corona virus btn
corona virus btn
Loading

গোটা বাংলায় খ্যাতি ছিল, হাসির জাদুকর এখন রাতে সুপারভাইজারের চাকরি করেন...

গোটা বাংলায় খ্যাতি ছিল, হাসির জাদুকর এখন রাতে সুপারভাইজারের চাকরি করেন...
হাসির জাদুকর বিভাস সুর।

গুলশান কুমারের হাত ধরে প্রথম ক্যাসেট করেন ১৯৮২ সালে। তারপরে এইচএমভি ,ছাড়াও আরও কত ক্যাসেট কোম্পানি ওঁকে দিয়ে কৌতুকের ক্যাসেট রেকর্ড করিয়ে ব্যবসা করেছে তার ইয়ত্তা নেই।

  • Share this:

#কলকাতা: এক সময় সকাল থেকে বিকেল অবধি বাড়ির সামনে কোনও না কোন মানুষের আনাগোনা ছিলই। এখন আর কেউ আসে না।খোঁজ ও করে না। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ চায়ের দোকানে, সেই লোকটির দেখা পাওয়া গেল। গাল ভর্তি দাড়ি ,মাথার চুল এলোমেলো। কয়েক দশকের চিন্তা যেন, মাথায় শুধু কামড়াচ্ছে। একটু কথা বলতে গেলাম।বিনয়ী হয়ে বললেন ,একটু  অপেক্ষা করুন, বাড়ি থেকে একটু ফ্রেশ হয়ে আসছি।  লোকটি অন্য কেউ নয় বিখ্যাত হাসির জাদুকর বিভাস সুরে। আটের দশকের গোড়া থেকে বাংলা কাঁপানো একজন কৌতুক শিল্পী।

সেই সময় ওঁর ক্যাসেট রমরমা ভাবে বাজারে বিক্রি হত।   গুলশান কুমারের হাত ধরে প্রথম ক্যাসেট করেন ১৯৮২ সালে। তারপরে এইচএমভি ,ছাড়াও আরও কত ক্যাসেট কোম্পানি ওঁকে দিয়ে কৌতুকের ক্যাসেট রেকর্ড করিয়ে ব্যবসা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। মিঠুন চক্রবর্তীর পছন্দের মঞ্চের কৌতুক শিল্পী - এই বিভাস সুর।  সেই বিভাস সুরকে এদিন উত্তর কলকাতার বনমালী সরকার স্ট্রিটের একটি চায়ের দোকানে পাওয়া গেল। আর পাঁচটা মানুষ, এই লকডাউনের সময় - সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজা খোলেন। আর বিভাস রাতে একটি আমদানি রপ্তানী অফিসে সুপারভাইজারের কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন।

তবে জাত কৌতুক শিল্পী ,তাঁর নিজের ভঙ্গিমাই বুঝিয়ে দেয় তিনি সত্যি এখনও হাসির জাদুকর। শব্দ দূষণের ফলে অনুষ্ঠান কমেছে। তারপরে কৌতুকের ধরনও পাল্টেছে। সব মিলিয়ে এইসব প্রবাদপ্রতিম কৌতুক শিল্পীর কদর কমেছে।  এই বিভাস সুরের কৌতুক দেখতে সাধারণ মানুষ টিকিট কেটে প্যান্ডেলে ঢুকেছেন। সে সব এখন একেবারে অতীত।

ভারতবর্ষে মিউজিক ট্র্যাকে গান করা ,প্রথম শুরু করেছিলেন বিভাস সুর। হয়তো এখন কেউ আর মনে রাখেনি সেই ইতিহাস।১৯৮২ সালে টি সিরিজে ক্যাসেট রেকর্ডিং করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালি মনে।   হঠাৎ বসতে বসতে বলছিলেন ,"একজন কৌতুক শিল্পীর মনে যে ব্যথা থাকে ,সেই ব্যথা বুঝতে না দিয়ে অন্যকে হাসানো শিল্পীর কাজ।"।

স্ত্রীর দুটটি কিডনিই বিকল। সবকিছু মিলিয়ে জীবনটা বড় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বিভাসের কাছে। মনের সঙ্গে লড়াই করে ,একেবারে অন্য জায়গায় নেমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অর্থের অভাব আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। তাই বলে এই জাদুকর এখনও জাদু ভুলে যায়নি।  উনি বারবার বলছিলেন, "লকডাউন, করোনা সবকিছু মিলিয়ে যাঁরা মাচা শিল্পী ,তাঁদের জীবনের স্বপ্ন বদলে দিয়েছে।"

ভবিষ্যতে আবার কবে মাচা হবে! লোকে ডাকবে। সে অপেক্ষা আর কতদিন থাকব কেউ জানে না।।উনি বারবার ধরে অনুরোধ করছিলেন, যদি একটা কোনও সম্মানযোগ্য কাজ জোটে - তাহলে সংসার ও স্ত্রীর চিকিৎসা ঠিকঠাক করাতে পারবেন।  সরকার কি কিছু ভাবছেন!

Published by: Arka Deb
First published: July 28, 2020, 9:00 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर