ঝড়ের গতিতে আসবে টাকা, আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ কেন লাভজনক জেনে নিন!

ঝড়ের গতিতে আসবে টাকা, আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ কেন লাভজনক জেনে নিন!

আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের দিকে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন এই দেশে। কেন এই পরিস্থিতি, আর তাতে কী লাভ, বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা?

আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের দিকে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন এই দেশে। কেন এই পরিস্থিতি, আর তাতে কী লাভ, বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা?

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: এখনও হয় তো অনেকেই যথেষ্ট আগ্রহ বোধ করেননি! কিন্তু আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে পরিমাণ যে এই দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে, পরিসংখ্যান তা প্রমাণ করে দেয়। ২০২০ সালের এপ্রিলেও এই সংখ্যাটা ছিল ২,০০,০০০। আর ২০২১ সালের মার্চ মাসে তা এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে ২৫০ গুণ, আপাতত এসে ঠেকেছে ৭,০০,০০০-তে! সেই সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লগ্নিরও পরিমাণ। ২০২০ সালে অঙ্কটা ছিল ৩,২৮২ কোটি টাকা। তা বেড়ে গিয়েছে ২৭৮ গুণ, এখন তার পরিমাণ ১২,৪০৮ কোটি টাকা!

    এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের দিকে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন এই দেশে। কেন এই পরিস্থিতি, আর তাতে কী লাভ, বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ১. দেশের অর্থনৈতিক মন্দা

    করোনা হু-হু করে বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে দেশব্যাপী লকডাউনের আতঙ্ক। সব মিলিয়ে শেয়ার বাজারে একটা ধস নেমেছে। BSE Sensex আর Nifty ৩.৫ শতাংশ করে নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যত্র নেই। সেখানে শেয়ার মার্কেট ভালোই ব্যবসা করছে। তাই দেশের এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের মোট ইক্যুইটির ১০-২০ শতাংশ আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন হর্ষদ চেতনওয়ালা, MyWealth-Growth-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ অল্প বলে যেমন ঝুঁকির সম্ভাবনা কম, তেমনই বিনিয়োগের পরিমণ্ডলেও মিলছে একটা ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, জানাচ্ছেন রুংটা সিকিউরিটিজের কর্ণধার হর্ষবর্ধন রুংটা।

    ২. বিদেশের বাজারের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সম্পর্ক

    মিরা অ্যাসেট মিউচুয়াল ফান্ড এক্ষেত্রে স্পষ্ট হিসেব পেশ করেছে। জানিয়েছে যে বিদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের সম্পর্ক খুবই কম। মানে, এই দেশের অর্থনৈতিক মন্দা অন্য দেশকে প্রভাবিত করে না। এই দিক থেকে ইউনাইটেড স্টেটসের সঙ্গে এই লোয়ার কো-রিলেশনের অনুপাত ০.১৬ শতাংশ, ইয়োরোপের সঙ্গে ০.৩২ শতাংশ এবং চিনের সঙ্গে ০.৩৮ শতাংশ। সংস্থার মতামত- এই সব দেশে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকির সম্ভাবনা সব সময়েই কম থাকবে।

    ৩. বিনিয়োগ বাজারের বৈচিত্র্য

    আন্তর্জাতিক বাজার বিনিয়োগকারীদের নিউ-এজ বাজারের নানা ক্ষেত্র, যেমন, ই-কমার্স সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেকট্রিক ভেহিকেল, সাইবার সিকিউরিটির মতো নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। সেই দিক থেকে বিনিয়োগের পথ খোলা রয়েছে Amazon, Netflix, Facebook, Twitter, Louis Vuitton, Walmart এবং Tesla-র মতো সংস্থায়, বিগত কয়েক বছরে এদের বাণিজ্যিক উন্নতি অকল্পনীয়! কাজেই এই সব সংস্থায় বিনিয়োগ করলে যে ঠকতে হবে না সে কথা জানাচ্ছেন এমকে ওয়েল্থ ম্যানেজমেন্টের সিইও ভবেশ সাংভি।

    তবে এই প্রসঙ্গে ক্রেডো ক্যাপিটালের কর্ণধার এস শঙ্কর একটি মূল্যবান পরামর্শ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীদের। তিনি জানিয়েছেন যে বিনিয়োগ সব সময়েই ঝুঁকির ব্যাপার। তাই আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুবিধার পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিবেচনা করা উচিত। সেই লক্ষ্যে খুব বেশি পরিমাণ অঙ্ক কখনই বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published: