EXCLUSIVE: করোনার জেরে অনলাইনে চলছে ক্লাস, নিজেদের অভিজ্ঞতা জানালেন USA-র দুই বাঙালি অর্থনীতিবিদ

EXCLUSIVE: করোনার জেরে অনলাইনে চলছে ক্লাস, নিজেদের অভিজ্ঞতা জানালেন USA-র দুই বাঙালি অর্থনীতিবিদ

স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় আগেই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা। কবে সেই পরীক্ষা হবে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা।

  • Share this:

#কলকাতা:-  চলছে লকডাউন। করোনা ভাইরাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় আগেই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  পরীক্ষা। কবে সেই পরীক্ষা হবে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। এই অবস্থায় রাজ্যের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের সেমিস্টারের জমানায় সিলেবাস শেষ হবে কী করে? একরাশ চিন্তায় উদ্বেগ বাড়ছিল শিক্ষক অধ্যাপক থেকে শুরু করে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। তবে ইন্টারনেট এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়াদের কথা ভেবে অনলাইনে পঠন-পাঠন শুরু করেছে। তবে শুধু এ রাজ্য কিংবা দেশই নয়, গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আজ করোনা আতঙ্কে জেরবার । এরকমই একটি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকাতেও  নাগরিকদের আজ করোনা জুজু গ্রাস করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা। সুদূর আমেরিকা থেকে নিজেদের ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা নিউজ এইট্টিন বাংলাকে জানালেন প্রবাসী দুই বাঙালি অধ্যাপক।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক  অ্যাট অ্যালবানির  অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক কাজল লাহিড়ী বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রত্যেককেই ক্লাস করতে বিশ্ববিদ্যালয় আসতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে কিছু জানা যাচ্ছেনা।তাই পড়াশোনায় যাতে কোনও রকম  বিঘ্ন না ঘটে সে কারণে জুম ভিডিও কনফারেন্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আমার পিএইচডিরত ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছি। যেভাবে করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে তাতে এই মুহূর্তে সকলেরই সাবধানে এবং সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অধ্যাপক কাজল লাহিড়ীর কথায়,  ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার পর মানুষ ভীষণভাবে রেগে ছিল।কিন্তু করোনা যেভাবে লাগাতার জনজীবনে হামলা চালাচ্ছে তাতে আমাদের দেশের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সকলের সুরক্ষার কথা ভেবে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই আজ বাধ্য হচ্ছে অনলাইন পরিষেবা মারফত দেশের ষাট মিলিয়নের বেশি ছাত্রছাত্রীর শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে। গত প্রায় চার দশক  যাবৎ বিদেশে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত কাজলবাবুর কথায়, এরকম সঙ্কটময় অভিজ্ঞতা আমার জীবনে নজিরবিহীন'।  আমেরিকা নিবাসী অপর অধ্যাপক সজল লাহিড়ী গত তেতাল্লিশ বছর যাবৎ বিদেশে  অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই  অধ্যাপকও  ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে অনলাইনে  ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছেন। বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পিএইচডি ও অন্যান্য পড়ুয়াদের  এখন একমাত্র ভরসা অনলাইন ক্লাস। এক সাক্ষাৎকারে সজল লাহিড়ী বলেন, 'সম্প্রতি মেয়ের কাছে গিয়েছিলাম ইংল্যান্ডে । সেখান থেকে  আমেরিকায় ফিরেই করোনা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা দেশের তরফে জানানো হয়েছে, অন্তত আরও  দু’সপ্তাহ 'গৃহবন্দি' থাকতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অধ্যাপনার জীবনে আমি কখনও সম্পূর্ণ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। বাড়িতে থেকে অনলাইনে সরাসরি  পড়ানোর নতুন অভিজ্ঞতা দারুণ উপভোগ করছি। তবে পাশাপাশি করোনা  নিয়ে আতঙ্কও পিছু ছাড়ছে না'।  করোনা  সংক্রমণ কোনও কিছুর বোঝার আগেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোটা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে । ভয়ঙ্কর সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। ভাগ্যিস ইন্টারনেট ছিল তাই পড়াশোনার ক্ষেত্রে মুশকিল আসান হয়েছে।  ইন্টারনেট আর উন্নত প্রযুক্তি না থাকলে কী যে হত কে জানে"।  বলছেন  দুই অর্থনীতিবিদ।

সেমিস্টার পদ্ধতিতে সিলেবাস শেষ করার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকেই। সেখানে পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকটাই ক্ষতি করে। তাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে এখন জোরকদমে সর্বত্র চলছে অনলাইন ক্লাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ কলকাতার প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী কাজল লাহিড়ী  ও  ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট বা  আই এস আই এর  প্রাক্তনী  সজল লাহিড়ীর কথায়, 'আমরা যেমন উৎসাহের সঙ্গে পড়াচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রীদেরও  অনলাইনে আগ্রহ তুঙ্গে। মনে হচ্ছে না ওরা বা আমরা দূরে আছি। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। গোটা বিশ্ব এখন একটাই কথা বলছে, একদিন ঝড় থেমে যাবে পৃথিবী আবার শান্ত হবে। সেই দিনটারই অপেক্ষায়  আজ  সবাই'।

VENKATESWAR  LAHIRI 

First published: March 27, 2020, 11:28 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर