Home /News /business /
প্লাস্টিক বর্জ্যকে দিয়ে এ বার পরিবেশবান্ধব গাড়ি তৈরি করতে চলেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার

প্লাস্টিক বর্জ্যকে দিয়ে এ বার পরিবেশবান্ধব গাড়ি তৈরি করতে চলেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার

গ্রাহকদের সেই একই আরাম বা লাক্সারি ফিলিং দেওয়া হবে। তবে এ বার চেষ্টা করা হবে গাড়িটি যাতে পরিবেশ দূষণে যতটা সম্ভব কম ভূমিকা নেয়।

  • Share this:

#কলকাতা: এ কথা বললে খুব একটা ভুল বলা হয় না যে, বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক যেন অপরিহার্য। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হোক বা অন্য কিছু- সর্বত্রই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। গত শতাব্দী জুড়ে পলিমার তৈরিতেও নানা বৈচিত্র্য এসেছে। মানুষের কাছে নানা রূপে হাজির হয়েছে এই প্লাস্টিক।

আর এ নিয়েই চিন্তায় রয়েছেন পরিবেশবিদরা। কারণ এই প্লাস্টিক বর্জ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিবেশকে দূষিত করে চলেছে। যার জেরে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র। এই পরিস্থিতিতে এক পদক্ষেপ করছে ব্রিটিশ গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার। এই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যে গাড়িগুলি আসতে চলেছে, তাদের ইন্টিরিয়র সাজানো হবে টেঁকসই চামড়া দিয়ে। যা তৈরি করা হবে প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবহার করে।

জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতে, এই প্রচেষ্টা সফল হলে গাড়িগুলি পরিবেশ বান্ধব হয়ে উঠবে। পরিবেশ দূষণে কিছুটা হলেও কম ভূমিকা নেবে। সর্বোপরি প্লাস্টিক বর্জনের দিকে আরও এক ধাপ এগোনো যাবে। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার। ইকোনিল নাইলন নামে একটি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ শুরু করেছে তারা। এই সংস্থা মূলত ফেলে দেওয়া বর্জ্য, সামুদ্রিক নানা বর্জ্যকে রাসায়নিক উপায়ে অন্য পদার্থে পরিণত করে গাড়ির ভিতরের নানা সামগ্রী তৈরি করবে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা সিন্থেটিক ফাইবার ইন্ডাস্ট্রি হল অ্যাকুয়াফিল। এরই এক অংশ ইকোনিল। এই ইকোনিল শিল্পাঞ্চলের প্লাস্টিক বর্জ্য, কাপড় শিল্পের নানা বর্জ্য, সামুদ্রিক বর্জ্য (মূলত মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত জালের বর্জ্য) এগুলি থেকে নতুন পদার্থ উৎপাদন করার কাজ করে। এ ক্ষেত্রে এই বর্জ্যগুলি সংগ্রহ করার পর তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে কেমিক্যাল মিশিয়ে ও তাদের একদম কাঁচামালে পরিণত করে নতুন সামগ্রী উৎপাদন করা হয়। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের নতুন গাড়িগুলির ইন্টিরিয়র ডিজাইনে এ বার এই ধরনের জিনিসই ব্যবহার করা হবে।

তবে সমুদ্রে ব্যবহৃত এই জালে বা অনেক বর্জ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তা হলে সেগুলির কী হবে? জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার জানাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বর্জ্য থেকে নন-নাইলন যৌগ, নানা ধাতব পদার্থ, কপার সালফেট জাতীয় উপাদানগুলিকে নষ্ট করা হবে। এর পর সেই বর্জ্য পুনরুৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে।

সংস্থার তরফে বার্তা, গ্রাহকদের সেই একই আরাম বা লাক্সারি ফিলিং দেওয়া হবে। তবে এ বার চেষ্টা করা হবে গাড়িটি যাতে পরিবেশ দূষণে যতটা সম্ভব কম ভূমিকা নেয়। পরিবেশের উপর কোনও ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে। আর সেই লক্ষ্য সফল করতেই অ্যাকুয়াফিল ও ইকোনিলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার।

Published by:Simli Raha
First published:

Tags: Jaguar-Land Rover

পরবর্তী খবর