Home /News /coronavirus-latest-news /
শহরের বুকে ১০ দিনে করোনা আক্রান্তের বিল ৮ লক্ষ! বেঁচে শুরু ফের 'বাঁচার' লড়াই 

শহরের বুকে ১০ দিনে করোনা আক্রান্তের বিল ৮ লক্ষ! বেঁচে শুরু ফের 'বাঁচার' লড়াই 

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

১০ দিন হাসপাতালে ছিলেন। বিল হয়েছে ৮,০৮,২৫৫ টাকা। ভেন্টিলেশন ছাড়া এমন বিলে হতবাক বেলঘরিয়ার শহিদ মহলের মণ্ডল পরিবার।

  • Last Updated :
  • Share this:

#কলকাতা: লড়াই যেন থামতেই চায় না। ৬৯ বছর বয়সে করোনা যুদ্ধ জিতে, ফের শুরু আরও এক লড়াই। বাঁচার লড়াই। সৌজন্যে বেসরকারি হাসপাতালের লাগামছাড়া বিল।

১০ দিন হাসপাতালে ছিলেন। বিল হয়েছে ৮,০৮,২৫৫ টাকা। ভেন্টিলেশন ছাড়া এমন বিলে হতবাক বেলঘরিয়ার শহিদ মহলের মণ্ডল পরিবার। প্রাণ বাজি রেখে নিউ আলিপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ৬ লক্ষ টাকার কোভিড প্যাকেজে ভর্তি হয়েছিলেন মণ্টু মণ্ডল। রেলের প্রাক্তন চাকুরে মন্টু মণ্ডল অবসর নেন ২০১১ সালে। কাঁচড়াপাড়া ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। দিন কয়েক আগে করোনা আক্রান্ত হন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো সঞ্চয়টুকুও শেষ। হাত পাততে হয়েছে আত্মীয়-পরিজনের কাছে।

মণ্টু মণ্ডলের করোনা মোকাবিলার কাহিনী বড়ই করুণ। শারীরিক কসরত করে তিনি নিজেকে ফিট রাখেন এমনিতেই। কোনও কো-মরবিডিটি নেই। বয়স চিন্তা করে  এবং করোনা মোকাবিলার সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করে বাড়িতে আনিয়ে রেখেছিলেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। কিন্তু করোনা সংক্রমণের পর অক্সিমিটার সূচক ৯০-এর নিচে নামতেই হাসপাতালের খোঁজ শুরু করেন। বহু কষ্টে বেহালা নার্সিংহোমে ভর্তি হন ২৭ জুলাই। লক্ষ টাকা বিল বানিয়ে ২৯ জুলাই হাসপাতাল জানায় তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ। তাই দ্রুত ছাড়তে হবে খালি করতে হবে বেহালা হাসপাতালের বেড।

এরপর ১২০০০ টাকা খরচ করে অ্যাম্বুল্যান্সে পৌঁছন নিউ আলিপুরের  বেসরকারি  হাসপাতালে। বিপি পোদ্দার হাসপাতাল জানায়, কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ১০ দিনের প্যাকেজ ৬ লক্ষ টাকা। প্রাণ বাঁচাতে অগত্যা সেখানেই ভর্তি হন। ৮ অগাস্ট জানানো হয় রোগী সুস্থ। ৯ অগাস্ট সকালে ছাড়া হবে। ৯ অগাস্ট সকালে বিল ধরানো হয় ৮,০৮,২৫৫ টাকার। কোভিড প্যাকেজ ৬ লক্ষ, তবে বিল ৮ লক্ষ ছাড়ালো কীভাবে?

মন্টু মণ্ডলের মেয়ে লিজা মণ্ডল জানান, "খুব বেশি হলে ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার কথা বলেছিল হাসপাতাল। কিন্তু বিল নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতেই হাসপাতাল বলে ১.৬ লক্ষ টাকার মেডিসিন রয়েছে।" এরপর পরিবারের সঙ্গে কার্যত বচসা শুরু হয়। হাসপাতাল বিকেলে জানায় ছাড় দিয়ে বিল দিতে হবে ৬.৭ লক্ষ টাকা। তার থেকে কম কোনও ভাবেই করা যাবে না। লিজা জানান,  "৬ লক্ষ টাকার প্যাকেজে কোনও মেডিসিন ছিল না! এটা কীভাবে সম্ভব!  কয়েক ডজন ইনজেকশন বাবাকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আদৌ ক'টা ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ। সরকার বিষয়টি দেখুক। তা নাহলে বাবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও না খেয়ে মরতে হবে আমাদের।"

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোহিত ডি ভগত জানান, " বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে আমরা তা বিবেচনা করব। হাসপাতালে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ করলে নিশ্চিত বিষয়টা ভেবে দেখা হবে।"

ARNAB HAZRA

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Coronavirus