corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাইনে নেই, শেষ রেশন, ভিন রাজ্যে আটকে থাকা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের কী অবস্থা ? দেখে নিন

মাইনে নেই, শেষ রেশন, ভিন রাজ্যে আটকে থাকা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের কী অবস্থা ? দেখে নিন

মাসের শেষে কারখানা বন্ধ হওয়ায় দিন কয়েকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাড়িতে থাকা রেশন।

  • Share this:

#কলকাতা: হাওড়া থেকে চেন্নাই পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিল ৭০টিরও বেশি পরিবার। হঠাৎই লকডাউন ঘোষণা হাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় কারখানা। আগাম কোনও নোটিস ছাড়াই  কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়ে ওই পরিবারগুলো। মাসের শেষে কারখানা বন্ধ হওয়ায় দিন কয়েকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাড়িতে থাকা রেশন। কারখানার মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে গত মাসের কাজ করা দিনগুলোর বেতন পাচ্ছিল না শ্রমিকরা। একই ঘটনা দিল্লিতেও ঘটে কোচবিহার থেকে কাজ করতে যাওয়া ৩৫ জন পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষেত্রে। এই খবর পৌঁছায় কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে। তারা উদ্যোগী হয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ পাইয়ে দেয় লকডাউনের মধ্যেই।

দীর্ঘ লক ডাউনের ফলে দিন আনি দিন খাই মানুষেরা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের যন্ত্রণার কথা রোজ জানতে পারছি আমরা। শয়ে শয়ে মাইল পায়ে হেঁটে ঘরে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে ইতিমধ্যে প্রাণ হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। যদিও তাদের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও সেই ব্যবস্থা যে যথেষ্ট নয় তা রোজই দেখা যাচ্ছে। রোজগারের টানে ঘরবাড়ি ছেড়ে ভিন রাজ্যে যাওয়া এই সহায়-সম্বলহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আপনি বহু মানুষ এবং সংগঠন।

তাদের মধ্যে কলকাতার এই সংগঠনটি ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাঙালি শ্রমিকদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইতিমধ্যেই। রাজ্য প্রশাসন ভিন রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন এবং মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যেমন আটকে থাকা মাইনে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে একই সঙ্গে তাদের রেশনের ব্যবস্থা করেছে ওই সংগঠন। অনেক জায়গাতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওইসব শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের স্থানীয় দোকানে যেতে বলছে। ভিডিও কল করে দোকানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে যতটা সম্ভব দাম দর করে ওই শ্রমিকদের রেশন পাইয়া দিচ্ছেন এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে দোকানের বিল মেটাচ্ছে তারা। দিল্লি, মুম্বই, থানে, ত্রিচুর, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকার রেশন কিনে দেওয়া হয়েছে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র লিখিয়ে এনে তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। যাতে লকডাউন পর্বের মধ্যে ওই শ্রমিকদের কোনও রকম অসুবিধে না হয়।

তবে এই কাজ করতে গিয়ে কিছু খারাপ অভিজ্ঞতাও হয়েছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের। সংগঠনের পক্ষ থেকে অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ' হায়দরাবাদের সৈয়দ নগরের ১২ নম্বর গলিতে কয়েক হাজার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক থাকেন। আমাদের কাছে তারা সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছিল। সেইমতো আমাদের রাজ্যের মুখ্যসচিবের সাহায্যে ওখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু স্থানীয় থানা ভীষণভাবে অসহযোগিতা করছে।'

Soujan Mondal

First published: April 15, 2020, 6:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर