এপ্রিলে কমতে চলেছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম!

এপ্রিলে কমতে চলেছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম!

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান একাধিকবার জানিয়েছেন যে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির স্বেচ্ছাচারিতার জেরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে ৷

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান একাধিকবার জানিয়েছেন যে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির স্বেচ্ছাচারিতার জেরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে ৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: সম্প্রতি দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে ৷ একাধিক শহরে পেট্রোল প্রায় ১০০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছে ৷ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম তিনটি কারণে বাড়ছে ৷ প্রথম, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগাতার বেড়েই চলেছে ৷ দ্বিতীয়, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দামের উপর বিপুল ট্যাক্স নিয়ে থাকে ৷ তৃতীয়, গোটা বিশ্বে আর্থিক গতিবিধি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ৷ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলার প্রতি ব্যারেল হয়ে গিয়েছে ৷ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান একাধিকবার জানিয়েছেন যে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির স্বেচ্ছাচারিতার জেরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে ৷

    দেশের প্রয়োজনের প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে ভারত ৷ তেল আমদানির হিসেবে আমেরিকা ও চিনের পর ভারত তৃতীয় সবচেয়ে বড় দেশ ৷ এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কেবল আরব দেশ থেকে আমদানি করা হয় ৷ উৎপাদকারী দেশগুলি অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ভারতের আর্থিক পরিস্থিতির উপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ৷

    কেন্দ্র সরকার দেশের তেল শোধনাগার বা অয়েল রিফাইনারী সংস্থাগুলিকে জানিয়েছে অপরিশোধিতে তেলের আমদানির ডাইভার্সিফিকেশনের উপর পর্যালোচনা করছে ৷ সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকারের উদ্দেশ্য হল মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির স্বেচ্ছাচারী মনোভাবকে বরখাস্ত করা। অপরিশোধিতের তেলের জন্য গুয়েনা ও মেক্সিকোর সঙ্গে শর্ট টার্ম কনট্র্যাক্টের বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করেছে ভারত ৷ মেক্সিকো থেকে ভারত ৬০ লক্ষ টন ক্রুড আমদানি করেছে ৷ আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ইরানের উপরে জারি নিষেধাজ্ঞার পর ভারত ইরান থেকে ক্রড অয়েল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ৷ বর্তমান আর্থিক বছরে ভারত ইরান থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি প্রায় শূন্য করে দিয়েছে ৷ এর জেরে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা মেটাতে আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ ২০১৬-১৭ সামে আমেরিকা থেকে ক্রুড অয়েলের আমদানি শূন্য ছিল যা বর্তমানে আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারিতে বেড়ে ১.০৮ কোটি টন হয়ে গিয়েছে ৷

    করোনাকালে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কোষাগারে টান পড়েছে৷ প্রশাসনিক খরচ চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাজ্যকে ৷ এর মধ্যে মার্চ-মে ২০২০ কেন্দ্র পেট্রোলের উপরে ১৩ ও ডিজেলের উপরে ১৬ টাকা এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ আপাতত, দিল্লিতে ৯১.১৭ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলে ৷ ৪০ শতাংশ এক্সাইজ ডিউটি নিয়ে থাকে কেন্দ্র সরকার ৷ অন্যদিকে, রাজ্য সরকারও পেট্রোল ও ডিজেলের উপরে ভ্যাট নিয়ে থাকে ৷ পেট্রোল ও ডিজেলের যে দাম নেওয়া হয় তার প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রায় ট্যাক্সে দিতে হয় ৷

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published:

    লেটেস্ট খবর