লাভের মুখ দেখতে নতুন বছরে কোথায় বিনিয়োগ করবেন? দেখে নিন ঝটপট

নতুন বছরে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা যেতে পারে? দেখে নিন এক নজরে

নতুন বছরে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা যেতে পারে? দেখে নিন এক নজরে

  • Share this:

#কলকাতা: ২০২০ জুড়ে করোনার উৎপাত। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে সুদের হার কমেছে। নতুন বছরে এসেও সেই ঘা শুকোয়নি। অনেকে পার্সোনাল ফিনান্সের কথা ভাবলেও পিছিয়ে আসছেন। একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে মিউচুয়াল ফান্ড ইনভেস্টমেন্ট (Mutual Fund) বা ফিক্সড ডিপোজিট (Fixed Deposits)। নতুন বছরে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা যেতে পারে?

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ইক্যুইটি। ডিসেম্বরে ৪৬,০০০ পয়েন্ট পেরিয়ে গিয়েছিল BSE সেনসেক্স। এবং এর পরও রেকর্ড হারে বাড়তে থাকে। নিফটিতেও একই বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই সব কিছুর সঙ্গে রয়েছে করোনার উপদ্রব। তাই যদি কেউ মিউচুয়াল ফান্ডের কথা ভাবেন, তা হলে ইক্যুইটির বিষয়টি মাথায় রেখে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে।

ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট (Overseas Investment)

দেশের মধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা এই পরিষেবা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মিউচুয়াল ফান্ডগুলির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সমস্ত আন্তর্জাতিক ইক্যুইটি ফান্ড কিন্তু এক নয়। এ ক্ষেত্রে ভালো করে রিসার্চ করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজনের সমস্ত অ্যাসেটের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ করা যেতে পারে গ্লোবাল ফান্ডে।

বিভিন্ন বন্ড (Bonds)

বেশ কয়েকটি ডেবিট ফান্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্পোরেট বন্ড ফান্ডে (Corporate Bond Funds) ৯.৬৬ শতাংশ পর্যন্ত, ব্যাঙ্কিং ও PSU বন্ড ফান্ডগুলিতে (PSU Bond Funds) ৯.৫৯ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ২০২০ সালের তুলনায় নতুন বছরে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে তেমন কোনও পরিবর্তন দেখা না গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে বন্ড ফান্ডগুলিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাই বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকলে বন্ড ফান্ডে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। সুদের হার কম হলেও খুব একটা অসুবিধা হবে না। ২-৩ বছরের জন্য শর্ট টার্ম বন্ড ফান্ড বা এক বছরের কম সময়ের মধ্যেও আল্ট্রা শর্ট টার্ম বন্ড ফান্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে আয়কর, ট্যাক্স রিটার্নের বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।

সোনা: ভেবে-চিন্তে পা বাড়াতে হবে

২০২০ সালে ২৬.৭৩ শতাংশ বেড়েছে সোনার দাম। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সোনা ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওর অংশ হতে পারে। তবে ভেবে-চিন্তে পা বাড়াতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির হাল বদলাতে আরও সময় লাগবে। সুদের হারও আপাতত কম থাকবে। তাই বড়সড় রিটার্নের আশা করে লাভ নেই। এ ক্ষেত্রে একজনের ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওর ১০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ করা যেতে পারে কোনও গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেড ফান্ড, গোল্ড সেভিং ফান্ড (Gold Saving Funds) বা সভরেইন গোল্ড বন্ডে ( Sovereign Gold Bonds)।

ভারসাম্য বজায় রেখেই বিনিয়োগ

নিজের ক্ষমতা বুঝেই বিনিয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২০-এর অস্থির পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যে কোনও বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার আগে বয়স, মাসিক ও বার্ষিক আয়ের দিকে দেখতে হবে। চাকরি, অবসর সমস্ত বিষয়কে বিবেচনা করতে হবে। তবে কোনও একটি ক্ষেত্রে সমস্ত কিছু বা খুব বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ করা বোকামি হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদের একাধিক ইনভেস্টমেন্ট স্কিমে বিনিয়োগ করতে হবে। সমসাময়িক বাজার বুঝে চলতে হবে।

Published by:Rukmini Mazumder
First published: