corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনায় মমতার "মিড ডে মিল", সাংসদ তহবিলের অর্থ নিয়ে আসরে বিজেপি 

করোনায় মমতার

রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কৌশলে, অশনী সংকেত দেখতে শুরু করেছে দল। সে কারণেই, সাংসদ তহবিলের অর্থ দিয়ে, মানুষের সহানুভূতি কাড়ার চেষ্টা বিজেপির।

  • Share this:

ARUP DUTTA

#কলকাতা: মোদির নির্দেশ পেয়েই রাজ্যের পাশে বিজেপি। করোনা মোকাবিলায় সাংসদ তহবিল থেকে রাজ্যকে অর্থ দিতে রীতিমত হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সাংসদদের। করোনা পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের সাংসদদের এলাকার মানুষকে সাহয্য করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির পরামর্শের ২৪  ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের ১৮ সাংসদের মধ্যে ১১ জন সাংসদ তাদের সাংসদ তহবিল থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা করোনা মোকাবিলায় রাজ্য  প্রশাসনের হাতে তুলে দেবার অঙ্গীকার করেছেন।

যদিও,  এই তালিকায় এখনো পর্যন্ত নেই  দলের রাজ্য সভাপতি ও মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তবে, ইতিমধ্যে, যারা তহবিল থেকে অর্থ দেবার কথা ঘোষনা করেছেন, তাদের তালিকায় একেবারে শীর্ষে বর্ধমান পূর্বের  সাংসদ এস এস আলুহলিয়া। তিনি দেড় কোটি টাকা দেবার কথা জানিয়ে  সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে চিঠিও দিয়েছেন। আলুহলিয়ার পরেই রয়ছেন হুগলির সাংসদ লকেট চ্যাটার্জী। লকেটের বরাদ্দ  ১ কোটি। এছাড়া,  দার্জিলিং এর সাংসদ রাজু বিস্ত, আলিপুর দুয়ারের সাংসদ জন বার্লা, কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুমার হেমব্রম, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোরা প্রত্যেকে ৫০ লাখ টাকা ও বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তার সাংসদ  তহবিল থেকে ৮০ লাখ টাকা দেবার কথা জানিয়েছেন।

খুব তাড়তাড়ি বাকি সাংসদরাও তাদের সাংসদ তহবিল থেকে নিজ এলাকার জন্য অর্থ বরাদ্দ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শায়ান্তন বসুর মতে, ''প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু, নিদৃষ্ট করে কীভাবে তা করতে হবে, তা বলেননি। আমাদের রাজ্যের সাংসদরা মনে করেছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি করা ও করোনা মোকাবিলায় জরুরী কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে সাংসদ তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া যেতেই পারে। আমরা নবান্নে সর্বদল বৈঠকেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বলেছি।" যদিও, সায়ন্তন বসুর দাবির সঙ্গে একমত নন রাজনৈতিক মহল, তাদের মতে, করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে রাজনৈতিক ভাবে ইতিমধ্যেই সদর্থক বার্তা দিয়েছেন মমতা।  রাজ্যবাসীর এই সংকটে সামনে থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন মমতা। মোদীর এক দিনের জনতা কার্ফু ঘোষনার পরেই রাজ্যে লকডাউন ঘোষনাই নয়, গৃহবন্দী মানুষের জন্য ঘুরপথে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের মিড ডে মিল বাবদ, মাথাপিছু ২কেজি চাল ও ২ কেজি আলুর বন্দোবস্ত করে একঝটকায় বিজেপি সহ বিরোধীদের  পেছনে ফেলে দিয়েছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে, সাংসদ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ করে রাজ্যবাসীর সহানুভূতি কাড়তে চাইছে বিজেপি।

পাশাপাশি, রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়ে, দায়িত্বশীল বিরোধীতার প্রমাণ দিতে চায় বিজেপি। যদিও, বিজেপি সাংসদ ও মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন,  ''প্রধানমন্ত্রী সব সাংসদ ও দলকে বলেছেন, ''এখন একটাই লক্ষ্য ''করোনা জয়"।  দেশকে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তারপর, রাজনীতি। "  বিজেপির একাংশের মতে, সেই লক্ষ্যে মোদী  সফল হলে, আর্থিক মন্দা থেকে বেকারি, এন আর সি থেকে রামমন্দির নিয়ে বিজেপি তথা মোদী, শাহের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া মানুষের ক্ষোভ অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে। কিন্তু, রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কৌশলে, অশনী সংকেত দেখতে শুরু করেছে দল। সে কারণেই, সাংসদ তহবিলের অর্থ দিয়ে, মানুষের সহানুভূতি কাড়ার চেষ্টা বিজেপির।

Published by: Simli Raha
First published: March 25, 2020, 8:12 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर