরে ঢোকার দরজাগুলি তালাবন্ধ থাকল।

মন্দিরে নিত্যপুজো করছিলেন প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য। পুজো শেষ করে মূল মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাভেজা গলায় বললেন, এক টানা পঞ্চাশ বছর মায়ের মন্দিরে পুজো করছি। এমন বাংলা নববর্ষ কখনও দেখিনি। মানুষের মনে উৎকন্ঠা, আতঙ্ক, উদ্বেগ। উপার্জন নেই। কাজ হারানোর ভয় মনের মধ্যে। এমন নববর্ষের সকাল আর যেন কখনও না আসে। মন্দিরে পঞ্চাশের ওপর পুরোহিত থাকেন পুজো পার্বনে। দুপুর পর্যন্ত তাঁরা হাঁফ ফেলার সময় পান না। আজ অনেক পুরোহিতই আসেননি। যাঁরা এসেছিলেন তাঁরাও মনমরা অবস্থায় বসে থেকেছেন।

অন্যান্যবার ভোর থেকেই বিশাল লাইন পড়ে বর্ধমানে অধিষ্ঠাত্রী রাঢ় বঙ্গের দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে। পরিবার পরিজনের সারা বছরের মঙ্গল কামনায় পুজো দেন অগণিত ভক্ত। স্নান সেড়ে পুজোর ডালি নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর পুজো দেন সকলেই। হালখাতা পুজো করাতে আসেন ব্যবসায়ীরা। পুজো হয় লক্ষ্মী গণেশের। লাল কাপড়ে মোড়া হাল খাতায় আঁকা হয় স্বস্তিক চিহ্ন। সিঁদুর গুলে চেটানো হয় ষোল আনা।  শুধু বর্ধমান শহরের বাসিন্দারাই নন, জেলার নানা প্রান্ত, পাশের জেলা বাঁকুড়া, হুগলি থেকেও আসেন অনেকে। তিল ধারণের জায়গা থাকে না মন্দির চত্বরে। ভিড় সামলাতে ব্যস্ত থাকে বাড়তি পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবকের দল।

আজ, মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতিতে সেই ছবিটা একেবারেই মেলানো যাচ্ছিল না। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মন্দিরে ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ বন্ধ করা হয়েছিল আগেই। লক ডাউন শুরু হতেই মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। নববর্ষ বা হালখাতা পুজোও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, মন্দিরের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই আমরা চেয়েছি ভক্তরা বাড়িতে থাকুন সুস্থ থাকুন। বাড়িতে থেকেই মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করুক সকলে।

Saradindu Ghosh

Published by: Debalina Datta
First published: April 14, 2020, 4:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर