corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রবাসী চিকিৎসকদের খোলা চিঠিকেই সমর্থন,সাংসদকে 'জবাব' দিলেন বিশিষ্টজনেরা

প্রবাসী চিকিৎসকদের খোলা চিঠিকেই সমর্থন,সাংসদকে 'জবাব' দিলেন বিশিষ্টজনেরা
প্রবাসীদের চিঠি বিতর্কের জল আরও দূরে গড়াল।

বিশিষ্টজনেদের পরামর্শ, অযথা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে এই বিপন্ন সময়ে সরকারের উচিত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা অতিমারী মোকাবিলায় প্রবাসী বাঙালি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা খোলা চিঠি বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন বাংলার বিশিষ্টজনদের একাংশ। ১৪ জন অনাবাসী বাঙালি বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের মতকেই সমর্থন করে জোরালো স্বর তৈরি করলেন তাঁরা।

২২ এপ্রিল করোনা মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন ১৪ জন প্রবাসী বাঙালি বিজ্ঞানী - চিকিৎসক। রাজ্যে করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে কম পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই চিকিৎসকরা ।পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছে বলেও অভিযোগ করেন ওই অনাবাসী চিকিৎসকরা। সেই চিঠি ঘিরেই বিতর্কে সূত্রপাত।

চিঠিটি প্রকাশ্যে আসতেই কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ওই অনাবাসী ভারতীয় চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে টুইটে লেখেন 'যথাযোগ্য সম্মান রেখে বলছি আপনারা তো অন্য দেশে থেকে চিকিৎসা করছেন, কর দিচ্ছেন। ভারতের তুলনায় আমেরিকা-ব্রিটেনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। আপনাদের অনুরোধ যে দেশকে আপন করে নিয়েছেন সেখানেই মন দিয়ে কাজ করুন ।'ট্যুইটারে তিনি আরও লিখেছিলেন, 'এরকম চিঠি আপনারা কেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, ট্রাম্প বা গভর্নরদের লিখছেন না? এখানে নায়ক হওয়া খুব সহজ, তাই না?'

এই ইস্যুতেই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনদের একাংশ মহুয়া মৈত্রর নাম না করে এক বিবৃতিতে বলেছেন 'এক সাংসদ যেভাবে ওই ১৪ জন অনাবাসী চিকিৎসকদের চিঠি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা অপরিণত, অবৈজ্ঞানিক এবং প্রতিশোধমূলক।' বিবৃতিটিতে সই করেছেন তরুণ মজুমদার, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ওয়াসিম কাপুর, সব্যসাচী চক্রবর্তী, সুমন মুখোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনীক দত্ত, দেবজ্যোতি মিশ্র, শতরূপা সান্যাল, অর্ঘ কমল মিত্র ,শ্রীলেখা মিত্র ,অনিন্দ্য বোস, বাদশা মৈত্র, দেবদূত ঘোষ, সঞ্জয় নাগ, উপল সেনগুপ্ত , ঋতিকা সাহানি, সৌরভ পালৌধি, সমীর আইচ, মন্দাক্রান্তা সেন, শুভঙ্কর চক্রবর্তী পবিত্র , সরকার, সুবিমল সেন, অম্বিকেশ মহাপাত্র , গৌতম মজুমদার-সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আরো অনেকে।

বিবৃতিতে সাংসদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতারও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন ' এই সাংসদই কিছুদিন আগে সংসদে বলেছিলেন,সরকারের সমালোচনা করা মানে দেশের বিপক্ষে কথা বলা নয়, বাক স্বাধীনতার অধিকার হরণ করা ফ্যাসিজমের লক্ষণ। তাহলে এখন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে রাজ্যের বিরোধিতার তকমা দেওয়া হচ্ছে কেন? আর অনাবাসী বলে কি তাদের নিজেদের রাজ্যের সমালোচনা করারও অধিকার নেই ?'

বিশিষ্টদের যুক্তি রাজ্য সরকার কোভিড-১৯ এর মোকাবিলায় যে গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি কমিটি গঠন করেছে সেখানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও বাকিদের অধিকাংশই প্রবাসী। তাহলে এক্ষেত্রে এরকম দ্বিচারিতামূলক মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে কেন। তাঁরা এও জানিয়েছেন, যাঁরা ওই খোলাচিঠিটি লিখেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশেরই পরিবারের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। তাই তাদের উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, খোলা চিঠির প্রেরকদের প্রত্যেকেই স্বনামধন্য। বিবৃতির মাধ্যমে বিশিষ্টরা জানিয়েছেন 'মহামারীর সময় এ ধরনের আচরণে আমরা লজ্জিত বোধ করছি। মহামারী নিয়ে অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা হচ্ছে। এটা অনভিপ্রেত।'

তাঁদের সর্বশেষ পরামর্শ, অযথা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে এই বিপন্ন সময়ে সরকারের উচিত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা।

First published: May 3, 2020, 10:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर