corona virus btn
corona virus btn
Loading

বেঁচে থাকলে আবার হিরো হব, এখন মানুষের কথা ভাবা প্রয়োজন, বলছেন দেব

বেঁচে থাকলে আবার হিরো হব, এখন মানুষের কথা ভাবা প্রয়োজন, বলছেন দেব
ছবির জন্য মন খারাপ নয়, মানুষের কথাই ভাবতে চাইছেন দেব।

দেবেরও তৈরি ছবি পড়ে রয়েছে। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়। অর্থের প্রয়োজন যদি প্রবল হয়, হয়তো ছবির দাম ঠিক মতো দিলে, ছবি অনলাইনে বিক্রি দিতে হবে।

  • Share this:

#কলকাতা: তিনি প্রযোজক জনপ্রিয় অভিনেতা নেতা। আবার তিনি নেতাও। তৈরি হওয়া ছবি পরে রয়েছে, মুক্তির অপেক্ষায়। বিপুল অর্থ লগ্নি রয়েছে হয়ে গিয়েছে।  আবার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মানুষের প্রতিও তাঁর দায় এখন অগ্নিপরীক্ষার মতো। তিনি সুপাস্টার দেব তথা সংসদ দীপক অধিকারী, এই বিপদের সময়ে নিজের অভিনেতা সত্ত্বা নয়, মানুষকেই প্রথম স্থান দিচ্ছেন। এই বিষয়েই নিউজ১৮  বাংলার সঙ্গে তাঁর কথা হল।

অনেক দিন ধরেই নিজের কনস্টিটিউশন দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন দেব। জেলা শাসকরা বারণ করেন। দেব এলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন। সামাজিক দূরত্ব মানবেন না। তাই এত দিন ঘাটালে যাননি তিনি। অবশেষে পশ্চিম মেদিনীপুরে পা রাখলেন ১৬ মে।

প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যত নিয়ে মূলত ছিল এই বৈঠক। দেব বললেন, ‘ঘাটালে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন, পর্যাপ্ত কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নেই। তাঁরা থাকতেও চাইছেন না। কিন্তু এই সব শ্রমিকদের বাড়িতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব। একটা ঘরে্ই ৫-৬ জন থাকেন। তাই বড় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার চেষ্টা চলছে। ঘাটালে প্রচুর সংক্রমন নেই। তবে বহু শ্রমিক ফিরছেন। তাঁদের মধ্যে যদি কেউ কেরিয়ার হয়, সেটাই চিন্তার।’

পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে বৈঠকে দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে বৈঠকে দেব।

ঘাটালের স্বর্ণশিল্পীরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। তাঁদেরকে ফেরানো হচ্ছে। কোন ব্লকে ক’জন ফিরতে পারে, সে সব তালিকা তৈরি হচ্ছে।। দেবের কথায়, ‘যতটা সহজ টিভিতে দেখে মনে হচ্ছে, বিষয়টা ততটা সহজ নয়। এর জন্যই আরও ছুটে গিয়েছিলাম।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে ভীষণ নিরুপায় লাগছে দেবের।

করোনার কাঁটা তো রয়েছেই। তার মধ্যেই অনাহার, বাড়ি ফেরার চেষ্টায় মারা যাচ্ছেন মানুষ। কোনও সরকার, রাজনৈতিক দলকে দোষ দিচ্ছেন না তিনি। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভাবা উচিত ছিল, বলে মনে করেন দেব।

তাঁর কথায়, ‘পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরলে যে কাজ পাবেন, এমন তো নয়। হয়তো যে বাড়িতে থাকতেন সে বাড়িওয়ালা আর রাখতে চাইছেন না হয়তো। দু’বেলা খাবার জুটছে না। কেন্ত্রীয় সরকার এবং যে রাজ্য তাঁরা আছেন, সেই রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। দু‘বেলা খাবার পৌঁছে দিলে ও থাকার জায়গা দিলে, তাঁরা মাইলের পর মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরতে চাইতেন না। দশ শতাংশ হয়তো চাইতেন। দশ শতাংশকে ফেরানো অনেক সোজা।"

কেন্দ্রের আর্থিক প্যাকেজ নিয়েও সরব দেব। বললেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে, এক লক্ষ কোটি টাকাও যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগানো হতো, তাহলে কাল থেকে রাস্তায় আর কাউকে দেখা যেত না। প্রবাসীদের ফেরানোর জন্য বিমান পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু যাঁরা শ্রমিক, যাঁদের ছাড়া আমাদের চলবে না, তাঁদের রাস্তায় মরতে হয়েছে, এটাই কষ্টের৷"

’রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি বিনোদন জগতের প্রতিনিধি হিসেবেও দেবের কিছু দায়িত্ব রয়ছে। তাঁর সহ প্রযোজকদের টাকাও আটকে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দেব বললেন, "সত্যি কথা বলতে সবার আগে আমি মানুষ। এই মুহূর্তে মানবিক হওয়ার প্রয়োজন, সবচেয়ে বেশি। টাকা রোজগার করবো, হিরো ছিলাম, বেঁচে যদি থাকি আবার হিরো হব।"

ছবির ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তত দেব। হল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। দেবের কথায়, "সিঙ্গল স্ক্রিন হল মালিকরা রীতিমতো কন্নাকাটি করছেন। তাঁদের এত ইলেক্ট্রিক বিল দিতে হচ্ছে, এত ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। অথচ আয় নেই। আমাকে অনুরোধ করছেন আমি সরকারকে বলে যদি কিছু টাকা মুকুব করে দিতে পারি। আমি আবেদনপত্র দিতে বলেছি। আমি তো কোনও জাদুকর নই, কিন্তু চেষ্টা করছি।"

দেবেরও তৈরি ছবি পড়ে রয়েছে। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়। অর্থের প্রয়োজন যদি প্রবল হয়,  হয়তো ছবির দাম ঠিক মতো দিলে, ছবি অনাইনে বিক্রি দিতে হবে। কিন্তু মন থেকে একেবারেই সেটা চান না দেব। তিনি বললেন, "ছবি বানাই বড় পর্দার জন্য। আজকে খারাপ সময়, কালকে হয়তো থাকবে না। করোনা থাকবে। মানুষ তার মধ্যেই বেঁচে থাকার রাস্তা করে নেবে। সিনেমা হল খোলার উপায় একটা বেরোবে নিশ্চয়ই। সকলে শর্টকাট চাইলে পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে।"

Arunima Dey

Published by: Arka Deb
First published: May 18, 2020, 12:16 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर