corona virus btn
corona virus btn
Loading

দিনভর লড়লেন, তবু নিজের গড়েই ঢুকতে পারলেন না দিলীপ ঘোষ

দিনভর লড়লেন, তবু নিজের গড়েই ঢুকতে পারলেন না দিলীপ ঘোষ
বাইকে সওয়ার দিলীপ ঘোষ।

বিকেল পাঁচটা নাগাদ কলকাতা রওনা হওয়ার আগে বুলেট বাইকে সওয়ার হতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষ কে। দিনভর নরমে-গরমে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদেই স্পষ্ট আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে চলেছে রাজ্যে।

  • Share this:

#পূর্ব মেদিনীপুর:  শনিবারের পর রবিবারও পুলিশের ডিফেন্স ভেদ করতে ব্যর্থ হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র মেদিনীপুরে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ। পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর দুই জেলাতেই দিলীপ ঘোষের প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এ দিন পুলিশের দুর্ভেদ্য ডিফেন্সে। এদিন

সকাল ১১টা ৪০মিনিট নাগাদ নন্দকুমারের আগেই জাতীয় সড়কে পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ দিলীপ-কে আটকে দায়। কামারদা হয়ে মেচেদা-হলদিয়া রাজ্য সড়ক ধরে নন্দকুমার যাওয়ার চেষ্টা করলে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাস্তায় নিজের গাড়িতেই থাকেন দিলীপ। এসডিপিও তমলুকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছায় ঘটনাস্থলে।

বিজেপি সমর্থকরা তীব্র শ্লোগান দিতে থাকলে, উল্টোদিকে গ্রামবাসীদের একাংশ একজোট হয়ে দিলীপ ঘোষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাইকিং শুরু করে পুলিশ। এক ঘন্টা পর দিলীপ ঘোষ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান তমলুকের দিকে। এগরা পৌঁছাতে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মেদিনীপুরের সাংসদ। ডেবরার আগে দিলীপ ঘোষকে এবার আটকে দেয় পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ। সময় তখন দুপুর পৌনে ৩টে। খড়্গপুর মহকুমা শাসক দিলূপের পথ আটকে জানান, লকডাউনে নবান্ন নির্দেশিকা মেনে দিলীপ ঘোষ খড়্গপুরে পৌঁছাতে চাইলে, সেখানে ১৪ দিন গৃহ পর্যবেক্ষনে থাকতে হবে দিলীপ-কে।

পুলিশ প্রশাসনের এমন যুক্তি শুনে মেজাজ হারান দিলীপ। পুলিশের উদ্দেশ্যে আঙুল উঁচিয়ে দিলীপের হুঙ্কার, "ন্যাকামি হচ্ছে! ননসেন্স কোথাকার!  দেশের আইন আমরা সাংসদরা তৈরি করি যেটা আপনারা রক্ষা করেন। মেদিনীপুরের ৩০ লক্ষ মানুষের অভিভাবক আমি। দুর্যোগে তাঁদের পাশে না গেলে কে যাবে!  শুধু তৃণমূল মন্ত্রী আর সাংসদরা?"

পুলিশের উদ্দেশ্যে আরও প্রশ্ন ছোঁড়েন , "তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিনেতা দেব এসেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর। কী ভাবে আসলেন?  তিনি কি গৃহ পর্যবেক্ষণে ছিলেন? নুসরত,  মিমি-রা কীভাবে নিজের নিজের সংসদ ক্ষেত্রে গেলেন। আইন শুধু দিলীপ ঘোষের জন্য! আপনারা পারলে আমায় গ্রেফতার করুন। আইন আমি বুঝে নেব।"

দিলীপের গাড়ি পুলিশ আটকে দেওয়ায় এরপর পায়ে হেঁটে ২.৫ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি।হাঁটতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আবারও তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন দিলীপ। এরপর আরও খানিকটা এগিয়ে খড়গপুর গ্রামীণের চাঙ্গুয়াল পৌঁছান।  পুলিশ সেখানেও আটকালে জাতীয় সড়কের ধারে ধাবায় বসে পড়েন। জেলা কার্যকতাদের নিয়ে সেখানেই সাড়েন ঘরোয়া বৈঠক। এগরা হাসপাতালের জন্য নিয়ে যাওয়া মাস্ক ও স্যানিটাইজার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেন জেলা নেতাদের।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শিশির অধিকারী পুলিশের বাধা প্রসঙ্গে জানান, " সস্তার রাজনীতি করছেন দিলীপ ঘোষ । লকডাউনের মধ্যে এভাবে জেলায় ঢুকবেন কেন।" পাল্টা প্রতুত্তরে দিলীপ জানান, " শিশির বাবুরা তৃণমূলের কর্মচারী আর আমাদের সবাই কার্যকর্তা, পার্থক্য এখানে।"

তবে এদিন শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে একটু নীরবই ছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। বিকেল পাঁচটা নাগাদ কলকাতা রওনা হওয়ার আগে বুলেট বাইকে সওয়ার হতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষ কে। দিনভর নরমে-গরমে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদেই স্পষ্ট  আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে চলেছে রাজ্যে।

Published by: Arka Deb
First published: May 25, 2020, 12:59 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर