corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা আবহেও ICSE ও ISC পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক গড়ে ৭০ শতাংশ পড়ুয়া, দাবি শহরের নামী স্কুলগুলির

করোনা আবহেও ICSE ও ISC পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক গড়ে ৭০ শতাংশ পড়ুয়া, দাবি শহরের নামী স্কুলগুলির
সংগৃহীত ছবি

করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা বাকি পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক কিনা , তা জানতে সম্প্রতি আইসিএসই বোর্ডের তরফে দু'দফা প্রস্তাব দেওয়া হয় অভিভাবকদের ।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা আবহে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দেবে ? তাই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিভাবকরা । মুম্বই হাইকোর্টে মহারাষ্ট্রের অভিভাবকদের পাশাপাশি সিবিএসই-র বাকি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিভাবকদের একাংশ ।

করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা বাকি পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক কিনা , তা জানতে সম্প্রতি আইসিএসই বোর্ডের তরফে দু'দফা প্রস্তাব দেওয়া হয় অভিভাবকদের ।  সেখানে বলা হয় , স্কুলে এসে লিখিত পরীক্ষা দিতে পারে পড়ুয়ারা । তা না চাইলে আগে নেওয়া পরীক্ষা বা ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ওপর ভিত্তি করে নম্বর দেওয়া হবে বিষয়ভিত্তিক । বোর্ডের তরফে এই প্রস্তাবের পর কলকাতার একাধিক বেসরকারি স্কুলের অভিভাবকরা বেশিরভাগই পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন । অন্তত এমনই তথ্য উঠে আসছে বিভিন্ন স্কুলের দেওয়া পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে । আইসিএসই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহের সংখ্যার নিরিখে আইএসসি বা দ্বাদশ শ্রেণীর  পরীক্ষার্থীদের আগ্রহের সর্বাধিক বলেই শহরের একাধিক বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপালরা দাবি করছেন ।

এ প্রসঙ্গে সেন্ট্রাল মডার্ন স্কুলের প্রিন্সিপাল নবারুণ দে বলেন, "বেশিরভাগ স্কুলেই আইএসসি বা দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৯০ শতাংশের বেশি পড়ুয়া । তবে আইসিএসই বা দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ । " আইএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ বেশি থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "দ্বাদশ শ্রেণির বহু ছাত্রছাত্রীর অন্যান্য রাজ্যে বা বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার প্রবণতা থাকে । তাই লিখিত পরীক্ষায় নম্বরের ওপরেই ভরসা করতে চাইছেন পড়ুয়ারা ।"

ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে পরীক্ষা দিতে চাইছে? এ প্রসঙ্গে বুধবার দুপুর বারো'টা পর্যন্ত অভিভাবকদের মত জানানোর সময়সীমা ছিল ।  লা মার্টিনিয়ার , ডন বস্কো , প্র্যাট মেমোরিয়াল , রামমোহন মিশন , ফিউচার ফাউন্ডেশন-সহ একাধিক আইসিএসই বোর্ড অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলের হিসেব বলছে , আইএসসি পরীক্ষা দিতে চায় ৯০ শতাংশেরও বেশি পড়ুয়া । কোন কোন স্কুলে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ।

অন্যদিকে , আইসিএসই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন শতকরা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পড়ুয়া । মূলত যেহেতু অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের স্কুল এই আইসিএসই পরীক্ষা দেওয়ার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে যায় , তাই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কম বলেই দাবি স্কুলের প্রিন্সিপালদের । আইএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ হওয়ার কারণ , পড়ুয়াদের অন্যান্য রাজ্যে বা বিদেশে পড়তে যাওয়া । তাঁদের অনেকের আশঙ্কা ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট আগে হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার নম্বরের  গুরুত্ব না দিতে পারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় ।

এ প্রসঙ্গে রামমোহন মিশন স্কুলের প্রিন্সিপাল সুজয় দাস বলেন " যেহেতু অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই আইএসসি পড়াশোনার পর উচ্চশিক্ষায় বিদেশে পড়তে চায় , তাই বোর্ড পরীক্ষার ওপর তাদের নির্ভরতা রয়েছে । তাই তারা ইন্টারনালের বদলে বোর্ড পরীক্ষার ওপরেই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে ।" একই মত ফিউচার ফাউন্ডেশন স্কুলের প্রিন্সিপাল রঞ্জন মিত্রের । তিনি বলেন , "পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের বয়সটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে । কারণ যারা আইসিএসই দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দেবে তাদের বয়স ১৬ । এক্ষেত্রে তাদের বাবা-মায়েরা ঝুঁকি নিয়ে ছেলে-মেয়েদের পাঠাতে চাইছেন না । অন্যদিকে , যারা আইএসসি বা দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দেবে তাদের বয়স ১৮ । সে ক্ষেত্রে অনেকটাই অভিভাবকদের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাটা সহজ হয় ।"

প্রসঙ্গত, সিবিএসই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর বোর্ড তা বৃহস্পতিবারই সুপ্রিমকোর্টকে জানানোর কথা । সিবিএসই বোর্ডের সুপ্রিম কোর্টকে জানানো এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় সেদিকে অবশ্য তাকিয়ে রয়েছে আইসিএসই বোর্ড । এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা বাকি রয়েছে । মঙ্গলবারই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন , সুপ্রিমকোর্টের পদক্ষেপ এবং অন্যান্য রাজ্যের বোর্ড গুলো কী করছে সেদিকে নজর রয়েছে । তাই বৃহস্পতিবারের সুপ্রিম কোর্টের শুনানি পর্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের বোর্ড পরীক্ষার প্রেক্ষিতে ।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Shubhagata Dey
First published: June 24, 2020, 6:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर