corona virus btn
corona virus btn
Loading

সাইকেলে আন্টার্কটিকা! করোনার দিনে কলম্বিয়ার জঙ্গলে ঠাঁই বাঙালি অভিযাত্রীর

সাইকেলে আন্টার্কটিকা! করোনার দিনে কলম্বিয়ার জঙ্গলে ঠাঁই বাঙালি অভিযাত্রীর
বাঙালির নতুন "শংকর" অনির্বান আচার্য।

থমকে গেলেও থেমে যাওয়া নেই অনির্বাণের অভিধানে। আপাতত স্থির করেছেন, করোনার প্রকোপ মিটলেই তিনি আবার সাইকেলে পা দেবেন।

  • Share this:

মূলস্রোতের খেলার সঙ্গে যারা জড়িত তাঁরা অনেকেই অনির্বাণকে চেনেন না। আবার অনেকে চেনেনও। ভারতে যে হাতেগোণা সাইক্লিস্ট বিশ্ব ভ্রমণের স্বপ্নে মশগুল,তাঁদের অন্যতম অনির্বান আচার্য।সম্প্রতি তিনি আন্টার্কটিকা অভিযানে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম। করোনার জেরে আপাতত বিদেশ বিভুঁইয়ে দুর্গম এক জঙ্গলে দিন কাটছে এই তরুণের। প্রতিনিয়ত চলছে অস্বিত্ব রক্ষার লড়াই।

ঢাকুরিয়ার ছেলে অনির্বাণ (৩৪) ইতিমধ্যেই সারা ভারত, বাংলাদেশ সহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম সাইকেলে ঘুরেছেন। এইবার পালা ছিল উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার। গত বছর (২০১৯)  জুলাই মাসে তিনি সাইকেল চালানো শুরু করেন ইউএসএ'র সানফ্রান্সিসকো থেকে। পাঁচ মাসে প্রায় ৪৫০০ কিলোমিটার চালিয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে পাড়ি দিয়েছিলেন লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ায়। রাজধানী বোগোটাতে কিছুদিন কাটিয়ে আবার দু'চাকায় দুনিয়াদারি শুরু। ইচ্ছে ছিল, আমাজন অরণ্যের মধ্যে দিয়েই ঢুকবেন পেরু। কিন্তু আমাজনে ঢোকার মুখে সান আগুস্তিনে থমকাল অভিযান। বলা ভাল, করোনার কাঁটাই আটকে দিল তাঁর যাত্রাপথের আনন্দগান। কলোম্বিয়া, পেরু দুই দেশেই করোনার প্রকোপ রয়েছে। সেই সংক্রমণ এড়াতেই সান আগস্তিনের এক জঙ্গলে দিন কাটাছে বাঙালির এই নতুন 'শংকর'।

ঘন জঙ্গল, পদে পদে বিপদ অপেক্ষা করছে। ঠিক যেন চাঁদের পাহাড়ের সেই জীবনযুদ্ধ। তবে শঙ্করের যেমন অ্যালভারেজ ছিল, তেমনই সৌভাগ্যক্রমে পথ চলতে চলতে অনির্বাণের পরিচয় হয়ে গিয়েছে একদল ভবঘুরের সঙ্গে। তাঁরা সারা বছর ধরেই লাতিন আমেরিকা জুড়ে কখনও ব্রাজিল, কখনও আর্জেন্টিনা বা কখনও কলম্বিয়ায় ভ্রমণ করেন। তাঁরাই আপন করে নিয়েছেন অনির্বাণকে। জঙ্গলের মধ্যেই এক জায়গায় দল বেধে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার এখনও মজুত রয়েছে খানিকটা।জঙ্গল থেকে কাঠ জোগাড় করে রান্না করছে দলেরই লোকজন।

এই ঘন জঙ্গলেই ঠাঁই হয়েছে অনির্বানের। ছবি: চন্দন বিশ্বাস এই ঘন জঙ্গলেই ঠাঁই হয়েছে অনির্বানের। ছবি: চন্দন বিশ্বাস

অনির্বাণ অবশ্য আশ্বস্ত করে জানালেন, ভাল আছেন। তাঁর কথায়, "ভাষার একটু সমস্যা হলেও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ খুবই বর্ণময় এবং উপকারী। অভিযানে বেরিয়ে বহুবার রাস্তায় পেট্রোল পাম্প, ফায়ার স্টেশন বা টেন্টে থাকতে হয়েছে। এবার নাহয় একটু বেশিই অ্যাডভেঞ্চার হচ্ছে।"

থমকে গেলেও থেমে যাওয়া নেই অনির্বাণের অভিধানে। আপাতত স্থির করেছেন, করোনার প্রকোপ মিটলেই তিনি আবার সাইকেলে পা দেবেন। আমাজন পেরিয়ে পেরু, চিলে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল হয়ে চলে যাবেন পৃথিবীর দক্ষিণতম বিন্দু আন্টার্কটিকা পর্যন্ত।

-চন্দন বিশ্বাস।

(লেখক পরিচিতিঃ চন্দন বিশ্বাস সাইক্লিং,পর্বতারোহণরে মত অপ্রচলিত স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত। )

First published: March 24, 2020, 5:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर