corona virus btn
corona virus btn
Loading

EMI স্থগিত করানোর নামে নয়া কৌশলে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, লক ডাউনে সক্রিয় 'জামতারা গ্যাং'  

EMI স্থগিত করানোর নামে নয়া কৌশলে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, লক ডাউনে সক্রিয় 'জামতারা গ্যাং'  

অ্যাপ বেসড ফুড ডেলিভেরি সংস্থার থেকে যারা খাবার কিনে কোনও কারণে তা বাতিল করেছেন বা পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট হননি, কিংবা টাকা ফেরত চাইছেন তারাই টার্গেট জামতারা চক্রের কাছে।

  • Share this:

#কলকাতাঃ  লক ডাউন চলুক বা স্বাভাবিক ছন্দে থাকুক দেশ, এক নম্বর ব্যাঙ্ক জালিয়াত চক্র 'জামতারা গ্যাং' সর্বদাই সক্রিয়। আর এই লক ডাউনেও তারা রীতিমত 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' করছে, এমনটাই বলছেন দেশের তাবড় গোয়েন্দারা।কারণ, এই লক ডাউন পর্বেও নতুন নতুন কায়দায় মানুষকে ঠকিয়ে টাকা হাতানোর ফন্দি বানিয়ে ফেলেছে তারা। ইতিমধ্যেই অনেক গ্রাহক এই জামতারা চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের জমাপুঞ্জি খুইয়েছেন। বাধ্য হয়ে মানুষকে সচেতন করতে নামতে হয়েছে দেশের এক নম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে। জালিয়াতদের নয়া কারসাজি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারাও।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, লক ডাউন পর্বে জামতারা চক্র মূলত নতুন দু'টি পন্থায় মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন পর্বের শুরুতেই ঘোষণা করেছিল, আগামী তিন মাসের জন্য সমস্ত ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ইএমআই দিতে হবে না। সেই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়ে মানুষকে ঠকাচ্ছে জামতারা চক্র। বেশ কিছু ক্ষেত্রে যে সব গ্রাহকের লোন রয়েছে এবং ইএমআই দিতে হয়, তাঁদের কাছে বাঙ্কের প্রতিনিধি সেজে ফোন করছে জালিয়াতরা। ইএমআই স্থগিত করার নাম করে ফোন করে ওটিপি জানতে চাওয়া হচ্ছে। ওটিপি দিলেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট। দ্বিতীয়ত, যে উপায় অবলম্বন করছে জালিয়াতরা তাতে টার্গেট নেট ব্যাঙ্কিংয়ের গ্রাহকরা। গ্রাহকদের নেট ব্যাঙ্কিং প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড বদলানোর নাম করে টাকা হাতাচ্ছে প্রতারকরা। গ্রাহকদের কাছে এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে ১৮০ দিন ধরে গ্রাহকরা তাঁদের পাসওয়ার্ড বদলা করেননি। পাসওয়ার্ড বদলানোর জন্য একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকছে ওই এসএমএসে। সেই লিঙ্কে যারা ক্লিক করছেন, তাঁরাই  পড়ছেন জালিয়াতের খপ্পরে। হ্যাক হয়ে যাচ্ছে তাদের অ্যাকাউন্ট। টাকা চলে যাচ্ছে জামতারা চক্রের জালিয়াতির কাছে।

এই দুটি নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেই আপাতত লক ডাউন পর্বে সাধারণ মানুষের টাকা হাতাচ্ছে জালিয়াতরা। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দেশের গোয়েন্দারা। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত ইএমআই জালিয়াতির জালিয়াতির অভিযোগ না এলেও, নেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড বদলানোর নাম করে যে জালিয়াতি হচ্ছে তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন কলকাতা পুলিশ। লকডাউন পর্বে নিজেদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে গ্রাহকরা কী কী করবেন সে বিষয়ে সতর্কবার্তাও জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। এই দুই পদ্ধতির পাশাপাশি জামতারা চক্র তাদের পুরনো পদ্ধতিতেও এখনও সক্রিয় অর্থাৎ ইউপিআই ফ্রডের মাধ্যমেও টাকা হাতাচ্ছে তারা।

কিভাবে?

এক্ষেত্রে অ্যাপ বেসড ফুড ডেলিভেরি সংস্থার থেকে যারা খাবার কিনে কোনও কারণে তা বাতিল করেছেন বা পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট হননি, কিংবা টাকা ফেরত চাইছেন তারাই টার্গেট জামতারা চক্রের কাছে। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সেই অ্যাপের ভেতরে কাস্টমার কেয়ার নম্বর থাকা সত্ত্বেও, অনেকেই তাড়াহুড়োর কারণে গুগলে গিয়ে সার্চ করেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে নিজেদের নম্বর ঢুকিয়ে দিচ্ছে জালিয়াতরা। তারপর কোন গ্রাহক যখনই কাস্টমার কেয়ারের নম্বর খুঁজছেন, প্রথমেই জালিয়াতদের নম্বর সামনে ভেসে উঠছে। সেই নম্বরে ফোন করলেই চলে তা চলে যাচ্ছে সোজা জালিয়াতদের কাছে। তারপর তারাই সেই সংস্থার কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি সেজে গ্রাহককে ফাঁদে ফেলছেন। প্রথমে গ্রাহকের নম্বরে পাঠানো হচ্ছে একটি লিঙ্ক। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই ফোন হ্যাক হয়ে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সব তথ্য চলে যাচ্ছে জালিয়াতদের কাছে। তারপর হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এই পদ্ধতিকেই ইউপিআই ফ্রড বলছেন গোয়েন্দারা। লকডাউন পর্বে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে ইউপিআই ফ্রড সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মা বলেন, "এরকম জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে হলে ব্যাঙ্কের নাম করে ফোন করে ওটিপি চাইলে কখনই অন্য কাউকে তা বলবেন না বা লিংক পাঠালে তাতে ক্লিক করবেন না। তাহলেই নিরাপদ আপনার অ্যাকাউন্ট।"

SUJOY PAL

First published: April 17, 2020, 6:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर