corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার বেডে অসাড় ছেলে, আসল চিকিৎসা শুরুই হল না! ‘করোনা তাও ভাল, লকডাউন খারাপ’ আক্ষেপ বাবা-মার

করোনার বেডে অসাড় ছেলে, আসল চিকিৎসা শুরুই হল না! ‘করোনা তাও ভাল, লকডাউন খারাপ’ আক্ষেপ বাবা-মার

লকডাউনে প্রথমে জীবিকায় টান, সংসারের হাল ধরতে গিয়েই পরে জীবন-মৃত্যুর পাঞ্জা লড়াই।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গ্রীণ বিল্ডিংটাই ২০ জুলাই থেকে ঠিকানা দাস দম্পতির। নবদ্বীপ থেকে এক কাপড়ে বেরিয়েছেন জুলাই প্রথম সপ্তাহে। ইতিমধ্যে ৩ হাসপাতালের চড়কি পাক  খেয়ে এখন ঠাঁই কলকাতা মেডিকেলে। ছেলে মনোজ দাস ৩১৮ নং বেডে ভর্তি ২০ জুলাই থেকে। কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসায় ভর্তি সেখানে।  যদিও তার শরীর বিছানায়, মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর চিকিৎসা প্রয়োজন। মনোজ এর আগে ভর্তি ছিলো এন আর এস ও চুঁচুড়া হাসপাতালে।

বাবা প্যান্ডেলের কাজ করতেন। লকডাউনের জন্য রাতারাতি বেকার হয়ে যান বাবা। বাধ্য হয়েই নাবালক ছেলেকে সংসারের খিদে মেটাতে লরির খালাসীর কাজ নিতে হয়। মাস দেড়েক আগে করোনা আবহে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বছর সতেরোর যুবক। করোনা আতঙ্ক থাকলেও পেটের টানে ঝুঁকি নিয়েই উঠতে  হয় ১০ চাকায়। কিছুদিন আগে ডানকুনির কাছে দুর্ঘটনায় চোট পান গুরুতর ।প্রথমে চুঁচড়া  হাসপাতাল,পরে এন আর এস। মাথা, ঘাড় ব্যথায় শরীর কার্যত অসাড়। প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে এমআরআই করার। তিন হাসপাতাল ঘুরে তা এখনও সম্ভব হয়নি। তবে সেটা কবে হবে তার কোনো সদুত্তর নেই।ফলে আশঙ্কায় রয়েছেন বাবা মা।

লকডাউনে প্রথমে জীবিকায় টান, সংসারের হাল ধরতে গিয়েই পরে জীবন-মৃত্যুর পাঞ্জা লড়াই। কিছুদিন আগে একটি বারের জন্য কোভিড বেডে অসাড় ছেলেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে পাশের বেডে রোগীর মোবাইল সৌজন্যে। কর্তব্যরত চিকিৎসক কী চিকিৎসা করছেন সেটাই বুঝতে পারছেন না। এমআরআই কীভাবে হবে?  কোথায় হবে?ছেলে সুস্থ হয়ে ফিরবে তো? প্রশ্নের উত্তর চায় অসহায় বাবা-মা। ছেলের চিকিৎসায় খুশি?  বাবা মদনমোহন দাসের উত্তর, " ভাল ট্রিটমেন্ট কি করে বলি। বারবার বলছি ওর আসল সমস্যা ঘাড়ে, মাথায়। হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে এন আর এস হাসপাতাল বলল করোনা হয়েছে। পাঠিয়ে দিল এখানে। ১৪ দিন হয়ে গেলো এখনও বিছানাতেই শুয়ে ছেলে। কবে যে উঠবে কে জানে!

"কোভিড বেডে ছেলে ঘাড়ের ও মাথার চোটের চিকিৎসা সম্ভব নয় সেটা বুঝেছেন নবদ্বীপের দাস দম্পতি। করোনা তাঁদের ছেলের কোনও ক্ষতি করতে পারেনি, এটা মনে করেন তারা। তাঁদের কাছে আসল পাজি ওই লকডাউন।

তিন হাসপাতাল ঘুরে বাবা মা হাসপাতালের গাছতলায় বসে আপন মনে বলে চলেন,  করোনা ভাল লকডাউন খারাপ। আসলে লকডাউন না হলে যে ছেলেকে খালাসির কাজই করতে হত না। খালাসি না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মনোজের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ হয়েছে সোমবার। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এলে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে তাঁকে। হতভাগ্য বাবা-মা প্রশ্ন, দুর্ঘটনার চিকিৎসা করতে এসে করোনা চিকিৎসা হলো। দুর্ঘটনার চিকিৎসা তবে কোন হাসপাতালে হবে!

Arnab Hazra

Published by: Elina Datta
First published: August 3, 2020, 11:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर