করোনার টিকা নিতেই সংজ্ঞাহীন, হাসপাতালের চিকিৎসাধীন দুর্গাপুরের ৩ স্বাস্থ্যকর্মী, আতঙ্কে বন্ধ টিকাকরণ কর্মসূচি

করোনার টিকা নিতেই সংজ্ঞাহীন, হাসপাতালের চিকিৎসাধীন দুর্গাপুরের ৩ স্বাস্থ্যকর্মী, আতঙ্কে বন্ধ টিকাকরণ কর্মসূচি

প্রতীকী ছবি

এ দিন দুর্গাপুর নগর নিগম এলাকায় সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে চলছিল টিকাকরণ। ১৬ জানুয়ারি শুরু হয় কর্মসূচি। দুপুরে টিকা নেওয়ার পরপরই দুই স্বাস্থ্যকর্মী দীপা গড়াই ও পূর্ণিমা হাজরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

  • Share this:

    #দুর্গাপুর: করোনা টিকা নেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়লেন দুর্গাপুরের তিন  স্বাস্থ্যকর্মী। বৃহস্পতিবার ৩১ জন টিকা নেন। তালিকার বেশ শেষের দিকেই ছিল এই তিন স্বাস্থ্যকর্মীর নাম। টিকা নিতেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনজন। বর্তমানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।

    এ দিন দুর্গাপুর নগর নিগম এলাকায় সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে চলছিল টিকাকরণ। ১৬ জানুয়ারি শুরু হয় কর্মসূচি। দুপুরে টিকা নেওয়ার পরপরই দুই স্বাস্থ্যকর্মী দীপা গড়াই ও পূর্ণিমা হাজরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। টিকা নেওয়ার কিছুক্ষণ পর বুক ধড়ফড় শুরু হয় বিধানপল্লি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী মল্লিকা দাসের। মাথা ঘুরতে শুরু করেতাঁর। কিছুক্ষণের জন্য সংজ্ঞা হারান। এরপরেই তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয় টিকাকরণ কর্মসূচি। সৃজনী প্রেক্ষাগৃহের শিবিরে থাকা চিকিৎসকেরা তাকেও মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তাকেও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে ভর্তি করা হয় আইসিইউতে।

    উল্লেখ্য, দীপা গড়াই দুর্গাপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরুরিয়াডাঙা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী। অন্যদিকে,  পূর্ণিমা হাজরা দুর্গাপুরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের উইলিয়াম কেরি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী। টিকা নেওয়ার পর থেকে তাঁরও মাথা ঘুরতে থাকে। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয় তাঁকে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লিকা দাসের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। পূর্ণিমা হাজরাও উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং দীপা গড়াইয়ের হাই ব্লাডসুগার। তিনি নিয়মিত ইনসুলিন নেন। এ দিকে, তিন স্বাস্থ্যকর্মী অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে টিকা শিবিরে হাজির হন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক এবং দুর্গাপুর নগর নিগমের আধিকারিকেরা। জেলা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক কেকা মুখোপাধ্যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানান, "প্যানিক অ্যাটাকের জেরেই তিন জন অসুস্থ হয়েছেন।" যদিও একদিনে তিন জন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর দুপুর দুটোর পর আতঙ্কে আর কেউ আসেননি ভ্যাকসিন নিতে। তবে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে যানা গিয়েছে, তিনজনের অবস্থাই স্থিতিশীল।

    প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগে ১০ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাতজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

    তথ্য: অর্পণ চক্রবর্তী।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: