বর্ধমানে যাযাবর পরিবার ছিল খালি পেটে, চাল ডাল পৌঁছে দিল প্রশাসন

সড়ক গণ পরিবহনের পাশাপাশি বিগত কয়েক দিন ধরেই বন্ধ রেল পরিষেবাও

সড়ক গণ পরিবহনের পাশাপাশি বিগত কয়েক দিন ধরেই বন্ধ রেল পরিষেবাও

  • Share this:

#‌বর্ধমান:‌ ‌যাযাবর পরিবার। কোন রাজ্যের বাসিন্দা তাঁরা জিজ্ঞাসা করেননি কেউই। কী কাজ করেন তাঁরা, কীভাবে সংসার চলে জানারও ফুরসত ছিল না। রেল স্টেশনের পাশে বাঁশঝাড়ের নীচে চলছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু দেশ জুড়ে চলা লকডাউন স্থানীয় লোকেদের সঙ্গে কাছাকাছি আনলো তাঁদের। টানা কয়েক দিন একরকম অভুক্ত তাঁরা জানতে পেরেই চাল, ডাল, ডিম নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গোটা দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে লকডাউন চলছে। যার ফলে সড়ক গণ পরিবহনের পাশাপাশি বিগত কয়েক দিন ধরেই বন্ধ রেল পরিষেবাও। এর ফলে প্রবল অসুবিধার মধ্যে পড়েছে রেল স্টেশনের ধারে আশ্রয় নেওয়া যাযাবর পরিবারগুলি। পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার অন্তর্গত জাহাননগর পঞ্চায়েতের দ্বীপের মাঠ এলাকায় বেশ কিছু যাযাবর পরিবার বাঁশ বাগানের নীচে আশ্রয় নিয়েছিল বিগত কয়েক মাস ধরে। তাঁরা বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শেকড়-বাকড় জোগাড় করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। লকডাউনের ফলে তাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় তীব্র আর্থিক অনটন। চাল ডাল শেষ হয়ে গেছে কয়েক দিন আগেই।

গতকাল বিকেলে পথচলতি বাসিন্দারা তাঁদের দেখার পর জাহান্নগর পঞ্চায়েত প্রধান সুভাষ ঘোষকে পুরো বিষয়টি জানায়। তারপরই আজ সকালে জাহান্নগর পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর কিছু কর্মীদের নিয়ে গিয়ে ওই সাতটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, আলু, পেঁয়াজ ও ডিম পৌঁছে দিলেন। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিও দিলেন, লকডাউন না ওঠা পর্যন্ত সব খাদ্য সামগ্রী তাঁরা নিজেরাই এসে দিয়ে যাবেন। পঞ্চায়েত প্রধানের মানবিক আচরনে খুশি পরিবারগুলি।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন রেল স্টেশনেই অনেকে রয়েছেন। তাঁরা যাতে কেউ অভুক্ত না থাকেন, ঠিকমতো চিকিৎসা পান তা দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ক্লাব তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও ভবঘুরেদের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Saradindu Ghosh
Published by:Uddalak Bhattacharya
First published: