গাড়ি চলছে না, টাকা কোথায় সংসার চালানোর? লকডাউনের পরেও কীহবে, আশঙ্কায় অ্যাপ ক্যাব চালকরা

চালকের পাশে কোনও যাত্রী বসতে পারবেন না। ক্যাবে সামনের ও পিছনের আসনের মাঝামাঝি প্লাস্টিকের আস্তরণ থাকবে

অ্যাপ ক্যাব অপারেটর গিল্ড চাইছে চালকদের হাতে নুন্যতম কিছু টাকা জোগাড়ের ব্যবস্থা করা হোক। যাতে তারা অন্তত খাবার বা মুদিখানার জিনিষ কিনতে পারে।

  • Share this:

#কলকাতা: অভ্যাস বদলেছে কলকাতা। ছেড়েছে হলুদ ট্যাক্সি। সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও মুখ ফিরিয়েছে নীল-সাদা ট্যাক্সি থেকে। কলকাতা আপন করে নিয়েছে আরামের অ্যাপ ক্যাবকে। ওলা-উবেরের দৌরাত্ম্যে পিছিয়ে পড়েছে শহরের আইকনিক হলুদ ট্যাক্সি। কিন্তু লকডাউনের জেরে মিলে গিয়েছে আরামের অ্যাপ ক্যাব আর শহরের অভ্যাস হলুদ ট্যাক্সি।

বিমানবন্দর থেকে হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন। চোখ ঘোরালেই  নজরে আসত ওলা-উবেরের। হিসেব বলছে শুধু কলকাতাতেই এই অ্যাপ ক্যাব আছে সংখ্যায় প্রায় ২৫০০০। যদিও প্রতিদিন শহরের রাস্তায় এত গাড়ি চলাচল করত না। কিন্তু চাহিদা মেনে গাড়ি চলে যা তাতে দৈনিক আয় হয় চালকদের প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। কিন্তু এই কঠিন সময়ে সেই টাকা আয় করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে চালকদের।

টালিগঞ্জের বাসিন্দা দিলীপ মন্ডল।  আগে চালাতেন হলুদ ট্যাক্সি। এখন চালান অ্যাপ ক্যাব। তার কথায়, "দিনে চারটে থেকে পাঁচটা ট্রিপ করতাম। যে টাকা আয় হত তাতে সংসার চালানো থেকে শুরু করে বাকি কাজ সবটাই হয়ে যেত। কোনও অসুবিধা ছিল না। এখন যা অবস্থা তাতে ২৫ দিন হল গ্যারেজ থেকে গাড়ি বার করতে পারিনি। কবে বার করতে পারব তাও জানি না। যদিও সংসার খরচ তো আর থেমে নেই।" লকডাউন চললেও খাদ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিষ  কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অ্যাপ ক্যাব চালকদের।

একই গল্প বাঘাযতীনের ছোটুর। নিজে পয়সা জমিয়ে সেই টাকায় গাড়ি কিনেছেন। সেই গাড়ি এখন চলাচল করে এক নামী অ্যাপ ক্যাব সংস্থায়। কিন্তু পরিষেবা বন্ধ। ফলে আয়ও বন্ধ। ছোটুর কথায়, "আমি তো একদিকে গাড়ির ই এম আই, অন্যদিকে ভাবছি রোজকার খাওয়া দাওয়া খরচ সব নিয়েই ভাবছি। যদি গাড়ি না চলে তাহলে তো বড় অসুবিধায় পড়ব। তেমনি হাতে টাকা না আসলে কি যে হবে তা বুঝতে পারছিনা।" না বোঝার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে অ্যাপ ক্যাব চালকদের। সাহায্য চেয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

অ্যাপ ক্যাব অপারেটর গিল্ড চাইছে চালকদের হাতে নুন্যতম কিছু টাকা জোগাড়ের ব্যবস্থা করা হোক। যাতে তারা অন্তত খাবার বা মুদিখানার জিনিষ কিনতে পারে। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল  বন্দোপাধ্যায় জানান, "লকডাউন উঠে গেলেও আমাদের চালক ও মালিকদের সুরাহা হওয়া মুশকিল। কারণ হাতে পয়সা না পেলে কে আর এই অ্যাপ ক্যাবে উঠতে পারবে। তাই আমাদের মতো পরিবহণ সংগঠনের সমস্যা ভেবে দেখা হোক।" সমস্যার সমাধান হবেই এই আশা থাকলেও কিভাবে হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন চালক মালিক সব পক্ষই।

Published by:Pooja Basu
First published: