corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার মতো পরিস্থিতির জন্য প্রায় ৫৫% ভারতীয় আরও বেশি সঞ্চয়ের পক্ষপাতি, বলছে সমীক্ষা

করোনার মতো পরিস্থিতির জন্য প্রায় ৫৫% ভারতীয় আরও বেশি সঞ্চয়ের পক্ষপাতি, বলছে সমীক্ষা
Representational Image

করোনার মতো পরিস্থিতির জন্য আরও বেশি সঞ্চয়ের পক্ষপাতি অনেক মানুষ ৷ সমীক্ষার রিপোর্টে এমনটাই উঠে এসেছে ৷

  • Share this:

#কলকাতা: ভারতের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির প্রায় ১০ হাজার India Savings Behaviour-এর এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁরা করোনার মতো পরিস্থিতির জন্য আরও বেশি সঞ্চয়ের পক্ষপাতি বলেই সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে ৷

ভারতের সবচেয়ে বড় হাইপারলোকাল ফিনটেক স্টার্ট আপ PayNearby তাদের প্রথম ‘India Savings Behaviour’ রিপোর্টে জানিয়েছে যে যদিও এখন ৮০% এর বেশি ভারতীয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৷ তবু নিম্ন আয়ের তালিকায় থাকা ৭০% মানুষ এখনও চিট ফান্ড বা বাড়িতেই টাকা রাখার মত প্রথা বহির্ভূত উপায় টাকা সঞ্জয় করতে পছন্দ করেন।

এই প্রবণতা শহর এবং গ্রাম, দু’জায়গাতেই দেখা গিয়েছে। দেশ জুড়ে প্রায় ১০,০০০ নিম্ন আয়ের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এবং ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে করা এই PayNearby সমীক্ষা থেকে উত্তরদাতাদের সঞ্চয়ের অভ্যাসকে কোন কোন বিষয় প্রভাবিত করে তা নিয়ে অনেক নতুন কথা উঠে এসেছে। ৪৭% মানুষ বলেছেন মেয়াদ বাড়ানো কমানোর স্বাধীনতা এবং কত টাকা রাখতে হবে তার বাধ্যবাধকতা না থাকা কোনও সঞ্চয় প্রকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর।

সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর নমনীয় হওয়া যে কতটা জরুরী তা বোঝা যায় যখন ৬৫% উত্তরদাতা বলেন যে তাঁরা প্রচলিত সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর দিকে যাননি কারণ ক্যাশ টাকার জোগান অনিয়মিত। এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞেস করে জানা যায় যে মূলত আয়ের অনিশ্চয়তা এবং বড় পরিবার চালানোর খরচের কথা ভেবে অনেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখতেই হবে এমন সঞ্চয় প্রকল্পে যেতে চান না। ভবিষ্যতের তহবিল তৈরি করার চেয়ে বর্তমানে কাঁচা টাকা হাতে পাওয়াই এই সমস্ত মানুষদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা বলেন সঞ্চয়ের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল, নিজের এবং পরিবারের অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করা। আরও প্রশ্ন করা হলে ৬৫% উত্তরদাতা জানান, যে তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল আয় থেকে যা বেঁচে যায় তা জমিয়ে একটা মোটা টাকার ব্যবস্থা করা ৷ যা দিয়ে জীবনের স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যগুলো পূরণ করা যায়। লিঙ্গ এবং বয়স অনুযায়ী এই লক্ষ্যগুলো একেবারেই আলাদা রকমের। বাইক কেনা থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষার খরচ জোগানো --- সবই এর মধ্যে পড়ে। গয়না কেনা বা জমি কেনা, বাড়ি বানানোও লক্ষ্য হিসাবে উঠে এসেছে।

৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সেফটি নেট বানানোর কথাও বলেছেন। চলতি অতিমারির কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিপদে পড়েছেন ৷ ক্রমশ বেড়ে চলা বেকারত্বের হার এবং নিয়মিত মাইনে পাওয়ার অনিশ্চয়তায় তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত। সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ এর মত সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে সঞ্চয় করে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে নাগরিকরা আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন।

সমীক্ষায় আরও দেখা যাচ্ছে যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে কোন প্রকল্পে সঞ্চয় করে শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাওয়া যাবে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিরাপত্তা, বিশ্বাস আর লেনদেনের সুবিধা। চল্লিশ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন কাগজপত্র জমা দেওয়ার জটিলতা কোনও প্রচলিত সঞ্চয় প্রকল্প পছন্দ না করার প্রাথমিক কারণ। প্রচলিত সেট আপে অস্বস্তি, কাগজপত্র জমা দেওয়ার দৌড়াদৌড়ি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সময় এবং দীর্ঘ অপেক্ষা করা অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে পড়ে।

৪৩ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছেন লেনদেনের সহজ পদ্ধতি একটা জরুরি ফ্যাক্টর ৷ যা ঠিক করে কতটা কম সময়ের ব্যবধানে সঞ্চয় প্রকল্পে তাঁরা টাকা রাখবেন। যাতায়াতের সময় ব্যয় এবং অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করা তাঁদের পক্ষে অসুবিধাজনক। এসব করতে গিয়ে দিনমজুরির টাকা না পাওয়াও তাঁদের প্রচলিত  সঞ্চয় প্রকল্প এড়িয়ে চলার কারণ।

এই সমীক্ষা সম্পর্কে PayNearby MD & CEO শ্রী আনন্দ কুমার বাজাজ বলেন “অতিমারি থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল আমাদের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ করা উচিৎ ৷ যাতে আমরা এরকম পরিস্থিতির জন্য আরও ভাল করে তৈরি থাকতে পারি। সরকার এবং সিভিক ও রেগুলেটরি সংস্থাগুলোর উপর ভরসা রাখলেও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ আমাদের চারপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটা হল জনতার মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা। আমরা জানি যে ভারতের একটা বড় অংশ আজ জীবনধারণ করতে হিমসিম খাচ্ছে ৷ আর আমাদের ওপেন ব্যাঙ্কিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে DBT funds যার প্রাপ্য তার কাছেই পৌঁছানো আমরা নিশ্চিত করতে চাই। ১৭ হাজার পিন কোডে ছড়িয়ে থাকা আমাদের ডিজিটাল প্রধানরা গত দু’মাসে ৬,০০০ কোটি টাকার বেশি DBT fund পেতে মানুষকে সাহায্য করেছে। এ কাজ সম্ভব হয়েছে NPCI এর সমর্থন, RBI এর নির্দেশ, অর্থমন্ত্রক ও DFS থেকে নীতিগত নির্দেশ এবং সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাঙ্কগুলোর সহায়তায়। ’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের টিম নাগরিকদের মধ্যে স্বল্প সঞ্চয় সম্পর্কে সচেতনতা এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। এর ফলে আমাদের সমাজ যে কোন পরিস্থিতির জন্য আরো ভাল করে তৈরি থাকতে পারবে। আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে খুব তাড়াতাড়ি আমরা ভারতের প্রথম সারির ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের নিও-ব্যাঙ্কিং উদ্যোগ, BankNearby লঞ্চ করতে চলেছি। তার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা মাল্টিপল ব্যাঙ্কিং প্রডাক্ট আনব এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজ উপায় উচ্চমানের প্রযুক্তির ব্যবস্থা করব।“

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: July 3, 2020, 4:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर