বাজেট ২০২১: ভোজ্য তেল আমদানি কমাতে পারে সরকার, বদলে দেশেই তৈলবীজ উৎপাদনে জোর দেওয়া হতে পারে

বাজেট ২০২১: ভোজ্য তেল আমদানি কমাতে পারে সরকার, বদলে দেশেই তৈলবীজ উৎপাদনে জোর দেওয়া হতে পারে
টাকা সঞ্চয় করতে এবার দেশীয় ভোজ্য তেল উৎপাদনের উপরে জোর দিতে চলেছে সরকার।

টাকা সঞ্চয় করতে এবার দেশীয় ভোজ্য তেল উৎপাদনের উপরে জোর দিতে চলেছে সরকার।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভোজ্যতেলের আমদানিতে কাটছাঁট করতে পারে সরকার। বদলে দেশেই ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হতে পারে। এবং আসন্ন বাজেটে এই নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করতে পারেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন(Nirmala Sitharaman)। এমনই জানালেন তিন জন সরকারি আধিকারিক।

দেশে যে পরিমাণ ভোজ্য তেল উৎপাদন হয়, তা দিয়ে দেশের এত জনসংখ্যার মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হয়। যাতে মোটামুটি প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলার খরচা হয়। এই টাকা সঞ্চয় করতেই এবার দেশীয় ভোজ্য তেল উৎপাদনের উপরে জোর দিতে চলেছে সরকার। এবং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি এবং ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে সানফ্লাওয়ার অয়েল আমদানি কমাতে চলেছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, হঠাৎই ইমপোর্ট বিল কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, ভোজ্য তেলে যে পরিমাণ দেশে উৎপাদন হয় তাতে চাহিদা একেবারেই পূরণ করা যায় না। তাই বিরাট পরিমাণের ভোজ্য তেল বাইরে থেকে আনাতে হয়। কিন্তু সেই আমদানির পরিমাণই কমতে চলেছে। হয় তো বাজেটের দিনই শোনা যাবে যে সরকার দেশীয় তেলের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। বিশেষ করে তৈলবীজের উৎপাদন বাড়াতে বলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই এই নিয়ে পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা করে ফেলেছে। তারা অনুমান করছেন বর্তমানে যে ৩০ মিলিয়ন টন তৈলবীজ উৎপাদন হয়, তা বাড়িয়ে মোটামুটি ৪৭ বিলিয়ন টনে নিয়ে যেতে হবে। তাই এই খাতে বাজেটের দিন ১৮০ বিলিয়ন থেকে ২০০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হতে পারে।

সাবসিডিতে কাটছাঁট হতে পারে-

তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে পা বাড়ালে ধান ও গম চাষের পরিমাণ কমে পারে। এর থেকে কৃষকদের সাবসিডি দেওয়ার পরিমাণও কমতে পারে।

কয়েক বছর আগেই ভোজ্য তেল আমদানির পরিমাণ ৫ মিলিয়ন থেকে ১৫ মিলিয়নে পৌঁছায়। আবার সেই পরিমাণ কমিয়ে আনায় অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩০-এর মধ্যে আবার ভোজ্য তেল আমদানি না কি ৩০ মিলিয়নে পৌঁছাবে। কারণ মানুষের ভাজাভুজি খাওয়া বেড়ে গিয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এটাও জানাচ্ছেন, তৈলবীজ উৎপাদনের পরিমাণ যদি দেশে বাড়ানো হয়, তা হলে কিন্তু পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ-এর কৃষকদেরই এই চাষ করতে জোর করা হবে। সেক্ষেত্রে গম ও চালের উৎপাদন কমবে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর