PPE পরে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের সোনার হার আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আবারও বিতর্কে কলকাতা মেডিক্যাল

ফাইল ছবি

এক কোভিড আক্রান্ত রোগিনীর সোনার অলঙ্কার ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা। যদিও কর্তব্যরত নার্সের তৎপরতায় তা আটকানো গিয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: ফের বিতর্কের মুখে কলকাতা মেডিকেল কলেজের করনা রোগী নিরাপত্তা। ৭ মে থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল করোনা হাসপাতাল হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে আর বিতর্ক পিছুই ছাড়ছে না। দিনের পর দিন করোনা রোগী ভর্তিতে হয়রানি,হেনস্থা লেগেই থাকত। ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীদের খবর পৌঁছানো, ফোনে কথা বলা,জামা কাপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগ এমনকি চিকিৎসক লিখে দেওয়ার পরেও আইসিইউ তে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি করতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ। কোনও কিছুই আর বাদ থাকছিল না।

বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগে নতুন অন্তর্ভুক্তি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সুপার স্পেশালিটি ব্লক বা এস এস বি ব্লকের সাত তলায় 772 নম্বর বেডের  এক কোভিড আক্রান্ত রোগিনীর সোনার অলঙ্কার ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা। যদিও কর্তব্যরত নার্সের তৎপরতায় তা আটকানো গিয়েছে।

অভিযোগ এদিনই ভর্তি হওয়া বসিরহাটের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এক কোভিড আক্রান্ত রোগিণীকে বাথরুমে নিয়ে যান করোনা এর সময়ে নিযুক্ত হওয়া দুই চুক্তিভিত্তিক কর্মী।অভিযোগ সেখানেই সেই কর্মীরা পিপি ই পরিহিত অবস্থায় তাকে বলেন যে তার সঙ্গে থাকা সোনার যে অলঙ্কার আছে তা বাড়ির লোক চেয়েছে তা যাতে খুলে তাদের দেওয়া হয়। রোগিনী সেই কথা মানতে না চাইলে বলা হয়, করোনা ওয়ার্ডে কোনো রোগীর সোনার অলঙ্কার পড়ার নিয়ম নেই,সে গুলি জমা রাখতে হবে। রোগিনীর সোনার আংটি,হার খুলে নিতে চেষ্টা করে তারা বলে অভিযোগ।

উত্তপ্ত বাদানুবাদের সময় বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সের নজরে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে মেডিকেল কলেজ ফাঁড়িতে জানান এবং সুপার অফিসে জানান। দ্রুত মেডিক্যাল কলেজের ভিতরে থাকা বউবাজার থানার যে পুলিশ ফাঁড়ি আছে,সেখান থেকে পুলিশ এসে দু জনকে আটক করে। রোহিত মাঝি,ধরম বীর নামে দুই চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বউবাজার থানায় নিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরো এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী এন জ্ঞানেশ্বর কেও আটক করে পুলিশ।

এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে। এর আগেও মাস খানেক আগে হাওড়া উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত গ্রিন বিল্ডিঙে চিকিৎসাধীন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর পর তার বাবা অভিযোগ তুলেছিল তার মেয়ের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন,চার্জার চুরির। তারপরেও এদিনের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীরা কতটা অসহায়,এমনটাই বলছেন অনেক করোনা আক্রান্তের আত্মীয়রা। তবে এদিনের ঘটনা নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও মুখ খোলেনি।

Avijit Chanda

Published by:Elina Datta
First published: