CoronaVirus: সতর্ক রাজ্য, ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাতায়াতকারীদের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন

CoronaVirus: সতর্ক রাজ্য, ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাতায়াতকারীদের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন
সংগৃহীত ছবি

চিনের প্রাচীর টপকে অনেক আগেই ভারতে ঢুকে পড়েছে নভেল করোনা ভাইরাস। তবে কিছুটা সতর্ক থাকলেই এড়ানো যাবে এই সংক্রমণ।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনায়  আক্রান্ত হলেই মৃত্যু নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার মাত্র দুই থেকে তিন শতাংশ। তবুও করোনার আতঙ্কে কাঁপছে একাধিক দেশ।  সেই তালিকায় ভারতও। বেশ কয়েকজনের শরীরে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে ভারত সরকারের তরফে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মধ্যে বিশেষ তফাৎ নেই । দুটি ক্ষেত্রেই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রায় একই।

শহরের  চিকিৎসক রাহুল জৈন বলেন, "যাঁদের সর্দি কাশি আছে, তাঁদের কাছ থেকে সাত থেকে আট ফুট দূরত্বে থাকাটা নিরাপদ। তবে আতঙ্কের কিছু নেই।" মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ বা কারও পরিবারের সদস্যদের এই মুহুর্তের অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাতায়াত আছে এমন মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সামান্য সাবধান আর সচেতন থাকলেই সংক্রমণ ছড়াবে না।" চিকিৎসক মহলের বক্তব্য,  সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বিশেষ মাস্ক পড়ারও প্রয়োজন নেই, বাজারে যে সাধারন মাস্ক পাওয়া যায়, তাতেই করোনা  সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে  যথেষ্ট।

অযথা আতঙ্কিত হবেন না বলে গতকালই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তবুও করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে সরকারের তরফে। এ রাজ্যের তরফেও ভাইরাস মোকাবিলায় যথেষ্ট নজরদারি চালানো হচ্ছে। ২১টি বিমানবন্দর এবং ৭৭টি বন্দরেও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। যার মধ্যে কলকাতাও রয়েছে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কার্যত হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরে। বিদেশ ফেরত বিমান যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বিমানবন্দর কর্মীদেরও মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পড়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে বিমানবন্দরে ২৪ঘন্টা  নজরদারিতে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে  অ্যাম্বুলেন্স-সহ মেডিকেল ক্যাম্প সকাল ছ'টা থেকে বেলা দু'টো, বেলা দু'টো থেকে রাত আট'টা এবং রাত আট'টা থেকে পরের দিন সকাল আট'টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা বিমানবন্দরে থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

এরকমই এক স্বাস্থকর্মী আরতি ঘোষ বলেন, "কোন যাত্রীর করোনা ভাইরাসের  উপসর্গ  নজরে এলেই বিমানবন্দরে থাকা চিকিৎসকেরা সেই যাত্রীকে পরীক্ষা করছেন। প্রয়োজন হলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কলকাতার বেশ কয়েকটি নামজাদা বেসরকারি হাসপাতালেও আইসোলেশন  ওয়ার্ডের  ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।  সতর্কতা  হিসেবে চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটি পরামর্শ  দিচ্ছেন।

* হাত ভাল করে না ধুয়ে চোখ, নাক, মুখে হাত দেবেন না।

*হাত বারবার ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

* ভিড় এলাকা' এড়িয়ে চলুন।

* হাঁচি-কাশির সময় নাক মুখ ঢেকে রাখুন।

*মাস্ক ব্যবহার করুন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ,  এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই শরীরে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে। চিনের প্রাচীর টপকে অনেক আগেই ভারতে ঢুকে পড়েছে নভেল করোনা ভাইরাস। তবে কিছুটা সতর্ক থাকলেই এড়ানো যাবে এই সংক্রমণ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের তরফে। তবে "High Risk" রয়েছে এমন দেশে যাতায়াতকারী মানুষজনের সঙ্গে এই মুহূর্তে প্রত্যক্ষভাবে  মেলামেশা  না করারই  পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বর্তমানে এত উন্নত হয়েছে সেক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই।

VENKATESWAR  LAHIRI

First published: March 5, 2020, 12:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर