corona virus btn
corona virus btn
Loading

খাবার-জল কিছুই নেই, চূড়ান্ত নোংরা বাথরুম, ক্ষোভে ফুঁসছেন শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনের যাত্রীরা

খাবার-জল কিছুই নেই, চূড়ান্ত নোংরা বাথরুম, ক্ষোভে ফুঁসছেন শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনের যাত্রীরা
ফাইল ছবি

ট্রেনের বাথরুম নোংরা। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং শিকেয়। অথচ ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৯২০ টাকা। আসানসোল স্টেশনে বিভিন্ন দাবিতে এদিন কার্যত মারমুখী হয়ে ওঠেন ট্রেনের যাত্রীরা।

  • Share this:

#আসানসোল ও দুর্গাপুর: পয়েন্ট টু পয়েন্ট চলছে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন।ব্যাঙ্গালুরু থেকে নিউ জলপাইগুড়ি একটি ট্রেন এ দিন সকালে দুর্গাপুরে এসে দাঁড়ায় ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য। তখনই বাঁধে গোল। যাত্রীদের চরম বিক্ষোভের মুখে পড়ে রেল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন। রেলে ফিরে আসা যাত্রীদের দাবি,  তাঁরা বহু অনুরধ করে পুরুলিয়া বা বাঁকুড়ায় নামতে পারেননি। কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নামতে দেওয়া হয়নি। ফলে বাড়ি ফেলে বহুদূর চলে এসেছেন তাঁরা। ফের তাঁদের অনেকটা রাস্তা ফিরতে হবে। এছাড়া ট্রেনে পর্যাপ্ত খাবার এবং জলের ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে এদিন শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন থেকে যাঁরা নেমেছেন দুর্গাপুর এবং আসানসোল স্টেশনে, তাঁরা সকলেই চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। লকডাউনের জেরে আটকে পড়েন। সকলেই জানিয়েছেন, নিজেরা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে চেপেছিলেন ফেরার জন্য। তাঁদের দাবি, ট্রেনের বাথরুম নোংরা। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং শিকেয়। অথচ ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৯২০ টাকা। আসানসোল স্টেশনে এদিন কার্যত মারমুখী হয়ে ওঠেন ওই যাত্রীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে যাত্রীদের প্রশ্ন, "সরকার কি আমাদের মেরে ফেলতে এমন ব্যবস্থা করেছে ?"

এদিকে, ট্রেন আসানসোলে পৌঁছালে তাঁদের স্টেশনে নামিয়ে দেওয়ার দাবিতে  বিক্ষোভ শুরু হয়। কারণ, চূড়ান্ত অব্যবস্থায় তাঁরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা সামান্য কোথাও কোনও সুরক্ষা ছিল না বলে দাবি যাত্রীদের। তার উপর নেই খাবার, জল। বিক্ষোভ যখন চরমে তখন আসানসোল রেল ডিভিশনের সিকিউরিটি কমিশনার চন্দ্র মোহন মিশ্র যাত্রীদের নামিয়ে খাওয়াদাওয়া-সহ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ প্রতিহত হয়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আসানসোলে ২৪ জন যাত্রীকে এই স্পেশ্যাল ট্রেন থেকে নামানো হয়। তারপর তাঁদের খাবারের বন্দবস্ত করে, প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বাড়ি ফেরানর ব্যাবস্থা করা হয়। যাত্রীরা আসানসোলে নামতে পেরে খুবই খুশি। জেলাপ্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এদিন রেলের সঙ্গে কথা বলে ২৪ জন যাত্রীকে নামানো হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে সরকারি বাসে করে। পাশাপাশি পানীয় জল ও কিছু টিফিনেরও ব্যবস্থা করা হয় আসানসোল রেল স্টেশনে।

এদিকে, দুর্গাপুরে ৫৭ জন যাত্রী এদিন নেমে পড়েন স্টেশনে। তাঁদের মধ্যে ৮ জন শিশু ছিল। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রথমে আপত্তি করা হয়, কারণ সেখানে কোনও চিকিৎসার বন্দবস্ত ছিল না। কিন্তু যাত্রীরা কোনভাবেই এনজেপি পর্যন্ত যেতে রাজি ছিলেন না। তাঁদের দাবি, সকলেরই বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তার উপর অনেকেই অসুস্থ। সঙ্গে বাচ্চা রয়েছে। একেই এতদিন বাইরে থাকায় শরীর অবসন্ন। তার উপর এটা রাস্তা গিয়ে ফিরে আসা খুবই অসুবিধাজনক। এরপর তাঁদের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসিয়ে প্রথমে খাবার ও জলের বন্দোবস্ত করা হয় রেল এবং স্থানীয় প্রশাসনের তরফে। শিশুদের জন্য দুধের ব্যাবস্থা করা হয়। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের বাসে করে বাড়ি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

Published by: Shubhagata Dey
First published: May 14, 2020, 3:17 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर