বাজেট ২০২১: সোনায় আমদানি শুল্ক কমালে স্মাগলিং রোখা যাবে?

সম্প্রতি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ নাবাড়িয়া সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন।

সম্প্রতি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ নাবাড়িয়া সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেট ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের হিরে এবং সোনা ব্যবসায়ীদের তাঁর কাছে কেবল দুই আশা- ১. মূল্যবান রত্ন এবং ধাতুতে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হোক, ২. GST-এর যে বিপুল পরিমাণ অংশ এখনও মেটানো হয়নি, তার প্রতিকার করা!

এই প্রসঙ্গে সবার আগে GST-এর বিষয়টি নিয়ে কথা বলে নেওয়া যায়। কেন না, তা দেশের হিরে এবং সোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রীতিমতো বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ নাবাড়িয়া সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সরকারের সঙ্গে ১৫,০০০ কোটি টাকার GST সেটলমেন্ট এখনও বাকি পড়ে আছে। এই বিষয়ে তাঁরা বার বার সত্বর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। কিন্তু সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগই নজরে আসেনি। দীনেশের আশা- সরকার যদি GST ক্রেডিট এবং রিফান্ডের বিষয়টি তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ফেলে, তাহলে সেই টাকার অঙ্ক ভালো ভাবে কাজে লাগানো যায়। যা আখেরে দেশের অলঙ্কারশিল্পকে যেমন মজবুত করবে, তেমনই সেই ক্ষেত্র থেকে পাওয়া করেও সরকারের কোষ পূর্ণ হবে।

তবে এই করের প্রসঙ্গেই আবার সামান্য হলেও অভিযোগের সুর ধরা দিয়েছে তাঁর গলায়। তিনি জানিয়েছেন যে দেশে মূল্যবান রত্ন এবং ধাতু আমদানির উপরে যে শুল্ক দিতে হয়, সেটা পরিমাণে অনেকটাই। ফলে ইচ্ছা এবং দক্ষতা থাকলেও তাঁরা হিরে নিয়ে কাজ করতে পারেন না। তাই সরকারের কাছে তাঁর অনুরোধ- এই বিষয়টি যেন ভেবে দেখা হয়, যেন মূল্যবান রত্ন এবং ধাতুর উপরে আমদানি শুল্কের পরিমাণ হ্রাস করা হয়। তাঁর আবেদন, সেটা ১২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনলে ভালো হয়। সেক্ষেত্রে বাইরের দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা রেখে গয়না রপ্তানি সহজ হবে।

দীনেশের এই বক্তব্য অন্য এক দিক থেকে সমস্যার কথা মনে করিয়ে দেয়। সোনায় যদি আমদানি শুল্ক কমানো হয়, তা হলে কি স্মাগলিং রোখা যাবে? জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বক্তব্য- তা নিঃসন্দেহেই উপকারে আসবে। বর্তমান তথ্য বলছে যে এই দেশে বছরে ৮০০ টন সোনা আমদানি করা যায়। কিন্তু ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে আমদানি হয়েছে ১০০০ টন। অর্থাৎ বাকিটা আসছে চোরাপথে। রিপোর্ট বলছে যে প্রতি বছরেই দেশে অন্তত ১৫০-২০০ টন সোনা স্মাগল হয়ে আসে। দীনেশের দাবি- আমদানি শুল্ক কমে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরিই হবে না!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: