Union Budget 2021: কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি পর্যাপ্ত শস্যবিমা

কৃষিক্ষেত্রে সাধারণত যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তার ৯৪ শতাংশই মূলত কৃষি দফতর, কো-অপারেশেন অ্যান্ড ফার্মার্স ওয়েলফেয়ারের কাজে লাগে

কৃষিক্ষেত্রে সাধারণত যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তার ৯৪ শতাংশই মূলত কৃষি দফতর, কো-অপারেশেন অ্যান্ড ফার্মার্স ওয়েলফেয়ারের কাজে লাগে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনার জেরে গোটা একটা বছর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অর্থনীতিও ধুঁকছে। দেশের একাধিক সেক্টরে ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেটের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির বাজেট পেশ নিয়ে তাই আশাও অনেক। আর এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল দেশের কৃষিক্ষেত্র। সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বাজেটের অল্প পরিমাণ জায়গা জুড়ে থাকে কৃষিক্ষেত্র। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে বিশেষ করে গত অর্থবর্ষের বাজেটে কৃষিক্ষেত্রকে বেশি করে গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল কিষান সম্মান নিধি যোজনা (Kisan Samman Nidhi)। এই বাজেটেও চাষিদের আশা অনেক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালে কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি পর্যাপ্ত শস্যবিমা। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে।

কৃষিক্ষেত্রে সাধারণত যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তার ৯৪ শতাংশই মূলত কৃষি দফতর, কো-অপারেশেন অ্যান্ড ফার্মার্স ওয়েলফেয়ারের কাজে লাগে। আর বাকি অর্থটুকু কৃষি সম্পর্কিত শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ হয়। আসলে বেশিরভাগ টাকাই বেতন,পেনশন ও প্রশাসনিক নানা খরচের খাতে চলে যায়। কৃষির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম। এর জেরে সামগ্রিক উৎপাদনেও কোথাও না কোথাও একটা বড় প্রভাব পড়ে। আর এর পাশাপাশি কৃষি সংক্রান্ত নানা স্কিম, বিনিয়োগ, বিমার ক্ষেত্রেও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আর ঠিক এখানেই ভূমিকা নিতে পারে এই বছরের বাজেট।

এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর বিবেচনা করতে পারে সরকার-

সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়াতে ইন্টারেস্ট সাবসিডি বা লং টার্ম লোন অর্থাৎ কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। লক্ষ্য হবে দীর্ঘ মেয়াদে কৃষকদের সাহায্য করা। শস্য ঘরে তোলা, সরবরাহ, কৃষির পরিবহনের আগে উৎপাদন বাড়াতে যথাযথ সরঞ্জাম, সেচ, কৃষির পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয়গুলিতে বিনিয়োগের দিকে নজর দিতে হবে।

কৃষকদের সাহায্যার্থে শস্য বিমা চালু করতে হবে। ঘন ঘন আবহাওয়া-জলবায়ুর পরিবর্তন, আচমকা কোনও বন্যা বা খরার ফলে চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। যদি চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত না হয়, তাহলে এই পেশার প্রতি আকর্ষণ হারাবে। এক্ষেত্রে শস্য বিমা কাঙ্ক্ষিত সমাধান দেবে। পর্যাপ্ত বিমা ও কভারেজ কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে নতুন দিশা দেখাবে।

সেচসংক্রান্ত বিষয়গুলিকেও গভীরে পর্যবেক্ষণণ করতে হবে। জলসেচের সমস্যা দূর করতে হবে। পর্যাপ্ত জলের ভাণ্ডার সুনিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সেচের খাতে অর্থ বরাদ্দ খুব জরুরি।

চাষের জন্য ঋণে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক বিনিয়োগ ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করতে হবে।

কৃষিজমি মজবুত করার লক্ষ্যে একাধিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে মোবাইল সোয়েল টেস্টিং ল্যাব-সহ নানা কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ। প্রায়শই নানা অত্যাধুনিক সরঞ্জামের জন্য আমদানির উপরে নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে দেশে সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমতে শুরু করে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যদি আমদানি কমতে শুরু করে, দেশের বাজারেই আমদানি করা সরঞ্জামগুলি তৈরি করা যায়, তাহলে কৃষিক্ষেত্র কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: