বাজেট ২০২১: নজর না দিলে বন্ধ হয়ে যাবে দেশের এক-চতুর্থাংশ হোটেল, প্রতিকারের আশায় হোটেল-মালিকরা!

বাজেট ২০২১: নজর না দিলে বন্ধ হয়ে যাবে দেশের এক-চতুর্থাংশ হোটেল, প্রতিকারের আশায় হোটেল-মালিকরা!
সম্প্রতি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন র‌্যাডিসন হোটেল গ্রুপের দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কে বি কচরু।

সম্প্রতি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন র‌্যাডিসন হোটেল গ্রুপের দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কে বি কচরু।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশের পর্যটন শিল্পকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সে কোনও নতুন কথা নয়। কিন্তু তার সঙ্গেই একটি আতঙ্কজনক তথ্য এবার উঠে এসেছে চলতি বছরের বাজেটের প্রাক্কালে। হোটেল-মালিকরা জানাচ্ছেন যে যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় অথবা সরকারের তরফে সরাসরি কোনও অনুদানের ব্যবস্থা করা না হয়, তা হলে দেশের এক-চতুর্থাংশ হোটেল ব্যবসায় তালা পড়ে যাবে!

সম্প্রতি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন র‌্যাডিসন হোটেল গ্রুপের দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কে বি কচরু। তিনি একটি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। কচরু বলছেন যে আপাতত দেশে হোটেল ব্যবসার পরিপ্রেক্ষিতে ঘর আছে সাকুল্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। করোনা এবং তার জেরে লকডাউনের পর থেকে এই বিশালসংখ্যক হোটেলের ঘরগুলোর অধিকাংশই খালি পড়ে আছে। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান মোতাবেকে, গড়ে ১০টির মধ্যে ৪টি ঘরই বন্ধ থাকছে। এরকম চলতে থাকলে লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে অনেক হোটেল-ই বরাবরের মতো ব্যবসা তুলে দিতে বাধ্য হবে!

এই প্রসঙ্গে লকডাউন পরবর্তী অবস্থার বিষয়টিও বিশ্লেষণ করতে ভোলেননি কচরু। তিনি জানিয়েছেন যে লকডাউনের পরে নিঃসন্দেহেই ভ্রমণশিল্পে সামান্য হলেও আশার আলো দেখা গিয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। কেন না, এক্ষেত্রে ডোমেস্টিক ট্র্যাভেল বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজনেস ট্র্যাভেলের অবস্থান এখনও আগের মতোই তিমিরে! উদাহরণ দিয়ে কচরুর দাবি- পুণে, বেঙ্গালুরুর মতো শহর, যেগুলোর হোটেল-ব্যবসা মূলত বিজনেস ট্র্যাভেলের দিক থেকে সমৃদ্ধ হত, এখন পড়েছে অথৈ জলে!


কচরু আরও বলেছেন যে প্রাক-কোভিড পর্বে দেশে ইন-বাউন্ড ট্যুরিজমের পরিসংখ্যান ছিল ১০ মিলিয়ন। অন্য দিকে, আউট-বাউন্ড ট্যুরিজমের পরিসংখ্যান ছিল ২৬ মিলিয়ন। যাঁরা দেশের বাইরে বেড়াতে যেতেন, তাঁরা আপাতত আটকে পড়েছেন। এঁদের হাতে খরচ করার মতো টাকাও বেশি। সুতরাং সরকারের এমন কিছু আকর্ষণীয় প্যাকেজ নিয়ে আসা উচিৎ, যা এই ক্ষেত্রের থেকে কর আদায়ে সমর্থ হবে।

তবে ফেডারেশন অফ অ্যাসোসিয়েশন ইন ইন্ডিয়ান ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি-র চেয়ারম্যান নকুল আনন্দ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে রাজ্য এবং কেন্দ্র মিলে যৌথ ভাবে পদক্ষেপ না করলে পর্যটনশিল্পের উন্নতির কোনও আশা নেই। তিনি এবং কচরু, দু'জনেই এই বিষয়ে সরাসরি সরকারি অনুদানের উপরে জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের আশা, বিধ্বস্ত এই শিল্পকে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে করছাড়ের বিষয়টিও সরকার ভেবে দেখবে!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: