করোনা ভাইরাস

corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাঁচতে গেলে শিশুটার রক্ত চাই, সারা শরীরে ক্ষত নিয়েই ছুটছিলেন বাবা, তারপর...

বাঁচতে গেলে শিশুটার রক্ত চাই, সারা শরীরে ক্ষত নিয়েই ছুটছিলেন বাবা, তারপর...
হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার মহম্মদ নিয়াজুদ্দিন

কোনও গল্পেরর বইয়ে ঠাঁই পাবেন না নিয়াজুদ্দিন। তবে শুভেন্দু-সুপ্রিয়র জীবনে তাঁর স্থান গল্পের চেয়ে কিছু বেশি।

  • Share this:

#কলকাতা: ঘড়ির কাটায় তখন সকাল সাড়ে এগারোটা। কিন্তু সময়টা যে অন্য। লকডাউনে জনশূন্য হাওড়া ব্রিজ। এমন দিনেই মরণাপন্ন ছেলেকে নিয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটছিলেন এখ বাবা। তাঁর ধ্যানজ্ঞান একটাই, বাঁচাতে হলে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ছেলেটাকে রক্ত দিতে হবে। কিন্তু বাধ সাধল অ্যাক্সিডেন্ট। আশা ছেড়ে দিচ্ছিলেন মালিপাঁচঘড়ার শুভেন্দু ভুক্ত। কিন্তু কথায় বলে, রাখে হরি মারে কে। যদিও শুভেন্দুবাবুর সন্তানটি যে আজ শ্বাস নিচ্ছে, তার নেপথ্যে ঈশ্বর নয়, রয়েছেন এক সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার কলকাতার দিকে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে থামানো হয় হাওড়ার দিক থেকে শুভেন্দুবাবুর বাইক। আরোহীর গায়ে রক্তের দাগ দেখে স্বাভাবিক ভাবেই কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারেরা বাইক আরোহীর কাছে জানতে চাইলেন কী ঘটেছে? কেন শরীরে, জামা-কাপড়ে রক্তের দাগ?

শুভেন্দুবাবু পুলিশকে জানান, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ১১ বছরের ছেলে সুপ্রিয়র জন্য এক বোতল রক্ত আনতে হাওড়ার মালিপাঁচঘরা থেকে কলকাতার পদ্মপুকুরে একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে আসছিলেন। কুড়ি দিন অন্তর ব্লাড ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হয় সুপ্রিয়র। শুক্রবার ছিল সুপ্রিয়র ব্লাড ট্রান্সফিউশনের দিন। করোনা পরিস্থিতির জন্য স্বেচ্ছা-রক্তদাতা না পেয়ে শুভেন্দু ঠিক করেছিলেন, ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে বিনিময়ে ছেলের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত আনবেন। লকডাউনের মধ্যে বেরিয়ে তাড়াহুড়োয় হাওড়া ব্রিজে ওঠার মুখেই দুর্ঘটনায় পড়েন। রাস্তায় বাইকের চাকা কোনও ভাবে পিছলে যায়। কেটে-ছড়ে যায় শরীরের নানা জায়গায়। তাতেই পোশাকে রক্তের দাগ লাগে।

কিন্তু অসুস্থ সন্তানের জন্য রক্ত চাই। তাই চোটের পরোয়া না করে সেই অবস্থাতেই বাইক তুলে ফের রওনা দেন শুভেন্দু। নাকা চেকিংয়ে তাঁকে আটকান কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারেরা।

গোটা ঘটনা শোনার পরে হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার মহম্মদ নিয়াজুদ্দিন এগিয়ে এসে আহত শুভেন্দুবাবুকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই শরীর নিয়ে তাঁর রক্ত দেওয়ার দরকার নেই, তার বদলে তিনিই শুভেন্দুবাবুর সন্তানের জন্য রক্ত দেবেন।

নিয়াজুদ্দিনের এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই নাকা চেকিংয়ে উপস্থিত অফিসারেরা তাঁকে শুভেন্দুর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দেন। পদ্মপুকুরে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে ‘এ পজিটিভ’ রক্ত দেন মহম্মদ নিয়াজুদ্দিন। পরিবর্তে ছেলের জন্য ‘ও পজিটিভ’ রক্ত নিয়ে হাওড়ার হাসপাতালে ফেরেন শুভেন্দু। রক্ত পায় ১১ বছরের সুপ্রিয়।

সুপ্রিয় এখন হাসছে, আর নীরবেই কাজে ফিরে গিয়েছে নিয়াজুদ্দিন। কোনও গল্পেরর বইয়ে ঠাঁই পাবেন না নিয়াজুদ্দিন। তবে শুভেন্দু-সুপ্রিয়র জীবনে তাঁর স্থান গল্পের চেয়ে কিছু বেশি।

Published by: Arka Deb
First published: August 22, 2020, 10:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर