বাজেট ২০২১: দেশে ওষুধ তৈরি, হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে পদক্ষেপ জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে কথা উঠেছে, বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর উল্লেখ করেছেন

২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে কথা উঠেছে, বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর উল্লেখ করেছেন

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ যে জরুরি, এই কথা অনেক বছর ধরেই বলে আসছে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। মূলে রয়েছে একটি প্রাথমিক কারণ- অর্থনীতি দেশের জনগণের জন্যই! তাঁদের স্বাস্থ্যের মতো প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে যদি উপেক্ষা করা হয়, তা হলে দেশ স্বাভাবিক ভাবেই দুর্বল হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে কোনও উন্নতির লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে পারবে না দেশ।

কিন্তু ২০২০ সাল আমাদের এমন এক অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, যার জন্য আমরা কেউই তৈরি ছিলাম না। করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আমাদের চিকিৎসাগত পরিকাঠামো যে যথেষ্ট পোক্ত নয়, সে কথা প্রমাণ হয়েছে বারে বারে। ফলে যখনই ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে কথা উঠেছে, বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ডেলয়েট ইন্ডিয়ার তরফে জয়শীল শাহ আরও কয়েকটি বিষয়ের উপরে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন। যা মূলত আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১. এই প্রসঙ্গে শাহ সবার আগে হাসপাতাল তৈরির উপরে জোর দিচ্ছেন। বলছেন, দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। যেগুলো অপেক্ষাকৃত ঠিকঠাক, সেগুলোতেও নানা অসুবিধা রয়েছে। তাই দেশের ৭৩৯টি জেলার প্রত্যেকটিতেই কেন্দ্রের অনুদান নির্ভর এবং কেন্দ্রদ্বারা পরিচালিত হাসপাতাল তৈরিতে জোর দিতে হবে। তাহলে আপসেই দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্র উন্নত হয়ে উঠবে।

২. আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের PLI স্কিম নিঃসন্দেহেই এক সদর্থক পদক্ষেপ। কিন্তু এই স্কিম এখনও পর্যন্ত পূর্ণ দক্ষতায় আরোপিত হয়নি। ফলে সেই দিকে নজর দিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমদানিগত নীতিরও পরিবর্তন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদি যে কোনও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা করতেই হয়, তা হলে চিকিৎসাগত ক্ষেত্রে দেশকে অন্য দেশের উপরে নির্ভরশীল হলে চলবে না।

৩. রিসার্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের দিক থেকেও দেশ এখনও দুর্বল স্তরে রয়েছে। যদি এই অবস্থার হাল ফেরাতে হয়, তাহলে গিফ্ট সিটির মতো প্রকল্পে অবিলম্বে জোর দিতে হবে। তা বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করবে বলে জানিয়েছেন শাহ।

৪. এর পাশাপাশিই উঠে আসে ওষুধ এবং নানা মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট উৎপাদনের বিষয়টি। এখনও পর্যন্ত নানা দরকারি ওষুধ আর চিকিৎসার সরঞ্জাম আমাদের বাইরে থেকে আনাতে হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসাশিল্পের পরিকাঠামোগত স্তরে বিনিয়োগ স্বনির্ভরতার সহায়ক হতে পারে।

৫. একই সঙ্গে ওষুধ এবং মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্টে GST-র পরিমাণও কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন শাহ। না হলে দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশের স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মতপোষণ করেছেন তিনি।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: