corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা আবহেই শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, নিষিদ্ধ হল ফুল দিয়ে পুজো দেওয়া, সঙ্গে জারি একাধিক বিধিনিষেধ

করোনা আবহেই শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, নিষিদ্ধ হল ফুল দিয়ে পুজো দেওয়া, সঙ্গে জারি একাধিক বিধিনিষেধ
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " এবার থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল বেলায় ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকবে। মন্দির খোলার ২০ মিনিট আগেই যেমন মন্দিরের সিংহদুয়ার খোলা হবে তেমনি মন্দির বন্ধ হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই সিংহদুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা মন্দির চত্বরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দির ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর ঘরের ভেতরে প্রবেশ বা অবস্থান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"

১৩ জুন সকাল সাতটায় খুলবে মন্দিরের দ্বার ৷ করোনা সাবধানতায় জারি একাধিক বিধিনিষেধ ৷

  • Share this:

#কলকাতা: আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ৷ অবশেষে দ্বার খুলছে মা ভবতারিনীর মন্দিরের ৷ শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির ৷ ১৩ জুন সকাল সাতটায় খুলবে মন্দিরের দ্বার ৷ করোনা সাবধানতায় জারি একাধিক বিধিনিষেধ ৷

দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মন্দিরের গর্ভগৃহে আর ঢোকা যাবে না ৷ মন্দিরে ঢোকার আগে বাধ্যতামূলক থার্মাল স্ক্যানিং ৷ মন্দির চত্বরে একসঙ্গে বেশি লোক থাকতে পারবেন না ৷ এবার থেকে প্রসাদ আনা গেলেও কোন ফুল দিয়ে আর পুজো দেওয়া যাবে ৷ পুজোর লাইনে ৬ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে ৷ মন্দিরের ভিতরে ঢুকে ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে তবেই মা কালীকে পুজো দেওয়া যাবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য মন্দিরের ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর মার্ক করে দেওয়া হয়েছে। পায়ের ছাপ দেওয়া মার্কগুলিতেই দর্শনার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই পুজো দিতে পারবেন।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " এবার থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল বেলায় ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকবে। মন্দির খোলার ২০ মিনিট আগেই যেমন মন্দিরের সিংহদুয়ার খোলা হবে তেমনি মন্দির বন্ধ হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই সিংহদুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা মন্দির চত্বরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দির ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর ঘরের ভেতরে প্রবেশ বা অবস্থান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"

অবশেষে স্বস্তির খবর দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ভক্তদের জন্য। দীর্ঘ দু'মাসেরও বেশি লকডাউন এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবহেই অবশেষে শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। তবে মন্দির খুললেও একাধিক স্বাস্থ্য বিধি মেনেই মন্দিরে ঢুকতে হবে দর্শনার্থীদের। মন্দিরে ঢোকার সময়েই দর্শনার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হবে। তাপমাত্রা মাপার পর স্যানিটাইজার টানেলের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মন্দিরের ভেতরে ঢুকতে হবে। তবে মন্দিরের ভেতরে ঢুকলে ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য নির্দিষ্ট করে মার্ক করে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের দাঁড়ানোর জন্য।৬ ফুট দূরত্ব অনুযায়ী মার্ক করে দর্শনার্থীদের দাঁড়াতে হবে। এপ্রসঙ্গে মন্দির কমিটির আছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " একসঙ্গে মন্দিরের ভেতর ৪০০ জন থাকতে পারবেন। কিন্তু ১০ জন থেকে ২৫ জন পর্যন্ত পুজো দিতে পারবেন। কোনভাবেই মন্দিরের ভেতরে বা মন্ত্রী সংলগ্ন এলাকায় কোন বসে থাকা বা জমায়েত করা যাবে না।"

তবে শুধু মন্দিরের ভেতর নয়, মন্দির সংলগ্ন ডালার দোকানগুলি নিয়েও একাধিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মূলত জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে এই ডালার দোকানগুলি খুলবে। তার সঙ্গে পাশাপাশি কোনভাবেই দোকান খুলবে না। ডালার দোকানগুলো পাশাপাশি খাবারের দোকান নিয়েও একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দির সংলগ্ন এলাকাতে যে খাবারের দোকানগুলো রয়েছে সেখানে কোনো ভাবেই বসে খাওয়া যাবেনা। তবে বাড়ি অব্দি খাবার নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। মন্দির সংলগ্ন যে দালাল দোকানগুলি থাকবে প্রত্যেকটি দোকানেই স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মন্দিরের তরফে।

বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলন করে মন্দির কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে প্রসাদ নিয়ে মাকে পুজো দেওয়া গেলেও আপাতত কোন ফুল বা সিঁদুর দিয়ে পুজো দেওয়া যাবে না। এপ্রসঙ্গে মন্দির কমিটির তরফ এ অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " ফুলের মধ্যেও ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। তাই ফুল দেওয়া যাবে না। সিঁদুর, চন্দন কিছুই আপাতত দেওয়া যাবে না। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে প্রসাদ দিয়ে পুজো দিলেও সেগুলি পুরোহিতরা নেবেন একটি নির্দিষ্ট বাস্কেটে। যতটা সম্ভব চেষ্টা করা হবে যাতে পুরোহিতরা স্পর্শ থেকে দূরে থাকেন।"

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে মন্দির কমিটির তরফে সব পুরোহিত দেরই পিপিই কিট পরে কাজ করতে বলা হয়েছে। মন্দিরের ভেতর থেকে শুরু করে মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষী পর্যন্ত সবাই আপাতত পিপিই কিট পড়ে কাজ করবেন। এ প্রসঙ্গে কুশল বাবু জানান " আমাদের সব সময় সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। এটা আমাদের কাছে একটা কঠিন লড়াই। আমরা চেষ্টা করব সর্তকতা মাধ্যমে যাতে নিশ্চিতভাবে সব ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা যায়।" এদিকে দীর্ঘদিন বাদে শনিবার থেকে মন্দির খোলায় দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা থাকছে। একদিকে খুব কম সময়ের জন্য মন্দির খোলা থাকবে দ্বিতীয়ত নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে ঢোকানো হবে দর্শনার্থীদের। তাই সেই দিক মাথায় রেখো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারটের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তিনি জানান " শনি ও রবিবার দর্শনার্থীদের ভিড় অনেকটাই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যাতে কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘিত না হয় বা গা ঘেঁষাঘেঁষি না হয় তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা থাকবে মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেই। এমনকি স্কাইওয়াকেও থার্মাল স্ক্রিনিং হবে দর্শনার্থীদের।"

শর্ত সাপেক্ষে পয়লা জুন থেকেই রাজ্যে ধর্মীয় স্থান অর্থাৎ মন্দির খোলায় সরকার সবুজ সঙ্কেত দিলেও সুরক্ষার কথা ভেবে সমস্ত দিকে তৈরি না হয়ে মন্দিরের দ্বার না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ ৷ এদিন ছিল ট্রাযাল রান, তারপরই শনিবার থেকে মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ ৷

Somraj Bandopadhyay

Published by: Elina Datta
First published: June 11, 2020, 1:38 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर