corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘‌কলকাতাবাসীকে করোনা কাহিল করতে পারে দ্রুত!‌’‌ মার্কিন বাঙালি গবেষকের কথায় বাড়ছে চিন্তা

‘‌কলকাতাবাসীকে করোনা কাহিল করতে পারে দ্রুত!‌’‌ মার্কিন বাঙালি গবেষকের কথায় বাড়ছে চিন্তা

ভার্জিনিয়া ফেয়ারফক্সের বাসিন্দা ডক্টর দেবাঞ্জনা দাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন জলবা‌য়ু ও পৃথিবী বিজ্ঞান নিয়ে। পরিবেশের কারণে করোনা সংক্রমণ কি হতে পারে?‌ দেখে নিন, কী বললেন বিজ্ঞানী।

  • Share this:

#‌ভার্জিনিয়া:‌ ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফক্স এলাকায় রয়েছি আমি। আমি পেশাগত দিক থেকে একজন জলবা‌য়ু ও পৃথিবী বিজ্ঞানী। আপনারা সকলেই জানেন পৃথিবীতে ক্রমে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আমেরিকাতেই অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আমি যেখানে আছি, ভার্জিনিয়া প্রদেশের ফেয়ারফক্স নামে এই ছোট্ট এলাকায় এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮৫–এর বেশি। ভার্জিনিয়া প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৪৫। বুঝতেই পারছেন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। মৃতের সংখ্যা ১০০ ছুঁয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮০০ জন। গত সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২, হাসপাতালে ভর্তি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০০–এর কম। বুঝতেই পারছেন, একধাক্কায় সংখ্যা অনেকটা করে বাড়ছে। তাই স্থানীয় লোকেরা আতঙ্কে আছেন। কিন্তু কিছু তো করার নেই, বাজার দোকান করতেই হচ্ছে। তবে আমি বলব, আপনারা যেখানেই যাবেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। কমপক্ষে তিন থেকে ছ’‌ফুট দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

আমার বিষয়ের নিরিখে পুরো ব্যপারটা দেখলে আবার অন্য একটি চিত্র উঠে আসবে। আপনারা জানেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, যাঁদের আগে থেকে অন্য কোনও রোগ আছে, তাঁদের করোনা সংক্রমণে ঝুঁকি বেশি। কলকাতার পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাই আমার চিন্তা বেড়েছে। কলকাতায় দূষণের মাত্রা বেশ চড়া থাকে। পিম ২.‌৫ কনার পরিমাণ কলকাতার বাতাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আমরা সেই বাতাসেই দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে আছি। মানে এই দূষিত কনা নিয়মিত আমাদের ফুসফুসে ঢুকে পড়ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ফুসফুসেই করোনা আক্রমণ করে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, আগে থেকেই আমরা অজান্তে আমাদের ফুসফুসের ক্ষতি করে রেখেছি। ফলে করোনার সামনে আমরা প্রথমেই বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে থেকে শুরু করছি।

COVID 19 ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের পথ রুদ্ধ করে দেয়। ‌দূষিত বায়ুতে থাকার ফলে কলকাতার মানুষের ফুসফুস এমনিতেই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় নেই। ফলে করোনা আক্রান্ত হলে দ্রুত তাঁরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আমাদের কিছু করার নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা দূষিত বায়ুতে থেকে এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে বলেছি, কলকাতা শহর ও পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশের উন্নতির জন্য কাজ করা উচিত। বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকালে মনেই হচ্ছে, এখনও আরও গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশের বিষয়টি দেখা উচিত। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও একই কথা বলে চলেছেন।

এসবের বাইরেও বলতে চাই, পৃথিবীর নানা প্রান্তের লোকেরা এখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তাও আমাদের মাস্ক ও স্যানিজাইজেশন নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এখানে অনেকদিন হল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। আমি বাড়ি থেকেই কাজকর্ম করছি। এভাবে দূর থেকে কাজ করা কখনও কখনও একাকীত্বের জন্ম দিচ্ছে, অনিচ্ছা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু করোনাকে হারাতে আমাদের এভাবেই লড়াই করতে হবে। এপ্রিলের শেষে আমার ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সবাই এখন আটকে পড়েছি। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে আমার এখন কোথাও না যাওয়াই উচিত। তাই যাচ্ছিও না।

সত্যি বলতে, আমরা এতদিন ধরে পরিবেশের বিষয়ে তেমন খেয়াল রাখিনি। করোনার আক্রমণ আমাদের শেখাচ্ছে যে পৃথিবীটা আমাদের একার নয়। আমরা অনেকের সঙ্গে এই পৃথিবী ভাগ করে নিয়েছি। তাই জঙ্গল, সমুদ্র, বন্যপ্রাণী, সবাইকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। আমার মনে হয়, আমরা পারব। ভালবাসা, স্নেহ ও একে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেই আমরা একদিন এই যুদ্ধ জয় করতে পারবই।

First published: April 9, 2020, 6:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर