৬ মিনিটের হাঁটা পরীক্ষায় জানা যাবে সংক্রমণ কতটা, কোভিড নিয়ে পরামর্শ IMA প্রেসিডেন্টের

৬ মিনিটের হাঁটা পরীক্ষায় জানা যাবে সংক্রমণ কতটা, কোভিড নিয়ে পরামর্শ IMA প্রেসিডেন্টের

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (Indian Medical Association) সভাপতি জে.এ. জয়লাল (J.A. Jayalal) নয়টি পথ বাতলে দিয়েছেন যার সাহায্যে করোনার পজিটিভ রিপোর্?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মারণ ভাইরাস কোভিড -১৯ যত দিন যাচ্ছে তত শক্তিশালী হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এই মারণ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কিছু প্রোটোকল অনুসরণ করতেই হবে। সেই সতর্কতা পারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে। News18.com-কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (Indian Medical Association) সভাপতি জে.এ. জয়লাল (J.A. Jayalal) নয়টি পথ বাতলে দিয়েছেন যার সাহায্যে করোনার পজিটিভ রিপোর্ট এলেও সুস্থ থাকা যাবে।

স্টেপ ১: কোনও ব্যক্তি যদি অনুভব করেন যে তিনি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন বা কোনও ভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে তাঁর শরীরে, তিনি জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, গন্ধ বা স্বাদ নষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণগুলি অনুভব করছেন, সে ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা করতে হবে, নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে অন্যদের থেকে, নিজের ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে এবং রাতে ভালো করে ঘুমাতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপুর্ণ জিনিস মাথায় রাখতে হবে এই সময়কালে, পেশাদার চিকিৎসক নয় এমন কারও থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্টেপ ২: আরটি-পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিজেকে নিভৃতাবাসে রেখে, ভাল খাওয়াদাওয়া করতে হবে। পছন্দ মতো সবজি খেতে হবে। এই সময়ে মেডিটেশন অনেকটা সাহায্য করতে পারে রোগীকে। এছাড়াও নিজের জামাকাপড় আলাদাভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

স্টেপ ৩: যদি করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাহলে রোগীর ইএসআর, সিআরপি, টিসি, ডিসি, ফেরিটিন, ডি-ডিমারের (ESR, CRP, TC, DC, Ferritin, D-Dimer,) মতো পরীক্ষাগুলো করাতে হবে। এছাড়াও, পরিবারের সমস্ত সদস্যদের পরীক্ষাও করাতে হবে।

স্টেপ ৪: যদি রিপোর্ট নর্মাল আসে এবং উপসর্গগুলি হালকা থাকে তাহলেও নিভৃতাবাসে থেকে নিজের যত্ন নিতে হবে। ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে।

স্টেপ ৫: যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাঁরা ব্রাস্ক ওয়াকিং, স্কিপিং, ট্রেডমিলে শরীরচর্চা করতে পারেন। তবে শরীরে ব্যোথা অনুভব করলে না করাই ভাল। খুব ভালো হয় যদি ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা যায়। এছাড়া যোগাসন করা যেতে পারে এটা ভীষণ লাভদায়ক। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ৬ মিনিট হাঁটা পরীক্ষা। এটা খুব সহজেই বাড়িতে থেকে করা যায়। প্রথমে অক্সিমিটার দিয়ে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপতে হবে। আদর্শ অক্সিজেনের মান হল ৯৬ থেকে ১০০। এবার বাড়িতেই ঘড়ি ধরে ৬ মিনিট হাঁটতে হবে। অক্সিমিটার দিয়ে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপতে হবে। যদি অক্সিজেন লেভেল ৫ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে ফুসফুসে সংক্রমণ তৈরি হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

স্টেপ ৬: রোগীকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে একবার করে পালস রেট, তাপমাত্রা, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, ব্লাড প্রেসার মেপে নিতে হবে। ডায়াবেটিস-এর রোগী হলে দিনে দু'বার ব্লাড প্রেসার মেপে নিতে হবে। আট ঘন্টা ঘুম এবং সর্বনিম্ন দুই ঘন্টা প্রোন পজিশনে শুতে হবে।

স্টেপ ৭: পালস রেট যদি ১০০ বেশি, ১০০-র ওপরে ৩ দিনের বেশি জ্বর, মাথাব্যাথা ও ডাইরিয়া থাকে তাহলে একটু সতর্ক হতে হবে। কারণ এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

স্টেপ ৮: হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সকলকেই রেমডেসভির নিতে হবে এমনটা নয়। ১০-থেকে ১৫ শতাংশ মানুষের এটার প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসক যদি মনে করেন তখনই এটা দেওয়ার কথা ভাবা হয়।

স্টেপ ৯: প্রথম রিপোর্ট করার ৫ দিন পর আবার রিপোর্ট করাতে হবে, দেখে নিতে হবে CRP বেড়ে যেন না যায়। যত দিননা করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে ততদিন নিজেকে আলাদা রাখাই শ্রেয়।

Published by:Raima Chakraborty
First published: