Coronavirus Horror in Pune: ২ দিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আগলে বসে ছোট্ট শিশু, জুটল না খাবারও

২ দিন ধরে মায়ের কাছেই বসে ছিল ১৮ মাসের শিশুটি । সামান্য খাবারটুকুও জোটেনি তার । করোনার ভয়ে এগিয়ে আসেননি কোনও প্রতিবেশীও ।

২ দিন ধরে মায়ের কাছেই বসে ছিল ১৮ মাসের শিশুটি । সামান্য খাবারটুকুও জোটেনি তার । করোনার ভয়ে এগিয়ে আসেননি কোনও প্রতিবেশীও ।

  • Share this:

    #মুম্বই: দেশ জুড়ে লাগামছাড়া করোনা সংক্রণ (Coronavirus 2nd Wave) । করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বেসামাল আমাদের দেশ । প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, হাসপাতালে বেড নেই, নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনও । অসহায় মানুষের আর্তি, হাহাকার চারিদিকে । শ্মশানে জমছে মৃতদেহের স্তূপ, সৎকার করার জায়গা নেই । কবরস্থানেও জায়গা জুটছে না মৃতদেহ সমাধিস্থ করার । সংবাদ মধ্যমের পাতায় একেরপর এক ভেসে আসছে হৃদয় বিদারক নানা চিত্র । কোথাও স্বামীর দেহ আকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী, কোথাও বা ছেলেকে ফিরিয়ে না আনতে পারার বুক ফাটা আর্তনাদ মায়ের । কোথাও বা চরম আমানবিকতার ছবি উঠে আসছে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ।

    এমনই এক যন্ত্রণার চিত্র দেখল মহারাষ্ট্র । মায়ের মৃতদেহ আঁকড়ে বসে রয়েছে এক দুধের শিশু । দু’দিন ধরে তার পেটে দানাপানিও পড়েনি । করোনা সংক্রমণের ভয়ে যারাই এই দৃশ্য দেখেছে, তারাই পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছে । মৃতদেহটি সৎকারের ব্যবস্থা পর্যন্ত করেনি কেউ । মহারাষ্ট্রের পুণেতে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে ।

    জানা গিয়েছে, সম্ভবত গত শনিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল ওই মহিলার । তার আগে ২ দিন ধরে মায়ের কাছেই বসে ছিল ১৮ মাসের শিশুটি । সামান্য খাবারটুকুও জোটেনি তার । করোনার ভযে এগিয়ে আসেননি কোনও প্রতিবেশীও । শেষে মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করলে আশেপাশের বাড়ির লোকেরা পুলিশে খবর দেয় । তারপর পুলিশ এসে ওই মহিলার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় । শিশুটিকেও উদ্দার করা হয়েছে । হাসাপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে শিশুটি মারাত্মক দুর্বল ছিল, তার গায়ে জ্বরও ছিল । তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সে এখন সুস্থ আছে । তার করোনা রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে । পুলিশ ইন্সপেক্টর প্রকাশ জাদব জানিয়েছেন, “মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে উত্তর প্রদেশে গিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ওনার ফিরে আসার অপেক্ষা করছি।”

    মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারের পর শিশুটিকে যত্ন করে দুধ পান করান মহিলা কনস্টেবল সুশীলা গাভালে এবং রেখা ওয়াজে। সুশীলা বলেন, তাঁর বাড়িতেও আট ও ছয় বছরের দু’টি বাচ্চা রয়েছে । শিশুটিকে দেখে সবার প্রথমে নিজের সন্তানের কথাই মনে হয়েছে তাঁর । তিনি একটু দুধ দিতেই শিশুটি তা নির্দ্বিধায় পান করে নিয়েছে । বোঝা যাচ্ছে, তার কতটা খিদে পেয়েছিল ।

    Published by:Simli Raha
    First published: