Home /News /business /
Mutual Funds: মিউচুয়াল ফান্ডে কেন নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন মেলে না?

Mutual Funds: মিউচুয়াল ফান্ডে কেন নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন মেলে না?

Mutual Funds: বিভিন্ন রকমের মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। তার রিটার্নও বিভিন্ন রকমের হয়।

  • Share this:

    #কলকাতা: একটা সময় ছিল, যখন মানুষ বিনিয়োগ বলতে পোস্ট অফিস অথবা ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট (Savings Account) অথবা এফডি (FD) বুঝতেন। ধীরে ধীরে সময় বদলেছে। বাজারে এসেছে বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund)। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করেন, মিউচুয়াল ফান্ডে কেন সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এফডি-র মতো নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন পাওয়া যায় না? আসুন, এক-এক করে দেখে নেওয়া যাক এর কারণগুলি।

    আরও পড়ুন: ফের আকাশছোঁয়া অশোধিত তেলের দাম , দেখে নিন কত টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম....

    এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে, একটা চার চাকার গাড়ি কত স্পিডে চলে? এর কোনও নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, বিভিন্ন গাড়ির স্পিড বিভিন্ন রকমের হয়। আবার শহরের রাস্তায় চালানোর জন্য তৈরি করা গাড়ি এক রকমের স্পিড দেবে। কিন্তু রেসিংয়ের জন্য প্রস্তুত গাড়ি পাঁচ-সাত গুণ কিংবা তারও বেশি স্পিড দেবে। তেমনই মিউচুয়াল ফান্ডও ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এফডি-র মতো নির্দিষ্ট পণ্য নয়। বিভিন্ন রকমের মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। তার রিটার্নও বিভিন্ন রকমের হয়। এ ছাড়াও কিছু ফান্ড আছে, যাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার পরিমাণ অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিক ভাবে রিটার্নেও হেরফের হয়।

    আবার ধরা যাক, একটি মিউচুয়াল ফান্ডকে এমন একটি বাজারে বিনিয়োগ করা হল, যার ওঠা-পড়া অনেক বেশি। তখন ফান্ডের নেট অ্যাসেট ভ্যালুতেও ওঠা-নামা ধরা পড়বে। এ ক্ষেত্রে ইক্যুইটি মার্কেটে বিনিয়োগ করা গ্রোথ ফান্ডের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আবার ধরা যাক, মিউচুয়াল ফান্ড এমন একটি মার্কেটে বিনিয়োগ করা হল, সেখানে বাজারের ওঠানামা কম। তখন ফান্ডের নেট অ্যাসেট ভ্যালুও স্থিতিশীল থাকবে। এ ক্ষেত্রে মানি মার্কেটে বিনিয়োগ করা লিক্যুইড ফান্ডের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ যে বাজারে বিনিয়োগ করা হবে, রিটার্নের রিস্কও সেই অনুপাতেই হবে।

    আরও পড়ুন: সর্ষের তেলের দামে ফের বাম্পার পতন! দেরি না করে আজই কিনুন জলের দরে, জেনে নিন Rate

    বিনিয়োগ মূল্যের অ্যাপ্রিসিয়েশনের সঙ্গে প্রাথমিক বিনিয়োগের তুলনা করে সেই মিউচুয়াল ফান্ডে রিটার্ন কত হবে, তা ঠিক করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ডের নেট অ্যাসেট ভ্যালু এর মূল্য ঠিক করে এবং এটা বিনিয়োগকারীর মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত রিটার্ন গণনা করার জন্যই ব্যবহৃত হয়। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্যাপিটাল অ্যাপ্রিসিয়েশন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এনএভি-র বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়। এর কারণ হল, একটা ফান্ডের এনএভি পাওয়া যায়, কোম্পানিগুলির স্টক মূল্য থেকে। যা ফান্ডের পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এই মূল্য প্রতিদিন ওঠা-নামা করে। কত বছরের জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেই সময়কালের মধ্যে ফান্ডের দ্বারা যে কোনও নেট ডিভিডেন্ট বা অন্যান্য আয়গুলিও মোট রিটার্ন গণনার সময় ক্যাপিটাল অ্যাপ্রিসিয়েশন হিসেবে যুক্ত হয়। ফান্ড কর্তৃপক্ষের দেওয়া অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টে চোখ বোলালেই দেখা যাবে, ওই ফান্ডের রিটার্ন পারফরম্যান্স কেমন। ওই স্টেটমেন্টেই বিনিয়োগকারীর লেনদেন এবং বিনিয়োগের রিটার্ন-- উভয়ের চিত্রই ধরা থাকে।

    এ বার যদি এফডি-র সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা হলে দেখা যাবে যে, মিউচুয়াল ফান্ড অনেক এগিয়ে থাকে। কী ভাবে? 

    প্রথমত, ফিক্সড ডিপোজিট-এর রিটার্নগুলি পূর্বনির্ধারিত এবং এর পুরো মেয়াদের কোনও পরিবর্তন হয় না। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ডগুলি আর্থিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো রিটার্ন দেয়। 

    দ্বিতীয়ত, এফডি-তে সুদের হার এফডি-র ধরন বা সময়সীমার উপর নির্ভর করে। তাই ফিক্সড ডিপোজিটগুলিতে উচ্চতর সুদের হার আশা করা যায় না। অন্য দিকে, বিভিন্ন ধরনের তহবিলের রিটার্নের তারতম্যের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্নগুলি পরিবর্তিত হয়। বাজার উঁচুতে গেলে রিটার্ন বেশি, নামলে কম। তাই রিটার্নের হার এক থাকে না। 

    তৃতীয়ত, এফডি-র ক্ষেত্রে কোনও মূলধন লাভ সম্ভব নয়। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে মূলধন লাভ হোল্ডিং পিরিয়ডের উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড বিভিন্ন ধরনের মূলধন লাভ দেয়। 

    চতুর্থত, এফডি-র ক্ষেত্রে সুদের হার পূর্ব নির্ধারিত। তাই এর উপর মুদ্রাস্ফীতির কোনও প্রভাব পড়ে না। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে রিটার্ন মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যা ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

    আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, বিনিয়োগকারীদের সাহায্য পেলে ঘুরে দাঁড়াবে সেনসেক্স

    দেশের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সেভিংস অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ সুদ পাওয়া যাচ্ছে ৭.১৫ শতাংশ। তবে সব ব্যাঙ্ক এই হারে সুদ দিচ্ছে না। বেশির ভাগ নামীদামি ব্যাঙ্কেরই সুদের হার ঘোরাফেরা করে ৬.৭৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশের আশপাশে। আবার ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রিটার্নগুলি ফিক্সড থাকে। কত বছরের মধ্যে কত টাকা রিটার্ন হবে এটা ঠিক করে ব্যাঙ্কই, আমানতকারীর এখানে কোনও হাত নেই।

    ধরা যাক, কেউ ৬ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে চাইছেন, অথচ ডিপোজিট উপলব্ধ ৫ বছরের জন্য। এ ক্ষেত্রে কিন্তু সেখান থেকে রিটার্নের সুবিধা বিনিয়োগকারী প্রথম ৫ বছরের জন্যই পাবেন, সম্পূর্ণ ৬ বছর সময়কালের জন্য নয়। অর্থাৎ বিনিয়োগের রিটার্ন শুধুমাত্র গ্যারান্টিযুক্ত রিটার্ন পণ্যগুলির ক্ষেত্রেই মেলে, যেখানে পণ্যের মেয়াদপূর্তি এবং বিনিয়োগকারীদের সময়সীমা পুরোপুরি মিলে যায়। বাকি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের রিটার্ন কী হবে, তা অজানাই থাকে। ফলে সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এফডি-র মতো নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন মিউচুয়াল ফান্ডে পাওয়া যায় না।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published:

    Tags: Investment and Returns, Mutual Fund

    পরবর্তী খবর