corona virus btn
corona virus btn
Loading

আবারও অ্যাম্বুলেন্সের দাদাগিরি! মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য হাঁকালো ৯ হাজার টাকা

আবারও অ্যাম্বুলেন্সের দাদাগিরি! মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য হাঁকালো ৯ হাজার টাকা
Representative Image

কলকাতা মেডিকেল কলেজে রোগীকে আনার পরই তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। এইটুকু রাস্তা আসার জন্য এত টাকা কীভাবে নিতে পারে একটা অ্যাম্বুলেন্স তার জবাব চান তারা।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা আবহে রাজ্য জুড়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দৌরাত্ম্য আর কমছেই না। হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে বা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্সের দাদাগিরিতে চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় পড়ছে অসংখ্য করোনা আক্রান্ত রোগীর পরিবার। বৃহস্পতিবার এই রকমই এক অ্যাম্বুলেন্সের দাদাগিরির ছবি উঠে এল কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাওড়ার বাসিন্দা হরি ওম আগরওয়াল, ৪০ বছর বয়স। দিন কয়েক আগে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয় তার। একের পর এক হাসপাতালে ঘুরেও বেড পায়নি তার পরিবার। শেষমেষ বহু কষ্টে সল্টলেকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় হরি ওম আগারওয়ালকে। সেখানেই করোনা পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় যে তিনি করোনা পজিটিভ। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে পর্যন্ত দিতে হয়। শরীরে একদিক প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। হাসপাতালের বিল অনেক টাকা হয়ে যাওয়ায় রোগীর পরিবার বহু কষ্টে শাসক দলের এক মন্ত্রীর সাহায্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজে একটা বেডের ব্যবস্থা করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা মেডিকেল কলেজে তাকে স্থানান্তরিত করার সময় ঘটে বিপত্তি।

সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কোনও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছিল না কলকাতা মেডিকেল কলেজে করোনা আক্রান্ত হরি ওম আগরওয়ালকে নিয়ে আসার জন্য। শেষমেষ বেলঘড়িয়ার একটি অ্যাম্বুলেন্স ৯ হাজার টাকায় মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বের কলকাতা মেডিকেল কলেজে আসতে রাজি হয়। অসহায় রোগীর পরিবার এক প্রকার বাধ্য হয়েই এই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে। কলকাতা মেডিকেল কলেজে রোগীকে আনার পরই তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। এইটুকু রাস্তা আসার জন্য এত টাকা কীভাবে নিতে পারে একটা অ্যাম্বুলেন্স তার জবাব চান তারা। করোনা আক্রান্ত রোগীর মেয়ে মমতা আগরওয়াল হতাশায় ভেঙে পড়ে বলেন,' সরকার কি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না? আমাদের মতন অসহায় পরিবারের পাশে কেউ দাঁড়াতে পারে না। কেন একের পর এক হাসপাতাল আমাদের ঘুরতে হল। এটুকু রাস্তা আসতে  ৯ হাজার টাকা কেউ নিতে পারে!' অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স চালক এর বক্তব্য,'এখানে আমার কোনও ভূমিকা নেই। আমার মালিকের সঙ্গে রোগীর পরিবারের টাকার কথা হয়েছে। তবে এই রোগীর পরিবার অত্যন্ত অভদ্র আচরণ করেছে আমার সঙ্গে। এখানে আমার দোষ কোথায়?'

এই ঘটনা প্রকাশ্যে এনে দিল রাজ্যজুড়ে ঘটে চলা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দাদাগিরিকে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অসহায় রোগীর পরিবার থেকে অ্যাম্বুলেন্স গুলির হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে৷ এমনই অভিযোগ৷ তবে এখনও পর্যন্ত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ঠিক করা নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে কোনও রকম নির্দেশিকা জারি করা হয়নি ।

Published by: Pooja Basu
First published: August 20, 2020, 7:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर