বাবাকে পোড়াতে গেল না ছেলে!‌ হিন্দু বৃদ্ধের শেষকৃত্য করে কর্তব্য পালন মুসলিম সংগঠনের

Representative Image. (REUTERS/Adnan Abidi)

এখনও পর্যন্ত ৬০টি দেহ সৎকার করেছেন তাঁরা। যাঁদের মধ্যে ২১ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। সেই করোনায় মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন ছিলেন হিন্দু

  • Share this:

    #‌মুম্বই:ছেলে থাকেন নাগপুরে। এদিকে মা, বাবা দু’‌জনেই‌ ভর্তি হাসপাতালে। হঠাৎই খবর এল, প্রয়াত হয়েছেন বৃদ্ধ পিতা। হাসপাতালে তখন করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি মৃতের স্ত্রী, ‌মানে ছেলের মা। পরিস্থিতি এমন খারাপ বুঝেও এগিয়ে আসেননি ছেলে। উল্টে মৃত পিতার শেষকৃত্য করতেও অস্বীকার করেন তিনি। আর তখনই এগিয়ে আসে এক মুসলিম সংগঠন। ওই বৃদ্ধের শেষকৃত্যর দায়িত্ব নেয় তাঁরা। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্যের উদাহরণ তৈরি করে।

    মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলায় করোনা পরবর্তী সময়ে প্রথম মৃত্যু ছিল সেটি। আর নিজের শহরে এমন কাণ্ড ঘটায় এই সংগঠনের সদস্যরা ঠিক করেন, শেষকৃত্য তাঁরা করবেন। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত ৬০টি দেহ সৎকার করেছেন তাঁরা। যাঁদের মধ্যে ২১ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। সেই করোনায় মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন ছিলেন হিন্দু।

    আকোলা সরকারি হাসপাতালে তাই এখন প্রায়ই আলোচনা হয় এই সংগঠনটিকে নিয়ে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রশাসন্ত রাজুরকর সংবাদমাধ্যমে জানান, আকোলা কাচ্চি মেমন জামাত নামে সংগঠনটি নিজেরাই সৎকার করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তাই কেউ আর বাধা দেয়নি, বরং পাশে থেকেছে।

    সংক্রমণের ভয়ে এখন সৎকারের কাজ থেকে পরিবারের নিজের লোকেরাই অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসছেন। দেশ থেকে একের পর এক খবর সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পরিবারের সদস্যরাই মৃতদেহ সৎকার করতে অস্বীকার করছেন। তখনই এগিয়ে আসছেন অনেকে। ঠিক যেমন ভাবে ভিন্নধর্মের মানুষ হয়েও সৎকারের কাজে এগিয়ে এসে আবারও এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করল মুম্বইয়ের সংগঠন।

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: